দেশের জীবন বিমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বকেয়া দাবি এখন একটি কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। বহু গ্রাহক বছরের পর বছর ধরে বৈধ দাবি উত্থাপন করেও টাকা পাচ্ছেন না। আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, কিছু কোম্পানির কাছে কার্যত দাবি পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থই নেই।
আইডিআরএর মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি জানিয়েছেন, বকেয়া দাবির বড় অংশ ফারইস্ট লাইফসহ পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এসব কোম্পানির অর্থ বিভিন্নভাবে বাইরে চলে গেছে, ফলে তারা আর গ্রাহকদের টাকা দিতে সক্ষম নয়। এই বাস্তবতায় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় নতুন আইন ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এই প্রেক্ষাপটে আইডিআরএ ‘বিমা রেজ্যুলেশন অ্যাক্ট–২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। আইনটি পাস হলে সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে মার্জ করা, বিশেষ ব্যবস্থায় দাবি পরিশোধ এবং প্রয়োজনে সরকারি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এসব কোম্পানি আজ সংকটে পড়েছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা, যাদের অনেকেই জীবন সঞ্চয়ের শেষ ভরসা হিসেবে বিমাকে বেছে নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, নতুন ও কিছু পুরোনো কোম্পানির দাবি পরিশোধের হার তুলনামূলকভাবে ভালো। গার্ডিয়ান লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, মেটলাইফ বাংলাদেশ ও পপুলার লাইফ অধিকাংশ দাবি পরিশোধ করে খাতের মধ্যে আস্থার কিছু আলো জ্বালিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে মেটলাইফ বাংলাদেশ একাই প্রায় ৭৬৯ কোটি টাকা দাবি পরিশোধ করেছে, যা পরিমাণের দিক থেকে সর্বোচ্চ।
তবে সামগ্রিকভাবে চিত্রটি আশাব্যঞ্জক নয়। নতুন ব্যবসা শুরু করা অনেক কোম্পানির বকেয়া তুলনামূলক কম হলেও ভবিষ্যতে তাদের সক্ষমতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আর পুরোনো সমস্যাগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকে পুনর্গঠন বা একীভূত করা ছাড়া খাতের ভারসাম্য ফেরানো কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখনই কঠোর সিদ্ধান্ত না নিলে জীবন বিমা খাতের ওপর মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। আইন সংস্কার, কোম্পানি পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।
