হংকং ও সাংহাইভিত্তিক চীনের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান পিং আন ২০২৬ সালের জন্য তাদের নতুন “সেবা বছর ২০২৬” উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত সেবা ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক জরুরি সহায়তা কাঠামোয় বড় ধরনের উন্নয়ন এনেছে। মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক, স্বাস্থ্য ও জীবনঘনিষ্ঠ সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করা।
নতুন সংস্কারে পিং আন তাদের তাৎক্ষণিক সেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এখন গ্রাহকরা মাত্র একটি বাক্য বা নির্দেশনার মাধ্যমে জটিল আর্থিক লেনদেন, বীমা দাবি, ঋণ সহায়তা এবং জরুরি অনুরোধ সম্পন্ন করতে পারবেন। এই ব্যবস্থায় অনলাইন ও অফলাইন সেবাকে একত্রিত করা হয়েছে, যেখানে হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যানবাহন সেবা এবং উদ্ধার সংস্থার মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বৈশ্বিক জরুরি সহায়তা ব্যবস্থায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোটি “যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান, যে কোনো প্রয়োজন”—এই তিন মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। বর্তমানে এতে ৩৮ ধরনের জরুরি সেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বাসা, ভ্রমণ এবং বিদেশ—এই তিনটি প্রধান পরিস্থিতিতে শতাধিক ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সক্ষম।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি, যা দেশের আর্থিক খাতে অন্যতম সর্বোচ্চ। পাশাপাশি তাদের বৈশ্বিক জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক এখন ২৩৩টি দেশ ও অঞ্চলে বিস্তৃত, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম।
নিচের সারণিতে নতুন সেবার প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো—
| ক্ষেত্র | উন্নয়ন | সুবিধা |
|---|---|---|
| তাৎক্ষণিক সেবা | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা | একটি নির্দেশেই সেবা সম্পন্ন |
| জরুরি সহায়তা | বৈশ্বিক উদ্ধার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ | দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থা |
| প্রবীণ সহায়তা পরিকল্পনা | জীবনমান উন্নয়ন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা | বয়স্কদের জন্য নিরাপদ সেবা |
| সেবা একীকরণ | ৩০০টিরও বেশি সেবা একত্রিকরণ | সহজ ও দ্রুত ব্যবহার অভিজ্ঞতা |
প্রতিষ্ঠানের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল গুও বলেন, গ্রাহকই সব সেবার কেন্দ্রবিন্দু। তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা।
প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান রে ওয়াং জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু তথ্য প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ সেবা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। নতুন ব্যবস্থায় ২৫ কোটিরও বেশি গ্রাহকের জন্য ৩০০টিরও বেশি সেবা একত্রিত করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের প্রয়োজন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম।
অন্যদিকে জরুরি সহায়তা বিভাগের প্রধান শি ওয়েইইউ জানান, তাদের চব্বিশ ঘণ্টার কেন্দ্র থেকে পরিচালিত এক ক্লিক জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে গড়ে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে বিশ্বব্যাপী উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে পারে। এই নেটওয়ার্কে দুই লক্ষাধিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং ছয় লক্ষাধিক সেবা প্রদানকারী সংস্থা যুক্ত রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পিং আন তাদের এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিক সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রবীণ সহায়তার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবকেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে, যা বৈশ্বিক সেবা খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে।
