আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নিবীমার অনুক্ত বা উহ্য শর্তাবলী ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিবীমার অনুক্ত বা উহ্য শর্তাবলী

অগ্নি বীমাপত্রে যেমন চুক্তি সংক্রান্ত লিখিত বা ব্যক্ত কতকগুলি শর্ত রয়েছে, তেমনি রয়েছে কতকগুলি অব্যক্ত বা উহা শর্ত। আর, অগ্নি বীমাচুক্তি গঠন ও সম্পাদনের জন্যে লিখিত শর্তসমূহ প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ, অনুক্ত শর্তসমূহ তেমনি অপরিহার্য ও গুরুত্বপূর্ণ বলা যায় ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ।
কেননা, অনুক শর্তসমূহ এত বেশী গুরুত্ববহ ও অপরিহার্য তথা সর্বজন স্বীকৃত যে তা ব্যক্ত করারও অবকাশ নেই বা প্রয়োজন পড়ে না। যেমনঃ যে সম্পত্তির জন্যে বীমাপত্র গ্রহণ করা হবে তার অস্তিত্ব থাকতে হবে একথা বুঝিয়ে বলা বা লিখিতভাবে সন্নিবেশনের অবকাশ রাগেনা।
নিম্নে অগ্নিবীমা চুক্তির এরূপ গুরুত্বপূর্ণ অনুক্ত শর্তা সম্পর্কে উল্লেখ করা হলো :–
১. সম্পত্তির বিদ্যমানতা (Existence of Property): যে বিষয়- বস্তু বা সম্পত্তির জন্যে অগ্নিবীমা গ্রহণ করা হয়, চুক্তি গঠনকালীন তার অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা একান্ত অপরিহার্য।
২. বীমাকৃত সম্পত্তি (Property Insured) : অগ্নিকাতে যে সম্পতি ধংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সে সম্পত্তি অবশ্যই ধামাকৃত হতে হবে, অন্যথায়, বীমাদাবী আদায় করা যাবেনা।
৩. বীমাযোগ্য স্বার্থ (Insurable Interest) : অগ্নিবীমায় চুক্তিগঠন তথা ঝুঁকি আরম্ভ হওয়া থেকে শুরু করে চুক্তির শেখাবনি বা ক্ষতি সংঘটন পর্যন্ত বীমাকৃত বিষয়বস্তুর উপর বীমাগ্রহীতার বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকতে হবে।
৪. চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস ( Utmost Good Falth) : বীমাগ্রহীতকে বীমাকারীর প্রতি চূড়ান্ত অবিশ্বাস রক্ষার জন্যে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকতে হবে। বীমাকারীর কাছে বীমার বিষয় বস্তু সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি। অবশ্যই প্রকাশ করতে হবে। এমনকি অগ্নি কাণ্ড যাতে না হয় তার জন্যে বীমাগ্রহীতাকে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট থাকতে হবে—এমনকি, অনিবার্য কারণে আগুন লেগে গেলে এ আপন সম্পত্তি হিসেবে একজন সাধারণ বুদ্ধি সম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ যেমন অগ্নি প্রশমিত করতে যতটা চেষ্টা করা উচিত, তা আন্তরিকভাবে করবেন এবং ক্ষতি কমানোর জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

শনাক্ততা ( Identity) : বীমাকৃত বিষয় বস্তু সম্পর্কে বীমাপত্রে এমনভাবে বিবরণ দিতে হবে যেন তা সহজেই চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায় এবং ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
