ঝুঁকি-ভিত্তিক প্রিমিয়ামে শক্ত ব্যাংকের সুবিধা

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া  (আরবিআই) আমানত বিমা প্রিমিয়াম নির্ধারণে ঝুঁকি-ভিত্তিক নতুন কাঠামো চালু করেছে, যা দেশের শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর লাভজনকতা বাড়াবে এবং পুরো ব্যাংকিং খাতে উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছে শীর্ষ রেটিং সংস্থা আইসিআরএ।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঘোষিত ‘রিস্ক-বেসড প্রিমিয়াম (আরবিপি) ফ্রেমওয়ার্ক’ অনুযায়ী, এতদিনের একক হারে প্রিমিয়াম আদায়ের পদ্ধতি বাতিল করে ব্যাংকের ঝুঁকি-প্রোফাইল অনুযায়ী ভিন্ন হারে প্রিমিয়াম ধার্য করা হবে। আগে প্রতি ১০০ টাকা মূল্যমানের ‘অ্যাসেসেবল ডিপোজিট’-এর বিপরীতে ১২ পয়সা হারে প্রিমিয়াম দিতে হতো। এখন থেকে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি স্কোরের ভিত্তিতে তাদের শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। এই স্কোর নির্ধারণ করবে ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন (ডিআইসিজিসি), যা আরবিআইয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

শক্ত ব্যাংকের জন্য প্রণোদনা

আইসিআরএর বিশ্লেষণ বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীলভাবে পরিচালিত এবং বড় ধরনের কোনো দাবি (ক্লেইম) না থাকা ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সম্পদের ওপর রিটার্ন (RoA) প্রায় ৪ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে, দেশের মোট আমানতের প্রায় ৮০ শতাংশ ধারণকারী ব্যাংকগুলো কম প্রিমিয়াম হারের সুবিধা পাবে, ফলে খাতভিত্তিক RoA গড়ে প্রায় ৩ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত উন্নত হতে পারে।

নতুন কাঠামোয় ‘ভিনটেজ ইনসেনটিভ’ যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো ব্যাংক যদি দীর্ঘ সময় ধরে ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স তহবিলে অবদান রাখে এবং বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে না পড়ে, তবে তারা অতিরিক্ত ছাড় পাবে। কার্যকর প্রিমিয়াম হার নির্ধারণের সূত্র হবে:

কার্যকর হার = কার্ড হার × (১ – ঝুঁকি প্রণোদনা) × (১ – ভিনটেজ প্রণোদনা)

সম্ভাব্য প্রিমিয়াম কাঠামো (টিয়ার–১ মডেল)

শ্রেণিকার্ড হার (প্রতি ১০০ টাকা AD)সর্বোচ্চ ছাড়সম্ভাব্য কার্যকর হার
ক্যাটাগরি A (নিম্ন ঝুঁকি)১২ পয়সা৩৩.৩৩% পর্যন্তন্যূনতম ৮ পয়সা
ভিনটেজ ইনসেনটিভপ্রযোজ্যঅতিরিক্ত ২৫% পর্যন্তআরও কম প্রিমিয়াম

এই টিয়ার–১ মডেল নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে (আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংক ব্যতীত)।

আমানত বিমা সীমা বৃদ্ধির ইঙ্গিত

বর্তমানে প্রতি আমানতকারী প্রতি প্রতিষ্ঠানে বিমা সুরক্ষার সীমা ৫ লাখ রুপি। আইসিআরএর মতে, ভবিষ্যতে এই সীমা বাড়ানো হলে ব্যাংকগুলোর প্রিমিয়াম ব্যয় বাড়তে পারে। তবে ঝুঁকি-ভিত্তিক ছাড়ের কারণে শক্তিশালী ব্যাংকগুলো সেই চাপ সামাল দিতে পারবে।

ডিআইসিজিসি আরবিআইয়ের অনুমোদনক্রমে আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এই কাঠামো কার্যকর করবে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারতের ‘ইনস্যুরড ডিপোজিট টু অ্যাসেসেবল ডিপোজিট রেশিও’ (IDR) ছিল ৪১.৫ শতাংশ, যা বিশ্বে আমানত বিমা কভারেজের বিচারে ভারতকে শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে স্থান দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নীতি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে। একই সঙ্গে এটি সুশাসন ও সতর্ক আর্থিক আচরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে স্পষ্ট আর্থিক প্রণোদনা দেবে।

Leave a Comment