আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় উদ্বৃত্তের উৎসসমূহ Sources of Surplus যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অর্ন্তভুক্ত।
Table of Contents
উদ্বৃত্তের উৎসসমূহ

বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের উদ্বৃত্ত যে সব উৎস থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে সেসব উৎস সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো :
১। অতিরিক্ত সুদ (Excess Interest) :
বীমা প্রতিষ্ঠান তার নীট দায়ের নির্দিষ্ট হারে বা বীমাগ্রহীতা শ্রেণীগুলির উপর বিভিন্ন হারে সুদ ধার্য্য বা বরাদ্দ করে থাকেন এবং বিপরীতভাবে বীমাকারী বীমাদারী পরিশোধের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা রেখে যথাসম্ভব বিভিন্ন অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে করে সুদ পেয়ে থাকেন।
প্রাপ্য সুদের হার প্রদেয় সুদের হারের চেয়ে বেশী থাকে। এই অতিরিক্ত পরিমান সুদ বীমা প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্তের একটি অন্যতম উৎস।
অনেক সময় অনুমিত সুদের হার (Assumed Rate of Interest) – চেয়ে প্রকৃত সুদের হার বেশী হওয়ায় তা উদ্বৃত্ত সৃষ্টির উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়। এছাড়া, ঋণপত্র বা সিকিউরিটিপত্রসমূহ পুস্তক মূল্যের (উওওক, অনতএ) চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রয় করা হলে তাও উদ্বৃত্তের উৎস হিসেবে কাজ করে।
২। মৃত্যুহার থেকে সৃষ্টি সঞ্চয় (Savings from Mortality) :
প্রকৃত মৃত্যুহার যদি অনুমিত মৃত্যুহার (সমতমএড মওরটঅলইটা) অপেক্ষা কম হয় তা হলে সেখান থেকে উদ্বৃত্ত সৃষ্টির একটি সুযোগ পাওয়া যায়। দেখা গিয়েছে যে প্রকৃত মৃত্যুহার অনুমিত মৃত্যুহার অপেক্ষা প্রায়শঃই কম থাকে, অন্যথায়, বীমা – কোম্পানীর ঘাটতি সৃষ্টি হতে থাকতো। তবে, বীমাকারী এই অনুমিত মৃত্যুহার খুব সতর্কতা সহকারেই নির্ধারণ করে থাকেন যাতে ঘাটতি সৃষ্টি না হয়।
৩। লোডিং থেকে সঞ্চয় (Savings from loading) :
বীমা কারবারের খরচ মেটানোর জন্যে অফিস কিস্তির (ঔাইেচএ পরিমান পেতে নীট প্রিমিয়ামের সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমানের অর্থ যুক্ত হয়। এই ধার্য্যকৃত বা অনুমিত আর্থিক বোঝা যদি প্রকৃত খরচের চেয়ে কম হয় তাহলে তা থেকে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়।
৪। বীমাপত্র বাতিল এবং সমর্পণ (Lapses & Surrenders ) :
অনেক সময় বীমাগ্রহীতা কোন কোন কারণে কিত্তি প্রদানে অক্ষম হয়ে পড়েন। সে ক্ষেত্রে দু’তিন বছর কিপ্তি দিয়ে থাকলে তিনি বীমা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একটি সমপর্ণ মূল্য (শতররএনডএর অলডএ) দাবী করতে পারেন। বীমাপত্রের মেয়াদ-এর মধ্যেই যদি বীমাপত্রের পরিসমাপ্তি ঘটে তাহলে উদ্বৃত্ত লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় যদি প্রদেয় সমর্পণ মূল্যের পরিমাণ সৃষ্ট সঞ্চিতির চেয়ে কম হয়। যদিও এটি প্রকৃতপক্ষে কোন উদ্বৃত্ত নয়, কেননা, সমর্পণের খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্যে উক্ত বাড়তি পরিমানের টাকা প্রয়োজন হয়।
৫। বোনাস (Bonus) :
মুনাফায় অংশগ্রহণকারী বীমাপত্রে একটি নির্দিষ্ট হারে বোনাস ঘোষণা করা হয়। বোনাস বাবদ রক্ষিত অর্থের অব্যবহৃত অংশ থেকে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়ে থাকে।

৬। বিবিদ উৎসসমূহ (Miscellaneous Sorces) :
বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি চুক্তির খাতে সৃষ্ট সময় উদ্বৃত্তের একটি উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবে বিশুদ্ধ মেয়াদী ও সাময়িক বীমার ক্ষেত্রে কিছু পরিমাণ অর্থ অপরিশোধিত থাকতে পারে যা উদ্বৃত্তের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
মোটামুটিভাবে, উপরোক্ত বিষয়গুলিই উদ্বৃত্ত সৃষ্টির উৎস হিসেবে পরিগণিত।
