যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড (এনটিএসবি) বাল্টিমোরের ঐতিহাসিক ফ্রান্সিস স্কট কী ব্রিজ ধসের সম্ভাব্য কারণ প্রকাশের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ওয়াশিংটন ডিসির এনটিএসবি বোর্ডরুম ও কনফারেন্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রত্যাশিত প্রকাশ্য বোর্ড সভা। সেখানে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন, সম্ভাব্য কারণ, এবং নিরাপত্তা সুপারিশ নিয়ে ভোট হবে।
২০২৪ সালের ২৬ মার্চ যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রকে নাড়িয়ে দেয়, সেই ঘটনার তদন্ত এখন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেদিন ডালি নামের একটি বিশাল কনটেইনারবাহী জাহাজ বাল্টিমোর হারবার ছাড়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ ও প্রপালশন শক্তি হারায়। জাহাজটি ব্রিজ থেকে মাত্র তিন জাহাজের দূরত্বে থাকতেই বৈদ্যুতিক ব্রেকারগুলো অস্বাভাবিকভাবে খুলে যায়, ফলে জাহাজের আলোকব্যবস্থা, অধিকাংশ যন্ত্রপাতি এবং মূল ইঞ্জিনের কুলিং পাম্পের বিদ্যুৎ চলে যায়। কুলিং পাম্প নিস্ক্রিয় হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধান ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে পড়ে এবং জাহাজের প্রপেলার থেমে যায়। ফলে ক্রুদের নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
এই নিয়ন্ত্রণহীন জাহাজটি ব্রিজের কেন্দ্রীয় ট্রাস স্প্যান ধরে রাখা দক্ষিণ পাশের পিলারে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পুরো কী ব্রিজ।
দুর্ঘটনায় সেতুর ওপর কাজ করা ছয় নির্মাণকর্মী নিহত হন, একজন গুরুতর আহত হন এবং জাহাজের একজন ক্রুমেম্বারও আঘাত পান।
এনটিএসবি তদন্তের প্রকাশিত উপাত্তে রয়েছে সাক্ষাৎকার, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণসহ বহু নথি। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বলছে—ঘটনাটি শুধু জাহাজের যান্ত্রিক ব্যর্থতার ফল নয়, দেশের বহু পুরোনো সেতুর ঝুঁকির দিকেও বড় সতর্কবার্তা।
ঘটনার পর এনটিএসবি দেশজুড়ে বিভিন্ন সেতুর দুর্বলতা পরীক্ষা করে দেখে যে কী ব্রিজটি বর্তমান নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য ঝুঁকির তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট হাইওয়ে অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন অফিসিয়ালস (AASHTO)–এর নির্দেশনা আসার আগেই নির্মিত ১৯টি অঙ্গরাজ্যের মোট ৬৮টি সেতুতে একই ধরনের ঝুঁকি পরীক্ষা এখনো হয়নি বলেও জানায় এনটিএসবি।
এনটিএসবি অভিযোগ করে, মেরিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ব্রিজ ভেঙে পড়ার আগে প্রয়োজনীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন করেনি। তবে রাজ্য সরকারের দাবি—দায় সম্পূর্ণভাবে ডালি ও তার মালিকপক্ষের।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রায় এক বছর পর মেরিল্যান্ড সরকার নতুন কী ব্রিজের নকশা উন্মোচন করেছে। নতুন সেতুটি হবে আরও উঁচু, শক্তিশালী এবং জাহাজের আঘাত প্রতিরোধে সক্ষম। ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলার।
