জীবন বীমাপত্রের শর্তাবলী

জীবন বীমাপত্রের শর্তাবলী – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” জীবন বীমা ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।

জীবন বীমাপত্রের শর্তাবলী

 

জীবন বীমাপত্রের শর্তাবলী | জীবন বীমা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

জীবন বীমা, জীবন বীমা চুক্তিতে বীমাকারী বীমাগ্রহীতাদের কতকগুলি সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকেন যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তবে, সেইসাথে আবার বীমাগ্রহীতাকে কতিপয় শর্তও মেনে চলতে বা পালন করতে হয়। জীবন বীমার এসব সুযোগ-সুবিধা ও শর্ত সাথে মুদ্রিত করে দেয়া হয়। বীমাগ্রহীতাকে যেসব শর্ত পালন করতে হয় তা নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণিত হলো: –

 

বীমা গ্রহীতাকে যেসব শর্ত পালন করতে হয় :

(i) কিস্তি পরিশোধ ( Payment of Premium) :

বীমাপত্রের তফসিলে বর্ণিত ধার্য তারিখ বা অনুগ্রহের সময়ের মধ্যে বীমাগ্রহীতাকে বীমাকিস্তি পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায়, বাজেয়াপ্তি-রোধক কোন সুবিধা অনুসারে বীমাপত্র চালু না থাকলে, বীমাপত্র বাতিল হয়ে যায়। যদিও বীমাকারী সৌজন্যমূলকভাবে বীমাগ্রহীতাকে সময়মত বীমা কিস্তি প্রদানের জন্যে নোটিশ দিয়ে থাকেন। তাই বলে এরূপ নোটিশ না দেয়ার অজুহাতে যথারীতি কিস্তি প্রদান না করলে তা আইন-গ্রা হবে না।

 

(ii) বয়সের প্রমাণ (Proof of Age) :

বীমাগ্রহীতার বয়স বীমার আবেদনপত্র, বিবেচনা এবং বীমা কিস্তির হার বির্ধারণের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই, বীমাচুক্তির প্রারম্ভেই বীমাগ্রহীতাকে বয়সের উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত বয়স সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, ব্যক্তিগত কুণ্ঠিনামা, নিয়োগকারীর অফিসে রক্ষিত চাকুরীর নথিবন্ধ, পরিবারের বয়স্ক সদস্য কর্তৃক প্রদত্ত বয়স সংক্রান্ত বিবৃতিপত্র ইত্যাদি বয়সের প্রমাণ দাখিলের কতকগুলি উল্লে্যুযোগ্য উপায়। তবে, যদি কোন কারণে চুক্তি গঠন কালীন উক্ত বয়সের প্রমাণ দাখিল করা না হয়, বীমাদাবী উপস্থাপনের বা পরিশোধের আগে সঠিক বয়সের প্রমাণ অবশ্যই দাখিল করতে হবে। যদিও, এতে দাবী পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে প্রায় ক্ষেত্রেই।

 

উল্লেখ্য যে, বীমাগ্রহীতার প্রকৃত বয়স বর্ণিত বয়স অপেক্ষা বেশী হলে এবং বয়স নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে বীমার অযোগ্য হলে বীমাচুক্তি বাতিল হয়ে যায়। তবে, তেমন অবস্থায় নিম্নে বর্ণিত ব্যবস্থা বা পদক্ষেপদ্বয়ের যে কোন একটি অনুসারে সংশোধন করা যায় –

(ক) প্রকৃত বয়সে যে পরিমাণ টাকা কিস্তি হিসেবে পরিশোধ্য তদপেক্ষা কত টাকা কম হারে কিস্তি প্রদত্ত হয়েছে, তা সুদসহ প্রদানের মাধ্যমে সংশোধন এবং

(খ) প্রদত্ত কিস্তির অর্থ দিয়ে প্রকৃত বয়সে যত টাকার বীমা করা চলে বীমাকৃত অর্থকে তদনুপাতে কমিয়ে নির্ধারণ করে সংশোধন করা।

 

