ইন্দোনেশিয়ায় লাইফ ইন্স্যুরেন্সে দাবির (ক্লেইম) প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অথরিটি (ওজেকে) সতর্ক করে জানিয়েছে, এটি শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; অনেক ক্ষেত্রে সংগঠিত চক্রের জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা সমগ্র লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ওজেকে’র ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেস সুপারভিশন বিভাগপ্রধান সুমারজোনো বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জমা পড়া ক্লেইম নথিতে অস্বাভাবিক মিল ধরা পড়ছে। দাবির কাগজপত্র প্রায় একই কাঠামোর, বিবরণ প্রায় অভিন্ন এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় একই ধরনের ক্লেইম ধারাবাহিকভাবে জমা পড়ছে। তিনি আরও বলেন, “এটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন, যা কোম্পানি ও গ্রাহকের জন্য একইভাবে ক্ষতিকর।”
ওজেকে’র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জালিয়াতির ধরন বহুমাত্রিক। কিছু ক্ষেত্রে এজেন্টদের মাধ্যমে প্রিমিয়াম আত্মসাৎ, অর্থ তছরুপ এবং দাবি বা মৃত্যু সংক্রান্ত নথি জাল করার ঘটনা ঘটছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও কতটি ভুয়া ক্লেইম শনাক্ত হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, সংস্থা জানায় যে তারা পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারিতে রাখছে।
লাইফ ইন্স্যুরেন্সে জালিয়াতির প্রধান কারণসমূহ
| বিষয় | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| পলিসিধারকের অজ্ঞতা | পলিসি শর্ত, দাবি প্রক্রিয়া ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাব |
| অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ দুর্বলতা | কিছু প্রতিষ্ঠানে গভর্ন্যান্স ও অভ্যন্তরীণ তদারকি অপর্যাপ্ত |
| প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি | ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার ফাঁকফোকর |
| পূর্বপরিকল্পিত প্রতারণা | একই ধরনের ক্লেইম ধারাবাহিকভাবে জমা এবং নথি জাল করার প্রবণতা |
ওজেকে জানিয়েছে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে অনিয়ম মোকাবিলায় নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি কাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে জারি ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অফ অ্যান্টি-ফ্রড স্ট্র্যাটেজিস ফর ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ইনস্টিটিউশনস’ বিধিমালার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে জালিয়াতিবিরোধী কৌশল গ্রহণ, দাবি যাচাইয়ে কঠোরতা বৃদ্ধি এবং জালিয়াতির ইঙ্গিত পেলে তা ওজেকে-কে রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার লক্ষ্য হলো ক্লেইম প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ করা, গ্রাহকের আস্থা পুনর্গঠন এবং বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
