আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নিবীমা প্রারম্ভিক ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিবীমা প্রারম্ভিক

সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনায় প্রায় সর্বজন স্বীকৃত ভাষ্য এই যে—আগুন আবিস্কারের সাথে সাথেই সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু হয়। একথা থেকে সহজেই অনমেয় এবং জীবনধারণের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত যে- আগুন মানুষের জীবন-জীবিকার জন্যে একান্ত অপরিহার্য।
সেদিক থেকে বলা যায় যে—আগুন মানুষের নিত্যদিনের বন্ধু। কিন্তু, ঠিক বিপরীতভাবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক করুণতম অভিজ্ঞতা ও দুঃখের উৎস হিসেবে প্রতিনিয়ত চিহ্নিত হয়ে চলেছে নিষ্ঠুরতার আকর ঐ আগুন। আগুনের সে নিষ্ঠুরতা ও ধ্বংসলীলায় এক ভয়াবহ অগ্নি-দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৬৬৬ সালে লণ্ডনে। সে অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডব চলেছিল চারদিন-চাররাতব্যাপী। সে দাবানলে প্রায় ৪৩৬ একর এলাকা পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল এবং ১৩ হাজারেরও বেশী দালান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। ১৮৬১ সালে টালি ষ্টেটের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দশলাখ পাউণ্ড পরিমাণ সম্পদ-সম্পত্তি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
যুদ্ধ, মহাযুদ্ধ আর বিশ্বযুদ্ধকালীন আগ্নেয় ক্ষতি মানুষকে করে তুলেছে ভীত-বিহ্বল ও সম্রস্ত আগুনের এ দু’টো দিক লক্ষ্য করেই Lord Brooke বলেছেন—
“Fire and people doe in this agree,
They both good servants, both ill master be.
শুধু আগুনের ‘বেলায় উপরোক্ত উক্তিটি সম্পর্কে অন্যভাবে বলা যায় যে— Fire is a good servant but a bad master. আগুন ভাল বন্ধু বটে;
কিন্তু নিষ্ঠুর শাসকও সে এক। উপরের উক্তিতে অবশ্যি মনুষ্য-প্রকৃতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তার মর্মার্থ এই যে- নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে আগুনের আনুগত্য প্রশ্নাতীত কিন্তু, একবার যদি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, সে হতে পারে এক চরম দুঃখ বিপর্যয়ের নিষ্ঠুরতম কারণ।

তাই, আগুনের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষ সচেষ্ট হয়েছে আগুনের নিষ্ঠুরতা থেকে রক্ষা পেতে, বারবার চেষ্টা করেছে বিভিন্নভাবে। তারই এক উৎকৃষ্ট ফসল হলো অগ্নিবীমা। আগুনের ওয়াবহতা যতই মানুষ দেখেছে, ততই সে আকৃষ্ট হয়েছে অগ্নিবীমার নিরাপদ আশ্রয়ের আকর্ষণে। আজ তাই, অগ্নিবীমার ছত্রছায়া ক্রমাগত বিস্তৃত হয়ে চলেছে পৃথিবীর দেশে দেশে বিপুল সম্ভাবনার হাতছানিতে।
