আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় তহবিল বিনিয়োগের বিধিমালা যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অর্ন্তভুক্ত।।
তহবিল বিনিয়োগের বিধিমালা

এ উপমহাদেশে বীমা বিধি প্রবর্তনের প্রারম্ভ থেকেই তহবিল বিনিয়োগের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। কেননা, অবিবেচনাপ্রসূত বিনিয়োগের ফলে বীমা কারবার এবং জাতীয় সামগ্রিক আর্থিক স্বার্থ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তাই, বীমা বিধি প্রণয়নের প্রথম পর্যায়ে নিয়ম ছিল যে, বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের ২৫% ভাগ সরকারী ঋণপত্রসমূহে, ৩০% ভাগ অনুমোদিত ঋণপত্ৰসমূহ (Approved Securities) এবং অবশিষ্ট ৪৫% ভাগ বীমাকারী সুবিধানুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু, পরবর্তীতে উপমহাদেশের তিনটি দেশে এধারাটির পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।যেমন : – ১৯৫০ সালে ভারতে নিয়ম করা হয় যে –
(ক) জীবন বীমা তহবিল সরকারী ঋণপত্র, অনুমোদিত ঋণপত্র ও অনুমোদিত বিনিয়োগ ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা যাবে না এবং
(খ)সে বিনিয়োগের হার হবে নিম্নরূপ –
→সরকারী ঋণপত্রসমূহে – ২৫% ভাগ
→ অনুমোদিত ঋণপত্রসমূহে – ২৫% ভাগ
→ অনুমোদিত বিনিয়োগ ক্ষেত্রসমূহে – ৫০x ভাগ।
আর, ১৯৬০ সালে সাবেক পাকিস্তানে ১৯৩৮ সালের বীমা বিধির ২৭ ধারার ২ উপধারার যে পরিবর্তন সাধন করা হয় নিম্নে তা সন্নিবিষ্ট করা হলো : –
(১) তহবিলের ৩০% ভাগ সরকারী ঋণপত্রে (In Governmentsecurities) .
(২) ৩০x ভাগ (বিভিন্ন সময়ে সরকারী গেজেটে প্রচারিত বিজ্ঞপ্তির আওতাধীনে থেকে) সরকারী অথবা অনুমোদিত ঋণপত্রে (In Government or approved securities)
(৩) অবশিষ্ট ৪০% ভাগ সরকারী অনুমোদিত ঋণপত্রে অথবা সরকারী গেজেট- বিজ্ঞপ্তি মারফত প্রচারিত আদেশ-নিষেধ সাপেক্ষে অনুমোদিত বিনিয়োগ মাধ্যম বা ক্ষেত্রে (In approved investment) বিনিয়োগ করা যাবে।
যদিও উক্ত প্রবিধি আমাদের বাংলাদেশে ১৯৮৪ সাল নাগাদ কার্যকর ছিল। কিন্তু, ১৯৮৪ সালেই নিম্নোক্ত পরিবর্তন সাধন করা হয় –
- সরকারী সিকিউরিটি – ৫০% ভাগ।
- সরকারী অথবা অনুমোদিত সিকিউরিটি – ৩০% ভাগ এবং
অবশিষ্টাংশ অনুমোদিত বিনিয়োগ।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, তহবিল নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত হতে পারে –
(i) জীবন বীমা তহবিল (Life Insurance Fund) যা মূলতঃ বীমাগ্রহীতাদের দাবী মিটাতে ব্যবহৃত হয় এবং
(II) অন্যান্য তহবিলসমূহ । যথা : – সঞ্চিতি তহবিল (Reserve Fund), বিনিয়োগ হেরফের তহবিল (Investment Fluctuation Fund) ইত্যাদি।
