থাইল্যান্ডে AI ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ

ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের পর এবার বীমা শিল্পেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহারের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করল থাইল্যান্ড। দেশটির বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিস অব দ্য ইন্স্যুরেন্স কমিশন (OIC) সম্প্রতি “AI Governance Guidelines 2025” শীর্ষক একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যা বীমা খাতে AI প্রযুক্তির দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও নৈতিক ব্যবহারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্ধারণ করে।

এই নির্দেশিকার মূল উদ্দেশ্য হলো উদ্ভাবনের গতি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করা। OIC স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, AI প্রযুক্তি বীমা খাতে দক্ষতা, খরচ নিয়ন্ত্রণ ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা অবশ্যই স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

নির্দেশিকাটি ‘ঝুঁকি-ভিত্তিক আনুপাতিকতা’ (risk-based proportionality) নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অর্থাৎ, বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবহৃত AI সিস্টেমের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন করবে এবং সেই ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও মানবিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে উদ্ভাবন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।

OIC-এর নির্দেশিকায় চারটি মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বীমা কোম্পানিগুলোকে AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুসরণ করতে হবে।

AI Governance Guidelines 2025: চারটি মূল নীতি

নীতিবিস্তারিত ব্যাখ্যা
ব্যবস্থাপনা ও তদারকির কাঠামোAI ব্যবস্থাপনায় বোর্ড, ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের ভূমিকা ও দায়িত্ব স্পষ্ট করা; AI নৈতিকতা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স বিষয়ে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি
স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাসিস্টেম ত্রুটি, সাইবার আক্রমণ ও অপারেশনাল ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ ডিজাইন, ইভেন্ট লগিং, ডেটা ব্যাকআপ ও পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
স্বচ্ছতাAI-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, যুক্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা, বিশেষত যেখানে গ্রাহকের অধিকার বা সুবিধা প্রভাবিত হয়
ভোক্তা সুরক্ষাAI ব্যবহারে বীমা সেবায় বৈষম্য বা বাধা সৃষ্টি না করা, ডেটা পক্ষপাত কমানো এবং গ্রাহকদের মানবিক পর্যালোচনা বা ব্যাখ্যার আবেদন করার সুযোগ দেওয়া

নির্দেশিকায় বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মানবিক তত্ত্বাবধানের ওপর। OIC উল্লেখ করেছে, আন্ডাররাইটিং, প্রিমিয়াম নির্ধারণ, দাবির নিষ্পত্তি এবং পলিসির সুবিধা নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে AI এককভাবে সিদ্ধান্ত নেবে না। বরং এসব ক্ষেত্রে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তদারকি থাকা আবশ্যক, যাতে ভুল সিদ্ধান্ত, অযৌক্তিক বৈষম্য বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির ঝুঁকি কমানো যায়।

OIC-এর মতে, এই নির্দেশিকা ভবিষ্যৎমুখী হলেও এটি বাধ্যতামূলক নিয়মের মতো কঠোর নয়; বরং এটি একটি গাইডলাইন, যা বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ব্যবসায়িক মডেল ও ঝুঁকি প্রোফাইল অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে এটি থাইল্যান্ডের বীমা খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ভিত্তি তৈরি করবে।

সামগ্রিকভাবে, “AI Governance Guidelines 2025” থাইল্যান্ডকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বীমা খাতে দায়িত্বশীল AI ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি অগ্রণী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রকদের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Leave a Comment