অগ্নির সংজ্ঞা ও তাৎপর্য 

আজকের আলোচনার বিষয় “নৌ-বীমাপত্রের বিশেষ শব্দাবলী ও ধারাসমূহ ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

অগ্নির সংজ্ঞা ও তাৎপর্য 

 

অগ্নির সংজ্ঞা ও তাৎপর্য 

 

বলা বাহুল্য যে অগ্নিবীমা সম্পত্তি বীমারই একটি অন্যতম প্রকরণ। সম্পদ- সম্পত্তি প্রতিনিয়ত ঝুঁকির আওতায় থাকে। যে আগুন মানুষের জীবন যাপন ও জীবিকার্জনে অপরিসীম সহায়ক ও অপরিহার্য বলে প্রমাণিত হয়েছে, সে আগুনই আবার সম্পদ-সম্পত্তি ও জীবনের অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করে চলেছে। তাই, আগুনের হাত থেকে সম্পদ-সম্পত্তি রক্ষা করতে কালক্রমে মানুষের নিয়ত চেষ্টায় একটি চমৎকার পন্থা বা ‘ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে যা অগ্নিবীমা নামে অভিহিত।

যথার্থভাবে বলতে গেলে, সম্পদ-সম্পত্তির সম্ভাব্য অগ্নি-ক্ষতির অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে মালিক বা বীমাযোগ্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত সেলামী প্রদানের প্রতিদানে ও বীমাকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ দানের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতিতে গঠিত চুক্তিকে অগ্নিবীমা (চুক্তি) বলে। আর, যে প্রক্রিয়ায় এ ধরনের চুক্তি গঠিত ও বাস্তবায়িত হয়, তাকে বলা হয় অগ্নিবীমা ব্যবস্থা।যাই হোক, বিভিন্ন গ্রন্থকার, লেখক ও বিশেষজ্ঞ অগ্নিবীমার যেসব সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তার কয়েকটি নিম্নে বর্ণনা করা হলো :

S. Sharma-র মতে- “A fire Insurance contract may be defined as an agreement whereby one party in return for a consideration, undertakes to indemnify the other party against financial loss which the latter may sustain by reason of certain defined subject-matter being damaged or destroyed by fire or other defined perils upto an agreed amount (অগ্নি-বীমা চুক্তি হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে প্রতিদানের বিনিময়ে এক পক্ষ অপর পক্ষের বর্ণিত বিষয়বস্তু অগ্নি দ্বারা অথবা চুক্তি-বর্ণিত অন্য কোন বিপদে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে সম্মতি বা চুক্তি নির্ধারিত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দানের জন্যে অধীকার করেন)

ঘোষ ও আগরওয়ালার মতে— “Fire Insurance may be defined as a contract whereby one party undertakes, in exchange for a premium, to indemnify the other against a loss or damage caused to specified property by fire during a particular period to the extent of a definite sum (অগ্নিবীমা চুক্তি হলো এমন একটি চুক্তি যার মাধ্যমে সেলামী প্রদানের বিনিময়ে এক পক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অগ্নিদ্বারা অপর পক্ষের কোন নির্ধারিত সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা অথবা তার একটি নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত পুরণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন)।”

N. Mishra বলেন “Fire Insurance is a device to compensate for the loss consequent upon destruction by fire ( অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসের ফলশ্রুতিতে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণ করে দেয়ার পন্থা বা উপায়কেই বলে অগ্নিবীমা)

 

এছাড়া বিভিন্ন গ্রন্থকার, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ অগ্নিবীমার সংজ্ঞা দান প্রসঙ্গে প্রায় একই অভিমত ও বক্তব্য দিয়েছেন যাই হোক, সকলের মতামত বিশ্লেষণ করলে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে—

