প্রিমিয়াম নির্ধারণের কোন্ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশী প্রচলিত এবং কেন?- নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” জীবন বীমায় কিস্তি নির্দ্ধারণ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
প্রিমিয়াম নির্ধারণের কোন্ পদ্ধতি সবচেয়ে বেশী প্রচলিত এবং কেন?

প্রিমিয়াম-নির্ধারণের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে আপদকালীন নির্ণয়ন পদ্ধতি {Assessment System) স্বাভাবিক প্রিমিয়াম পরিকল্পনা (ণঅটতরঅল ফরএমইতম ফলঅন) ও সম প্রিমিয়াম পরিকল্পনাই উল্লেখযোগ্য। তবে, প্রথমটি একটি প্রাচীন এবং ত্রুটিযুক্ত পন্থা বলে আধুনিক বীমাকারীগণ এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন না। পরবর্তী দু’টিই সমধিক প্রচলিত। আর, এ দু’টি পদ্ধতির মধ্যেও পরেরটি অর্থাৎ সুষম বা সম-প্রিমিয়াম পরিকল্পনা সর্বাধিক প্রচলিত। কেননা, বিভিন্ন পদ্ধতির ত্রুটি ওঅসুবিধাসমূহ থেকে অব্যাহতি পেতেই বীমাকারীগণ এ পদ্ধতিটি উদ্ভাবন ও অনুসরণ করেন।
যে সব কারণে সুষম প্রিমিয়াম পরিকল্পনাটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তায় গুলিত তা সংক্ষেপে নিম্নে উল্লেখ করা হলো : –
১। এ পদ্ধতিতে প্রদেয় সকল প্রিমিয়ামই সমান পরিমানের বলে একাধারে বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার হিসাবগত সরলতা বা সমতা বজায় থাকে এবং বীমাগ্রহীতার কিত্তি প্রদানের ব্যাপারে একটি সাবলীল অভ্যস্ততা গড়ে উঠে।
২। এ পদ্ধতিতে সমান পরিমানের কিস্তি হওয়ায় বীমা কিস্তি প্রদানে বীমাগ্রহীতার প্রথমাবস্থায় পারিবারিক বোঝা বা খরচ কম থাকায় যেমন অসুবিধা হয় না, তেমনি খরচ বৃদ্ধির সাথে সাথে রোজগার বৃদ্ধি পায় বলে খরচ বাড়লেও সম পরিমানের কিস্তি পরিশোধে অসুবিধা হয় না।
৩। এ পদ্ধতিতে বীমা পত্রটি চলার প্রথম দিকেই সম পরিমানের কিস্তি পরিশোধিত হওয়ায় বীমাকারীর খরচের তুলনায় প্রাপ্তি বেশী হয় যা বীমাকারী খাটিয়ে সমধিক লাভবান হতে পারে।
৪। উপরের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট যে এ ধরনেই পকিল্পনা একাধারে বীমাকারী ও বীমাকৃত উভয়ের জন্যেই সম-সুবিধা সম্পন্ন যা অন্যান্য পদ্ধতি বা পরিকল্পনার পাওয়া যায় না।

সুতরাং, উপরোক্ত কারণেই সুষম প্রিমিয়াম বা সম কিস্তি পরিকল্পনা সবচেয়ে বেশী প্রচলিত পদ্ধিতিতে পরিণত হয়েছে।
