আজকের আলোচনার বিষয় “বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমী ” যা বীমা সংক্রান্ত কিছু বিষয় অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমী

সরকার সমস্ত বীমা কোম্পানীগুলি ১৯৭২ সালে এক অধ্যাদেশ বলে সরকার সমস্ত জাতীয়করণ করেন। এ পদক্ষেপ ছিল জনস্বার্থ তথা সামাজিক কল্যাণ অধিকতর নিশ্চিত করার জন্যে। স্বাধীনতা পরবর্তী দিনগুলিতে যে বীমা কোম্পানীগুলি গড়ে ওঠে তার গোড়াপত্তন হয়েছিল পাক-শাসন আমলেই তখন বীমা বিষয়ক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের প্রতি সরকারী ও বেসরকারী তেমন কোন উদ্যোগ ছিল না। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বীমা কোম্পানীগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা জটিলতা।
একদিকে যেমন উদ্যোক্তা ছিল না, তেমনি যোগ্য পরিচালকেরও ছিল একটা অভাব। নতুন বীমা কোম্পানীগুলোর কর্মচারীদের জন্য । তেমন কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও ছিল না।। এমন এক নাজুক পরস্থিতিতে সরকার বীমা শিল্পকে আরো দক্ষ এবং কার্যকরী করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমী প্রতিষ্ঠিত করেন।
একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল নিম্নরূপ –
১। বীমাক্ষেত্রে প্রফেশনাল ডিগ্রীর সুযোগ সৃষ্টি করে বীমা শিক্ষা সম্প্রসারণ;
২। বীমা শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনার উপর গবেষণার ব্যবস্থা করা ;
৩। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কার্যকরী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা;
৪। বীমা বিশেষজ্ঞ ও দেশ-বিদেশের বীমা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রাখা;
৫। বীমা বিষয়ে বিভিন্ন আর্টিকেল ও প্রকাশনার মাধ্যমে একো আরো পরিচিত ও জনপ্রিয় করা ;
৬। ACII. CLU প্রভৃতি পরীক্ষার জন্যে মান নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্যে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং
৭। যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বীমা শিক্ষা ও শিল্প ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন তাদের পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদান করা।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমী দক্ষতার সাথে তার ভূমিকা পালন করে বীমা শিল্পের ব্যাপক প্রসারে সাহায্য করে চলেছে।
