বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) দেশের লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রধান কার্যালয়ের ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে। ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত ‘লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা, ২০২০’-এর নতুন বিধি–৪ অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় নীট প্রিমিয়ামের সর্বোচ্চ ৩% পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।
নতুন বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশে প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় মূল ব্যবসাস্থল বাংলাদেশে হলে বিধি ৩-এ নির্ধারিত ব্যয় সীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং কখনও অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে না। এছাড়া, বাংলাদেশের বাইরে ব্যয় প্রেরণের পূর্বে আইডিআরএর পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
এর আগে ২০২০ সালের মূল বিধিমালায় বিদেশে প্রধান কার্যালয়ের ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের কোনো নির্দেশনা ছিল না। ২০১০ সালের বীমা আইনে প্রধান কার্যালয়ের ব্যয়ের সীমা উল্লেখ থাকলেও, শতাংশ বা অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত ছিল না। এই শূন্যস্থান পূরণ করতে ২০২২ সালের ১৯ মে বিদেশে প্রধান কার্যালয়ের ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে নিট প্রিমিয়ামের উপর ভিত্তি করে ব্যয়ের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়, যা নিম্নরূপ:
| প্রিমিয়াম ধরন | প্রিমিয়ামের পরিমাণ | ব্যয়ের সর্বোচ্চ হার |
|---|---|---|
| ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম | ≤ ২০০ কোটি টাকা | ১.০০% |
| ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম | ২০০–৪০০ কোটি টাকা | ০.৭৫% |
| ১ম বর্ষ প্রিমিয়াম | > ৪০০ কোটি টাকা | ০.৫০% |
| নবায়ন প্রিমিয়াম | ≤ ৫০০ কোটি টাকা | ০.৫০% |
| নবায়ন প্রিমিয়াম | ৫০০–১০০০ কোটি টাকা | ০.৪০% |
| নবায়ন প্রিমিয়াম | ১০০০–১৫০০ কোটি টাকা | ০.৩০% |
| নবায়ন প্রিমিয়াম | ১৫০০–২০০০ কোটি টাকা | ০.২৫% |
| নবায়ন প্রিমিয়াম | > ২০০০ কোটি টাকা | ০.২০% |
২০২২ সালের প্রজ্ঞাপনের আগে, যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফের প্রধান কার্যালয়ের ব্যয় ১৯৫৮ সালের বিধিমালা অনুসারে নির্ধারণ করা হতো। নতুন বিধি বিদেশে প্রধান কার্যালয়ের ব্যয়ের নিয়মকানুনকে আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বিধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি তদারকি শক্তিশালী হবে, যা শেষপর্যন্ত গ্রাহক ও বীমাকারীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
