আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নিবীমাপত্রের বাতিল ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিবীমাপত্রের বাতিল

বীমাপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর অনুগ্রহের দিনসমূহের মধ্যেও যদি বীমাপত্র নবায়ন করে নেয়া না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বীমাপত্র বাতিল হয়ে যায় এটিই হলো সাধারণ নিয়ম। তবে, এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে বীমাপত্র বাতিল হতে পারে। যেমন :—কোন কোম্পানী বা বীমাকারী যদি ঠিক করে যে কোন বিশেষ বা কোন কোন বীমাপত্র নবায়নের সুযোগ দেয়া হবে না, তাহলে বীমাকারী ঐ সব বীমাগ্রহীতাদের সংশ্লিষ্ট বীমাপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্ততঃ ৭দিন আগে নবায়নের অপারগতা সমপর্কে বিজ্ঞপ্তি মারফৎ জানিয়ে দিবেন যাতে সংশ্লিষ্ট বীমাগ্রহীতা অন্যত্র বীমাপত্র গ্রহণ করতে পারেন এবং অনুগ্রহের দিনসমূহের সুযোগ গ্রহণ করতে না পারেন।
বৃটিশ আইন অনুযায়ী বীমাপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোন পক্ষই বীমাচুক্তি বা বীমাপত্রের বাতিল করণ দাবী করতে পারেন না; চুক্তির বিষয় বস্তুর হয়ত কিছু পরিবর্তন করতে পারেন। কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের এ উপমহাদেশে সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে বীমাকারী বা বীমাগ্রহীতা—যে কেউ মেয়াদের মধ্যেও বীমাপত্র বা বীমাচুক্তি বাতিল করতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট মেয়াদের সেলামীর অর্থ ফেরত প্রদান করা হয়।
তবে, ইংল্যাণ্ড বা আমাদের দেশে যেখানেই হোক নিম্নোক্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে বীমাপত্র বা অগ্নিবীমা চুক্তি বাতিল হতে পারে—
(১) বীমাগ্রহীতা যদি বীমাকারীর অনুমতি ছাড়াই বিষয় বস্তুর কোন ব্যাপক রদবদল বা পরিবর্তন সাধন করেন।
(২) যদি দেখা যায় যে বীমাগ্রহীতা কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেননি বা গোপন করেছেন।
(৩) বীমাপত্রে বর্ণিত কোন শর্ত ভঙ্গ করা হয়ে থাকলে এবং
(৪) বীমাগ্রহীতা যদি নতুন কোন ব্যবসা বা বিপদজনক পণ্য অন্তর্ভুক্ত করে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে তোলেন।

উপরোক্ত পরিস্থিতি ও ক্ষেত্রসমূহে বীমাকারী বীমাপত্র বাতিল করতে পারেন। বাতিল করার প্রেক্ষিতে বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে অবশিষ্ট সময়ের জন্যে বীমাসেলামীর আনুপাতিক অংশ ফেরত দিয়ে থাকেন-যদিও তা কোন বাধ্যবাধক বিষয় নয়।
