পুনর্বীমার সুবিধাসমূহ

আজকের আলোচনার বিষয় “পুনর্বীমার সুবিধাসমূহ ” যা সামাজিক ও অন্যান্য ধরনের বীমাসমূহ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।মানুষ স্বভাবতঃই অধিকতর সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রচেষ্টায় নিয়ত সচেষ্ট থাকে। বীমার ক্ষেত্রেও বীমাকারীগণ তাদের বোঝা হালকা করার নিমিত্তেই সুযোগ-সুবিধার অন্বেষণ করতে গিয়েই পুনর্বীমার সন্ধান পেয়েছেন। যদিও পুনর্বীমাকারীও তার বিনিময়ে সুযোগ গ্রহণ করছেন। অর্থাৎ, কেউই প্রায় সুবিধা লাভ ছাড়া সুবিধা দান করছেন না।

পুনর্বীমার সুবিধাসমূহ

 

পুনর্বীমার সুবিধাসমূহ

 

যাই হোক পুনর্বীমা করার ফলে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের সকলেরই কমবেশী সুবিধা-অসুবিধা হয়। তবে, এখানে মূলতঃ পুনর্বীমাগ্রহীতার এবং সেই সাথে মূল বীমাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের যে সব সুবিধা পরিলক্ষিত হয় সেগুলো সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণনা প্রদান করা হলো :-

১. প্রথম বীমাকারী তথা পুনর্বীমাগ্রহীতা তহবিল ও সামর্থ্য অনুযায়ী তার দায় সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ পান। কেননা, দায়ের অতিরিক্ত বোঝা পুনর্বীমাকারীর উপর চাপিয়ে তিনি অনেকটা হালকা থাকতে পারেন। এতে যেমন তার তহবিলও নিঃশেষিত হয়না, তেমনি বীমাগ্রহীতাদের তিনি নির্ভরযোগ্য সেবাদানে সক্ষম হন।

২. পুনর্বীমার সুযোগে যেহেতু প্রথম বীমাকারী পুনর্বীমাকারীর কাছে অনেক ঝুঁকি হস্তান্তর করতে পারেন, সেকারণেই তিনি অধিক ঝুঁকি গ্রহণ করতে পারেন তথা তার কার্য সম্প্রসারণ করতে পারেন।

৩. নতুন বীমা কোম্পানীগুলোও পুনবীমার সুযোগ গ্রহণ করে অপক্ষোকৃত অল্পায়াসে প্রারম্ভিক পর্যায়ে কম তহবিল নিয়েও কারবার চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

 

৪. পুনর্বীমার মাধ্যমে একই ঝুঁকিকে ব্যাপক পর্যায়ে ও পরিসরে ছড়িয়ে দেয়ার এবং স্থানান্তরের সুযোগ গ্রহণ করে প্রথম বীমাকারী আরও নতুন নতুন ধরনের ঝুঁকি গ্রহণ করে অধিকতর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারেন। ৫. পুনর্বীমার মাধ্যমে অনেক সময় একাধিক বীমা কোম্পানী কর্তৃক বীমাপত্রে স্বাক্ষর দানের ব্যবস্থা করা হয় যার ফলে বীমার নিশ্চয়তা বেড়ে যায়। অর্থাৎ, কয়েকটি কোম্পানী জামিন স্বরূপ একটি জামিন নামা (Surity Bond)-তে স্বাক্ষর দান করলে সঙ্গতকারণেই বীমাপত্রের নিশ্চয়তা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

৬. পুনবীমায় যৌথ-জামিন নামার সুযোগ থাকে বলে অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে অনেক নতুন নতুন ব্যবসার সাথে সংযোগ সাধনে ব্যবসার সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত হয় এবং এ কারণেই আজকাল অনেক বড় বড় বীমা প্রতিষ্ঠান শুধু পনুবীমার কার্যক্রমেই নিয়োজিত থাকে।

৭. পুনর্বীমা ব্যবস্থার প্রথম বীমাকারীর তুলনায় পুনবীমাকারীর ব্যয় অনেক কম হয় বিধায় পুনর্বীমাকারীর মুনাফার সুযোগ বেশী থাকে। জীবন বীমায় পুনর্বীমাকারী তুলনামূলকভাবে সুদও বেশী পেয়ে থাকেন।

৮. বীমা কোম্পানীকে দায়ের সাথে সঙ্গতি রেখে তহবিলের একটা নির্ভারিত অংশ সব সময় জমা বা মজুদ রাখতে হয়। কিন্তু, পুনর্বীমা করা থাকলে এই জমা বা মওজুদ কম রাখলেও চলে।

৯. পুনর্বীমার ব্যবস্থা থাকায় বীমা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য ও স্থিরতা বজায় থাকছে। অতিমাত্রায় হ্রাস বৃদ্ধি বা উঠতি-পড়তি থাকলে ব্যবসায়ের ক্ষতি হতো। 

১০. উপরোক্ত কারণেই একাধারে প্রথম বীমাকারীর ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা যেমন সংহত হয়, তেমনি প্রথম বীমাগ্রহীতারও স্বার্থ নিশ্চিত হয়।

 

পুনর্বীমার সুবিধাসমূহ

Leave a Comment