২০২৬ সালে বিশ্বের ঘরোয়া অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক খাতে প্রভাব ফেলতে চলেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: বিদ্যুতের খরচ এবং বীমা সক্ষমতা। দুবাই থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ‘মুডিজ সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ২০২৬ আউটলুক’ প্রতিবেদনের মতে, শক্তি রূপান্তর এখন শুধু পরিবেশগত লক্ষ্য নয়, বরং ক্রমবর্ধমান শক্তি চাহিদা, ডেটা সেন্টার ও বৈদ্যুতিকীকরণ, এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তের অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান শক্তি নীতিতে মূল্যের সাশ্রয় এবং কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বায়ু ও সৌর শক্তি অনেক বাজারে খরচে প্রতিযোগিতামূলক, তবুও নির্ভরযোগ্য ফসিল-ফুয়েল উৎসের চাহিদা বজায় থাকবে। বিশেষ করে ডিজিটাল অবকাঠামো, কুলিং সিস্টেম এবং উদীয়মান বাজারের বৃদ্ধির কারণে এই চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিচের টেবিলটি ২০২৬ সালের অনুমান অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা, শক্তি উৎস ও নীতি চ্যালেঞ্জের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করছে:
| অঞ্চল | শক্তি উৎসের প্রধান ধরণ | নীতি/চ্যালেঞ্জ | লক্ষ্য/পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| যুক্তরাষ্ট্র | প্রাকৃতিক গ্যাস, ন্যূন-কার্বন | AI-চালিত চাহিদা মোকাবিলায় অতিরিক্ত জেনারেশন | সরবরাহ নিরাপত্তা বজায় রাখা |
| এশিয়া-প্যাসিফিক | কয়লা, নবায়নযোগ্য শক্তি | দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণ | চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য |
| ইউরোপ | নবায়নযোগ্য, কার্বন সীমা | কিছু বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং হ্রাস | প্রতিযোগিতা ও খরচের ভারসাম্য |
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে মাত্র ৫৯% বীমা দ্বারা আচ্ছাদিত। ফলে বীমা ক্ষেত্রে “প্রোটেকশন গ্যাপ” বেড়েছে, এবং বীমা সংস্থাগুলো প্রিমিয়াম বৃদ্ধি, সীমিত কভারেজ অথবা কিছু বাজার থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও জল সংক্রান্ত ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জল-সঙ্কটযুক্ত অঞ্চলে ডেটা সেন্টারের উচ্চ জল ব্যবহার এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও পানীয় খাতেও প্রাকৃতিক ও জলবায়ু ঝুঁকির কারণে ইনপুট খরচ বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য দাম বাড়তে পারে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, AI-চালিত চাহিদা বিদ্যুতের খরচ এবং নীতি কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। বিশ্বব্যাপী শক্তি রূপান্তরে ২০২৪ সালে বিনিয়োগ ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক বিনিয়োগ ঘাটতি প্রায় ২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার হবে।
২০২৬ সালে বিদ্যুতের খরচ, বীমার সক্ষমতা এবং AI-চালিত চাহিদা একত্র হয়ে ঘরোয়া খরচ, কর্পোরেট ঋণ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে। অভিযোজনমূলক ব্যয় এবং বিশ্বাসযোগ্য রূপান্তর পরিকল্পনা ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক অর্থনীতির মূল ভেদকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে।
