জাতীয় ও সমাজ জীবনে জীবন বীমার ভূমিকা ও গুরুত্ব – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। মানুষ পৃথিবীতে এসে বুদ্ধি আর উপলব্ধির উন্মেষে বুঝতে পারে যে— ক্রমান্বয়ে সে অভাব, সমস্যা, যন্ত্রণা, দুঃখ-বেদনা, জরা-ব্যাধি ও মৃত্যুর দীর্ঘ এক শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এ উপলব্ধির উন্মেষের সাথে সাথে শুরু হয় সে শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা। এ চেষ্টারই একটি শুভ ও সফল পরিণতি হলো জীবন বীমার উদ্ভব।
Table of Contents
জাতীয় ও সমাজ জীবনে জীবন বীমার ভূমিকা ও গুরুত্ব

১। অর্থভাণ্ডার সৃষ্টি করে :
বিপুল সংখ্যক বীমাগ্রহীতার কাছে থেকে জীবন বীমার প্রিমিয়াম বীমা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জমা হয়ে এক বিশাল অর্থ ভাণ্ডারের সৃষ্টি করে যা ব্যাপক কর্মকাণ্ডে খাটানো যেতে পারে এবং হয়ে থাকে।
২। বিনিয়োগ সৃষ্টি করে :
জীবন বীমায় বীমাগ্রহীতাগণ সেলামী বা কিস্তি হিসেবে বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহে যে অর্থ প্রদান করেন তা, সুদে-আসলে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়ে আবার বীমাগ্রহীতাদের কাছেই ফিরে যায়। সুতরাং, তা তাদের জন্যে বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করে। বীমাকারীগণ বীমা সেলামী বা কিস্তি হিসেবে যে অর্থ পান, তা আবার তারা বিভিন্ন কারবার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে থাকেন যার মাধ্যমে তাদের ব্যবসার সাফল্য নিশ্চিত হয়।
৩। শিল্প ক্ষেত্রে অবদান রাখে :
জীবন বীমার সেলামী বা কিস্তি জমা হয়ে বীমা প্রতিষ্ঠানের যে বিপুল অর্থ ভাণ্ডার সৃষ্টি হয় – . বীমাকারীগণ তা বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে খাটাতে পারেন। আমাদের দেশে স্বাধীনতার আগে ও পরে প্রায় সমভাবে পাট, বস্ত্র এবং অন্যান্য অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির অশেষ কল্যাণ সাধিত হয়েছে এবং হচ্ছে।
৪। ব্যবসা-বাণিজ্যে অবদান :
অংশীদারী কারবার ও অন্যান্য কারবার প্রতিষ্ঠানে যৌথ বীমা, মূলব্যক্তি বীমা, কর্মচারীদের গ্রুপ বীমা ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জীবন বীমাপত্র চালু রয়েছে যার ফলে, ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যধারা অব্যাহত থাকছে এবং তাতে উন্নতি ও সমৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে জীবন বীমার একটি অশেষ উপকারী অবদান।
৫। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে :
সরকার জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে সাময়িকভাবে অর্থ সাহায্য গ্রহণ করে প্রতিরক্ষা খাতের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মিটাতে পারেন যা দেশ ও জাতির জন্যে অশেষ উপকারের হতে পারে।
৬। কর্মসংস্থান:
বিভিন্ন জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনেক মানুষ কর্ম সংস্থান লাভ করছে। এটিও সমাজ জীবনে অপরিসীম কল্যাণ সাধন করে চলছে।

৭। মুদ্রাস্ফীতি রোধ করে :
বিভিন্ন জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান জনসাধারণের কাছ থেকে বীমাপত্র বিক্রয় করে সেলামী বা কিস্তি বাবদ যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তা সাধারণতঃ উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগকৃত হয়ে থাকে। ফলে, বিপুল পরিমাণ মুদ্রা বা টাকার অহেতুক হাতবদল কমে যায় এবং মুদ্রার সরবরাহ কমে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করে যার সুফল কোন জাতির জন্যে নিঃসন্দেহে সুদুর- প্রসারী ও অশেষ কল্যাণকর হয়।
জীবন বীমা এমনি করে ব্যক্তি, পরিবার ও গোষ্ঠী জীবনে এবং সর্বোপরি, জাতীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে সাময়িক আর্থ-সামাজিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যকে ত্বরান্বিত এবং নিশ্চিত করে চলেছে। অনেক সময় অভাবনীয় সাফল্যের সাথে এগিয়ে চলে মানুষ জীবন বীমার অবদানে। একারণেই হয়ত বীমাকে ‘Miracle of paper & Ink (কাগজ-কালির সিদ্ধাই বা দ্বৈব) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। সুতরাং, সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে – আর্থ সামাজিক উন্নয়নে জীবন বীমার ভূমিকা এবং গুরুত্ব অপরিসীম ও অনস্বীকার্য।
