হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করে বীমা দাবি যাচাই ও পরিশোধ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাই এখন জরুরি।
বিআইএ’র প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ বলেন, এই দুর্ঘটনা আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের আস্থা বজায় রাখা এবং তাদের আর্থিক ক্ষতি দ্রুত পূরণে বীমা দাবি নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। তিনি বীমা কোম্পানিগুলোকে এখনই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করার, ক্ষতির মূল্যায়ন ও দাবি পরিশোধে কার্যকর টিম গঠনের এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করার পরামর্শ দেন।
সাঈদ আহমেদ আরও বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর উচিত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের তালিকা প্রস্তুত করা, ক্ষতির প্রমাণপত্র সংগ্রহে সহায়তা করা, এবং ক্ষতি মূল্যায়ন কার্যক্রম সক্রিয় করা। এ পদক্ষেপগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যের পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে এবং বীমা খাতে গ্রাহকদের আস্থা আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, বীমা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বিআইএ সভাপতির এই আহ্বান খাতটিকে আরও দায়িত্বশীল ও উদ্যোগী করে তুলবে। তাদের মতে, এই অগ্নিকাণ্ড শুধু একটি অবকাঠামোগত বিপর্যয় নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে এক বড় ধাক্কা। তাই বীমা কোম্পানিগুলোর দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনরুদ্ধার এবং বাজারে আস্থা পুনঃস্থাপনের মূল চাবিকাঠি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর আড়াইটার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গেট নম্বর ৮ সংলগ্ন কার্গো ভিলেজের আমদানি সেকশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কয়েক ঘণ্টা কাজ করে। এ সময় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আনসার সদস্য আহত হন, এবং বিপুল পরিমাণ আমদানি পণ্য, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও পোশাক রপ্তানির নমুনা আগুনে পুড়ে যায়।
