২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক বিমার হার ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা টানা পঞ্চম প্রান্তিকের মতো হার কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে টানা সাত বছর ধরে বিমার প্রিমিয়াম বেড়ে ছিল। আন্তর্জাতিক বিমা ও ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্শ (Marsh) প্রকাশিত গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স মার্কেট ইনডেক্স প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনেবলা হয়, বিমা বাজারেপর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং পুনর্বিমার (Reinsurance) অনুকূল মূল্য নির্ধারণ—এই তিনটি কারণেইবৈশ্বিক বিমার হার হ্রাস পেয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের সব অঞ্চলে বিমার যৌথ হার কমেছে। এর মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সবচেয়ে বড় পতনের মুখে পড়ে, যেখানে হার কমেছে ১১ শতাংশ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং যুক্তরাজ্যে হার কমেছে ৬ শতাংশ করে। এশিয়া ও ভারত–মধ্যপ্রাচ্য–আফ্রিকা অঞ্চলে হার কমেছে ৫ শতাংশ, ইউরোপে ৪ শতাংশ এবং কানাডায় ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে বিমার হার কমেছে ১ শতাংশ, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকেস্থিতিশীল ছিল।
এই হ্রাস এমন এক সময় ঘটছে, যখন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েই চলেছিল। তৃতীয় প্রান্তিকে প্রায় সব অঞ্চল এবংঅধিকাংশ বিমা পণ্যের ক্ষেত্রেই হার কমেছে।
বিশ্ব ব্যাপী সম্পদ বিমার (Property Insurance) হার কমেছে ৮ শতাংশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ হার সবচেয়েবেশি, ১৪ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে কমেছে ৯ শতাংশ করে, আর অন্যান্য অঞ্চলে ৩ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে হ্রাস পেয়েছে।
আর্থিকও পেশাগত বিমা (Financial and Professional Lines) খাতে হার কমেছে ৫ শতাংশ, যা সব অঞ্চলে একযোগে কমেছে। মার্শের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ প্রান্তিকের মধ্যে ১২টি তেই এই খাতে মাঝারি মাত্রার হার হ্রাস দেখা গেছে।
সাইবার বিমার হারও কমেছে ৬ শতাংশ। ইউরোপে এই খাতে সবচেয়ে বড় হ্রাস—১২ শতাংশ, আর লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও যুক্তরাজ্যে ১১ শতাংশ করে কমেছে।
বিমার সব খাতের মধ্যে একমাত্র দায়বদ্ধতা বিমার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ, যদিও এটি দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৪ শতাংশ থেকে কিছুটা কম। যুক্তরাষ্ট্রে এইখাতে হার বেড়েছে ৮ শতাংশ, যা মূলত উচ্চমাত্রার ক্ষতিপূরণ এবং বড় জুরিরায় (jury awards) সংক্রান্ত মামলার কারণে।
মার্শের গ্লোবাল প্লেসমেন্ট বিভাগের প্রেসিডেন্ট জন ডনেলি বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা বিমা ছাড়া অন্যান্য খাতে গ্রাহকেরা শুধু কম হারই পাচ্ছেন না, বরং উন্নত শর্ত ও বিস্তৃত কভারেজের সুযোগও পাচ্ছেন। বর্তমান হার প্রবণতা এখনো এমন একটি বাজারকেই প্রতিফলিত করছে যেখানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইউরোপে দায়বদ্ধতা বিমার হার বেড়েছে ১ শতাংশ, তবে অন্যান্য অঞ্চলে কমেছে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ পর্যন্ত।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঞ্চলে আইনি কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় অঙ্কের রায় দেয় না, ফলে বিমারহার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তর আমেরিকার ঘূর্ণিঝড় মৌসুম (১ জুন–৩০নভেম্বর) এ বছর এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো বড় ঝড় দেখা যায়নি। এটি বিমা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তাকরেছে।
মার্শ জানায়, যেসব প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী, তারা এই প্রতিযোগিতামূলক বাজার পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে উন্নতশর্তে চুক্তি, বাড়তি কভারেজ এবং বিকল্প ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সমাধান—যেমন স্ব-বিমা (self-insurance) বা ক্যাপটিভ বিমা (captive insurance)—গ্রহণের সুযোগ নিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দেয় যে বৈশ্বিক বিমা বাজার বর্তমানে পর্যাপ্ত সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক হার এবং কৌশলগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগে সমৃদ্ধ এক ‘সফট মার্কেট’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে
