রংপুর জোনাল অফিসে কোম্পানি লিমিটেডে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার বীমা দাবি পরিশোধ না করে অফিসের মালপত্র ট্রাকে করে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা দ্রুত অফিসে পৌঁছে তাদের অবরুদ্ধ করেন। পরে তারা নগরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলতে থাকে। এর আগে শনিবার গভীর রাতে অফিসের মালামাল বহনকারী একটি ট্রাক আটক করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের বেলা কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আসবাবপত্র ও দামী সরঞ্জাম বাইরে নিতে গেলে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। গ্রাহকরা দ্রুত অফিসে পৌঁছে মালামাল আটক করেন এবং কর্মকর্তাদের জবাবদিহির জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন।
গ্রাহকদের ভিড় রোববার সকাল থেকেই অফিসের সামনে বাড়তে থাকে। দুপুর নাগাদ তারা গ্র্যান্ড হোটেল জামাল মার্কেটের সামনে নগরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রাহকরা লকার, চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র এবং একটি ট্রাকসহ সড়ক অবরোধ করছেন। অফিসের ভেতরে চারজনকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহকের ১২১ কোটি টাকারও বেশি বীমা দাবি এখনো পরিশোধ হয়নি। রংপুর বিভাগের অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৯,৫৯৬ জন গ্রাহকের বীমার মেয়াদ শেষ হয়েছে, যার বিপরীতে ১২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকারও বেশি বকেয়া রয়েছে।
গ্রাহকরা জানান, দীর্ঘদিন টাকা না পেয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। চেকপোস্ট ভগিবালা এলাকার আকলিমা বেগম বলেন, “দুই বছর আগে বীমার মেয়াদ শেষ হলেও এখনো টাকা পাইনি। আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত চাই।”
ফারইস্ট ইসলামী লাইফের এসভিপি আব্দুল কাদের বীর বলেন, “পুরনো আসবাবপত্র বিক্রি করা হচ্ছিল নতুন অফিসে স্থানান্তরের জন্য। গ্রাহকরা ভুল বোঝায় উত্তেজিত হয়েছেন। পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে, যা বিক্রি করে পাওনা পরিশোধ করা হবে।”
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম জানান, অফিসের আওতায় প্রায় ৭০ হাজার গ্রাহক আছেন, যাদের বকেয়া প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা। কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পর প্রশাসন নিশ্চিত করছে, কোনও সম্পদ বিক্রির চেষ্টা যাতে না হয়। মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
