আজকের আলোচনার বিষয় “আমরা আজই আগামীকালের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকি– আমরা মনের শান্তি বিক্রয় করি।” যা বীমা সংক্রান্ত কিছু বিষয় অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
আমরা আজই আগামীকালের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকি– আমরা মনের শান্তি বিক্রয় করি

মানুষ স্বভাবতঃই ব্যক্তি ও পরিবার জীবনে চায় শাস্তি, স্বস্তি এবং সমৃদ্ধি। সে আশায়ই মানুষ ঘর বাঁধে, নিজেকে নিয়োজিত করে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকাণ্ডে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপৃত হয় পরস্পরে। কিন্তু বাস্তব এতই কঠিন যে মানুষের সে আশা আকাঙ্খা অনেক ক্ষেত্রেই হয় দারুনভাবে ব্যহত ধূলিমা। নানা ধরনের বিপুল আপদে মানুষ হয়ে পড়ে সহায় সম্বলহীন এবং বিপর্যস্ত। কখনও পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য বা কর্তা প্রিয়জনদের দুঃখ-দারিদ্র্যের মধ্যে রেখে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে কেউ সম্পদ-সম্পত্তি খুইয়ে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে বাধ্য হন।
এমনিভাবে, অনাকাঙ্খিত বিপদে পড়ে যে মানুষটি বিপদের সমুদ্রে হাবুডুবু খায়—সে চায় একটু খানি আশ্রয় অথবা বাঁচার জন্যে সাহায্য। আর, সমস্যা সংকট ও বিপদ তাড়িত যে জন গভীর অনিশ্চয়তার মাঝে সংসার জীবন নির্বাহ করে, সে চায় একটু খানি নিশ্চয়তা।নিরুত এ অবস্থার নিরীখে প্রাথমিক পর্যায়ে সমাজের কিছু বুদ্ধিমান লোক উদ্যোগী হলো পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে বিপদে আপদে একে অপরকে করার মানসে। এটি ছিল একটি নতুন চিন্তা ও পন্থা যা প্রকৃতপক্ষে সমবায় পদ্ধতিতে সাহায্য বীমা ব্যবসায়েরই গোঁড়া পত্তন করল।
এরপর থেকে এ বিষয়ে ক্রমাগত উদ্যোগ এবং চিন্তার বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধিত হতে লাগল। কালক্রমে এ উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই কিছু সংখ্যক লোক ব্যবসায়িক ভিত্তিতে নতুন একটি পন্থা নিয়ে আত্ম প্রকাশ করলেন যারা নিশ্চয়তাদানকারী ও পরবর্তীতে বীমাকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেন এবং এদের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপই কালক্রমে বীমা ব্যবসায় হিসেবে পরিগণিত হলো।
এ ধরনের ব্যবসায়ীগণ পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যকে অথবা তার পোষ্যদের প্রয়োজন মিটাতে ব্যবসায়ীকে সম্পদ-সম্পত্তি রক্ষার্থে তথা বিপর্যয় মোকাবেলা করতে গৃহস্থকে তার ফসলের জন্যে এমন কি, নিয়োগকারীকে তার কর্মচারী ও মজুরদের জন্যে যে কোন বিপদ আপদে ঝুঁকিজনিত অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে নিশ্চয়তাদানসহ প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন বিপদ কাটিয়ে তুলতে অথবা ক্ষতিপুরণ দান করতে, আর, এরই বিনিময়ে যাকে নিশ্চয়তা বা প্রতিশ্রুতি দান করছেন সেই বীমাগ্রহীতা বা প্রতিশ্রুতিগ্রহীতার কাছ থেকে কিছু অর্থ। এককালীন অথবা বিভিন্ন কিস্তিতে আগাম নিয়ে থাকেন যা রীমা কিস্তি নামে অভিহিত ।
এমনি করে ক্রমান্বয়ে বীমা ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয় আর, তারই ফলশ্রুতিতে নতুন নতুন পন্থায় জন সাধারণকে অনিশ্চয়তা লাঘব রা দুরীকরণে সহায়তা দানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছে বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ। জনসাধারণও অনিশ্চিত অজ্ঞাত ভবিষ্যতের জন্যে বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে হাজির হন। আর, বীমাকারীও জন সাধারণকে আকৃষ্ট করছেন নানাভাবে ।

উপরন্তু, বাস্তবিকভাবেই বীমাকারী ধীমাগ্রহীতার উপর সৃষ্ট ক্ষতিপুরণ করে। দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে দারীপুরণ করে দিচ্ছেন চুক্তি মোতাবেক। এভাবে বীমা । প্রতিষ্ঠানসমূহ বীমাগ্রহীতাকে করে থাকে উদ্বেগহীন ও নিশ্চিন্ত ; যোগায় শান্তি, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি। তাই, এ পেক্ষাপটেই—আধুনিক বীমা প্রতিষ্ঠানসমুহের এ এক অভিনব, অনবদ্য ও যথার্থ শ্লোগান অথবা অঙ্গীকার আমরা) আজই আগামীকালের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকি। আমরা মনের শাস্তি বিক্রয় করি ( We guarantee tomorrow to-day, we sell peace of mind)
