সুইস রি সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত তার প্রিমিয়াম বৃদ্ধিতে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিবেদনে ভারতীয় বিমা বাজারকে “মধ্যমেয়াদে স্বাস্থ্য ও মোটর বিমা খাতে প্রকৃত উজ্জ্বল উদাহরণ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৩.১% প্রবৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা বাজারটি এখন পুনরায় শক্তিশালী বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
সুইস রি আশা করছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বিমা প্রিমিয়াম বার্ষিক গড়ে ৬.৯% বৃদ্ধি পাবে। এই হারে এটি বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান বিমা বাজার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং ভোক্তাদের জন্য আকর্ষণীয় পণ্য সমন্বয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমিতাভ রায়, সুইস রির ভারতীয় বাজার প্রধান, উল্লেখ করেছেন: “বিমা ক্রেতাদের জন্য ভবিষ্যতমুখী নিয়মনীতি, ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় পণ্য সমন্বয়ই মূল চালিকা শক্তি। একই সঙ্গে, বিমা লাখ লাখ ভারতীয় পরিবার ও ব্যবসার জন্য আর্থিক নিরাপত্তা সরবরাহ করে, বিশেষত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধির এবং বৃদ্ধপ্রাপ্ত জনসংখ্যার প্রেক্ষাপটে।”
চলতি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের বার্ষিক বৃদ্ধির হার প্রায় ৪% এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২% হবে। ভারতীয় বাজারের গতিশীলতা মূলত বিমা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (IRDAI) এবং সরকারের সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির ফল। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগের সীমা বৃদ্ধি, বিতরণ চ্যানেল আধুনিকীকরণ এবং পণ্য ও পরিষেবা কর প্রবর্তন।
বিমা খাত অনুযায়ী বার্ষিক বৃদ্ধির প্রত্যাশা (২০২৬–২০৩০)
| বিমা খাত | প্রত্যাশিত বার্ষিক বৃদ্ধি | মূল চালিকা শক্তি |
|---|---|---|
| জীবন বিমা | ৬.৮% | বিস্তৃত বিতরণ, অবসরকালীন পণ্যের চাহিদা, ঋণ সম্প্রসারণ |
| স্বাস্থ্য বিমা | ৭.২% | স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক সহায়তা |
| মোটর বিমা | ৭.৫% | যানবাহন মালিকানা বৃদ্ধি, যান চলাচল চাপ বৃদ্ধি |
| নন-লাইফ বিমা | ৫–৬% | নিয়ন্ত্রক সমন্বয়, চিকিৎসা মূল্যস্ফীতি, মধ্যমেয়াদি পুনরুদ্ধার |
জীবন বিমা ভারতের বাজারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, যা দেশটিকে উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবন বিমা বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। স্বাস্থ্য ও মোটর বিমা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, শহুরেীকরণের সাথে মিলিত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে। নন-লাইফ বিমা সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন ও চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে প্রভাবিত হলেও ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের মোট $২৬–২৯ ট্রিলিয়ন মূল্যের সম্পদ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা বড় ধরনের দুর্যোগের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
পার্থবীন্দর সিংহ, সুইস রির ভারতীয় ক্লায়েন্ট আন্ডাররাইটিং প্রধান, বলেছেন, “উত্তম আন্ডাররাইটিং ও টেকসই সমাধানই বৃদ্ধির সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। দেশের সুরক্ষা ফাঁক কমানো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
নিয়ন্ত্রক সংস্কার, ডিজিটালীকরণ এবং ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে, আগামী দশ বছরে ভারত বিশ্ব বিমা বৃদ্ধির অগ্রদূত হিসেবে নিজ অবস্থান কায়েম করবে।
