আজকের আলোচনার বিষয় “দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্নিবীমার ভূমিকা ও গুরুত্ব ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
Table of Contents
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্নিবীমার ভূমিকা ও গুরুত্ব

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্যান্য বীমার পাশাপাশি অগ্নিবীমাও বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সভ্যতার পথে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি। কিন্তু, আঙ্গ পর্যন্তও আমরা অগ্নিকে নিয়ন্ত্রণে আনাতে পারিনি। আমাদের সম্পদ-সম্পত্তি এখনও এবং ক্ষেত্রেপ্রায় সব আগুনের কাছে জিম্মি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সম্পদ রক্ষা এবং এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অগ্নিবীমা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত করার সাথে সাথে উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বয়ে আনছে সমৃদ্ধি ও সাফল্য। নীচে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্নিবীমার ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. সম্পদ সংগ্রহ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অবদান রাখেঃ
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি এবং কোম্পানী হতে অগ্নিবীমা প্রতিষ্ঠানগুলি প্রিমিয়াম হিসেবে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করে। এই সংগৃহীত অর্থ বিনিয়োগ করা হয় দেশের বিভিন্ন ব্যবসা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে। এতে মুনাফা অর্জনের সাথে সাথে দেশের অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। এভাবে অগ্নিবীমা সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে মূলধন গঠন ও তা বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
২. শিল্প ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেঃ
অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিতে অগ্নি এবং বিদ্যুতের ব্যবহারজনিত কারণে প্রতিনিয়তইও ঘটছে অনেক দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ধ্বংস হচ্ছে কত শিল্পকারখানা ও কারবার প্রতিষ্ঠান। আর্থিক ক্ষতির সাথে সাথে দেউলিয়া পর্যন্ত হচ্ছে এসব ব্যবসা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি। দেশের অর্থনীতির উপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। এ ক্ষেত্রে অগ্নিবীমা কোম্পানীগুলি এগিয়ে আসছে সাহয্যের হাত প্রসারিত করে। এরা ধু ক্ষতি বহনই করছে না, সাথে সাথে সৃষ্টি করছে বিভিন্ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার। বিপর্যয় হতে রক্ষা পাচ্ছে আমাদের শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি। এভাবে অগ্নিবীমা আমাদের শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত ও নিরাপদ করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তরান্বিত করছে।
৩. ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেঃ
ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যতীত কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অসম্ভব। কিন্তু, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি স্তরেই রয়েছে অগ্নি-ঝুঁকি। এই ঝুঁকির বিরুদ্ধে নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা না থাকলে ব্যবসা বাণিজ্য সাম্প্রসারিত হতো না। এই নিরাপত্তা বিধানে অগ্নিবীমা কোম্পানী এগিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ীদের করেছে দুশ্চিন্তামুক্ত। অগ্নিবীমা ব্যবসায়ে মূলধন রক্ষা করবার নিশ্চয়তা দেয়। এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ ভূমিকা রেখে অগ্নিবীমা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথকে সুগম করে।
৪. আর্থিক বুনিয়াদ মজবুত ও সংহত করেঃ
কারবারী ও অকারবারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভবনসমূহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা সমন্বয়ে আবয়বিক অবকাঠামো অর্থনৈতিক উন্নয়নেরই সাক্ষ্য বহন করে। অগ্নিবীমা অবকাঠামোগুলির অগ্নি-ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বা অগ্নি-ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দানকরে অগ্নিবীমা দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোগত ভিত্তি দৃঢ় করে।
৫. সামাজিক কল্যান সাধন করেঃ
অগ্নিবীমায় বীমাকারী ব্যক্তিক ও সমষ্টিগত বৃহত্তর ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকেন। পরবর্তীতে সে ক্ষতির বোঝা সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কারণ, সকলের মধ্যে ভাগ করে দেয়ার ফলে ঝুঁকির বোঝা হালকা হয়ে যায়। এভাবে অগ্নিবীমা কাউকে চরম সর্বনাশ হতে রক্ষা করে। সুতরাং অগ্নিবীমা প্রকারান্তরে সমাজেরই কল্যাণ সাধন করে। সামাজিক এই কল্যাণ উন্নয়নের উপর ধনাত্মক প্রভাব ফেলে।
৬. অন্যান্য বীমার পরিপূরক ভূমিকা পালন করেঃ
অগ্নিবীমা ব্যবস্থা অন্যান্য বীমার পরিপুরক হয়ে ব্যক্তি, সমাজ তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে আরো ত্বরান্বিত করে। কেননা, কোনবীমা ব্যবস্থাই এককভাবে সার্বিক ভূমিকা রাখতে পারেনা।

উপসংহারে বলা যায়, অগ্নিবীমা দেশের সম্পদ সংরক্ষণ করে মূলধন সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের চালিকাশক্তি হয়ে সার্বিক কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