(III) ভ্রমন, বসবাস বা পেশা নিয়ন্ত্রণ (Travel, Residene & Occupation Control) :

জীবন বীমাপত্র গ্রহণের পর বীমাগ্রহীতা যদি নির্ধারিত সীমানার বাইরে বা বিদেশ ভ্রমনে যান, দীর্ঘদিন অন্যত্র বসবাস করেন বা বিপদজনক পেশায় নিয়োজিত হন, তাহলে সঙ্গতকারণেই ঝুঁকি বৃদ্ধিপাপ্ত হয়। আর, সে কারণেই সেসব ক্ষেত্রে বীমাকারীকে জানিয়ে উপযুক্ত বর্ধিত বা অতিরিক্ত কিস্তি প্রদানের বিষয়ে শর্ত প্রযুক্ত তথ্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতো।

কিন্তু, কালক্রমে ভ্রমন ও বাইরে বসবাসের ক্ষেত্রে এ শর্তারোপ ও নিয়ন্ত্রণ বিধানে শিখিলতা এসেছে: এমনকি, ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানে ৬ মাসাধিক কাল বসবাস করলে—সেখানে বসবাসকালীন প্রদেয় কিস্তিতে রেয়াত দেয়ার রীতি চালু হয়ে যায়। তবে, পেশার ব্যাপারে শর্তারোপ ও নিয়ন্ত্রণ যথারীতি বহাল থাকে।

 

জীবন বীমাপত্রের শর্তাবলী | জীবন বীমা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(iv) যুদ্ধ ঝুঁকি (War-risk) :

সামরিক ও বেসামরিক মানুষের উপর যুদ্ধের ঝুঁকি ঠিক এক রকম নয়। তাই, উক্ত উভয় ক্ষেত্রে সর্তারোপের বিষয়ে কিছুটা ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। আবার, বেসামরিক বীমাগ্রহীতার উপর যুদ্ধের ঝুঁকি বহন করার ব্যাপারেই বিভিন্ন বীমা কোম্পানী বিভিন্ন মত পোষণ করে থাকে। কোন কোন বীমা প্রতিষ্ঠান বেসামরিক বীমা গ্রহীতাদের জীবনের উপর যুদ্ধের ঝুঁকি গ্রহণ করে থাকে এবং তার জন্যে কোন বাড়তি কিস্তিও আদায় করে না। কিন্তু, কোন কোন প্রতিষ্ঠান বীমাপত্রে অঘোষিত বা ঘোষিত যুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে বীমাগ্রহীতার মৃত্যু হলে বীমাকৃত অর্থ প্রদান না করে কেবল পরিশোধিত কিস্তির অর্থ ফেরত দেয়ায় কথা উল্লেখ থাকে।

আর, সামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে যুদ্ধের ঝুঁকি ছাড়াও অন্যান্য পেশাগত ঝুঁকিও গ্রহণ করা হয়। সামরিক বাহিনীতে নিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে যদি অতিরিক্ত কিস্তি না নিয়ে বীমাপত্র প্রদান করা হয়, এবং পরবর্তী কোন সময়ে উক্ত বীমাগ্রহীতা যদি যুদ্ধে যোগদান করতে যান অথবা ‘যুদ্ধ এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত এলাকার প্রবেশ করেন, তাহলে তা বীমাকারীকে জানাতে হবে এবং এজন্যে যদি বর্ধিত বীমা কিস্তি ধার্য করা হয়, তাও দিতে হবে।

 

(v) আবহাওয়া অতিরিক্ত (Climatic Extra) :

বীমাগ্রহীতার বসবাসের স্থান পরিবর্তন করা হলে, পরিবর্তিত আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই, কোন কোন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্যে অতিরিক্ত কিস্তি গ্রহণ করে থাকে যা আবহাওয়া অতিরিক্ত (Climatic Extra) হিসেবে অভিহিত।

উপরোক্ত শর্তগুলিই সাধারণতঃ বীমাপত্রের অপরিহার্য বিষয় হিসেবে পরিগৃহীত ও বীমাপত্রের অপর পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত থাকে।]

Leave a Comment