(ক) এটি একটি চুক্তি যাতে দু’টি পক্ষ সংশ্লিষ্ট থাকে,

(খ) ক্ষতিপুরণের চুক্তি,

(গ) চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পত্তি,

(ঘ) ক্ষতি সাধিত হতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে,

(ঙ) ক্ষতিটি অগ্নি-সৃষ্ট হতে হবে,

(চ) ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ক্ষতির সমান অথবা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত নির্ধারিত হতে পারে, 

(ছ) সেলামী হলো ক্ষতিপুরণের প্রতিবিনিয়োগ মূল্য বা প্রতিদান এবং সেলানীর প্রতিদান হলো ক্ষতিপূরণ এবং

(জ) বীমার বিষয়বস্তু নির্ধারিত থাকে।

প্রসঙ্গতঃ এক্ষেত্রে ‘অগ্নি’ শব্দটি ‘সম্পর্কে কিছুটা ব্যাখ্যা প্রয়োজন কেননা, এখানে অগ্নি বা আগুন হচ্ছে সাধারণভাবে তাই যা দিয়ে কোন কিছু পুড়িয়ে ফেলা যায়। কিন্তু, যা থেকে কেবলমাত্র উত্তাপ বা আলোক সৃষ্টি হয়, তাকে অগ্নি বলা যাবে না। যেমন : বস্তু বা বিদ্যুৎ আলো বা উত্তাপ সৃষ্টি করলেও একে অগ্নি বলা যাবে না। তবে, বজ্রপাতের ফলে বা বিদ্যুৎ থেকে কোন জিনিস প্রজ্জ্বলিত হলে তাকে অগ্নি বলা যাবে।

অগ্নিবীমার মূল সার্থকতা হলো এর ক্ষতিপূরণের নীতির মধ্যে। ক্ষতিপুরণের নীতি প্রযুক্ত থাকায় যে কোন প্রকার অসৎ উদ্দেশ্যকে প্রতিহত করা যায়। অগ্নিবীমা অগ্নিকাণ্ড বা অগ্নি-অপচয় সংঘটন রোধ করতে পারে না, বরং কে অগ্নিক্ষতির তার লাঘব করতে পারে তা ব্যক্তির ক্ষতি শ্রেণীর মধ্যে বণ্টন করে। একজনের ক্ষতি সমাজের অন্যান্য লোকদের মধ্যে ভাগ করে অগ্নিবীমা কোন ব্যক্তিকে এককভাবে বৃহত্তর ক্ষতি হতে রক্ষাকরে এবং সাথে সাথে প্রিমিয়াম আকারে অন্যান্যদের কাছ থেকে সেই ক্ষতি আদায় করে নেয়।

 

অগ্নির সংজ্ঞা ও তাৎপর্য 

 

এটি অগ্নিবীমার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দিক। অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতা কোন প্রকার মুনাফা অর্জন করতে পারেন না। কারণ, ক্ষতিপুরণের পরিমাণ পূর্ব থেকেই ন্যায়সঙ্গতভাবে স্থির থাকে। অগ্নিবীমার এই নীতি জনকল্যাণকেই সমর্থন করে। অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে পুনর্বীমা এবং যুগ্মবীমার নীতিও প্রযোজ্য। এ ধরনের নীতির ক্ষেত্রেও শর্তাবলী এমনভাবে স্থির করা হয় যাতে কোন প্রকার অসৎ উদ্দেশ্য প্রশ্রয় না পায়।

বীমা ব্যবসায় ব্যাপক প্রসার এবং বীমাগ্রহীতাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার জন্যে দিন দিন আরো কার্যকরী হচ্ছে অগ্নিবীমা। চলছে এর উপর গবেষণা এবং ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ। উদ্ভাবিত হচ্ছে নতুন নতুন অগ্নিবীমাপত্র। এর কার্যকারিতা এবং গুরুত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে অগ্নিবীমাও আমাদের সামনে উপস্থিত হচ্ছে নতুন তাৎপর্য নিয়ে।

Leave a Comment