বীমাগ্রহীতার দিক থেকে বীমাযোগ্য ঝুঁকির অত্যাবশ্যকীয় উপাদানসমূহ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বীমাকারীর দিক থেকে যেমন বীমাযোগ্য ঝুঁকির কতকগুলি আবশ্যকীয় উপাদান থাকে বীমাগ্রহীতার দিক থেকেও তেমনি কিছু অত্যাবশ্যকীয় উপাদান থাকে যা সংক্ষেপে নিম্নে বর্ণিত হলোঃ-
বীমাগ্রহীতার দিক থেকে বীমাযোগ্য ঝুঁকির অত্যাবশ্যকীয় উপাদানসমূহ

১। বাস্তব ক্ষতিটিকে অবশ্যই রক্ষণাবেক্ষণ প্রত্যাশি হতে হবে (Potential loss must warrant protection) :
এটা স্বভাবতঃই পরিদৃষ্ট হয় যে, সহজে বহনযোগ্য সামান্য ক্ষতি সাধিত হলে সেসব ছোট-খাট অসুবিধার জন্যে অধিকাংশ লোকই বীমা করে না। আবার, এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে অনেকেই সম্ভাব্য বাস্তব ক্ষতির মাত্রা অনুধাবন করতে পারেন না। যে অনেক সময়ই দেখা যায় যে, কোন লোক সম্ভাবা পরিবহন দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে ১০,০০০/- টাকার ক্ষতির জন্যে বীমা গ্রহণ করেছেন। অথচ, অন্ততঃ ১,০০,০০০/- টাকা মূল্যের তার স্বীয় জীবনের জন্যে একটি নীমাপত্র নেননি যা তার পরিবারবর্গের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে অপরিহার্য।
আবার, এও সত্য যে কারও পক্ষে যেটি মারাত্মক ক্ষতিকর কারণ হতে পারে, কারও পক্ষে তা একেবারেই নগণ্য ক্ষতিকারক বলে গণ্য হয়ে থাকে যা অনেকটা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে বিচার্য ও নির্ভরশীল। সে যাই হোক, বীমার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি খুবই তাৎপর্যবহ, তা হচ্ছে এই যে – যেটি অপেক্ষাকৃত অধিক ক্ষতির ‘কারণ হতে পারে, তেমন ঝুঁকির বিরুদ্ধে পরে বীমা সেলামী খাতে ব্যক্তিগত ব্যয়বরাদ্দ নির্ধারিত রাখাই বাঞ্ছিত।
মোটমাট, প্রসংগকথা এই যে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য এমন সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির অনিশ্চয়তা বা ঝুঁকির বিরুদ্ধেই বীমা গ্রহণ রীমাগ্রহীতার দিক থেকে একটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান তথা বিবেচ্য বিষয়।
২। ক্ষতির সম্ভাবনা অতিমাত্রায় যেন না হয় (Probability of loss not to be too high) :
কথাটি আপাততঃ বিরোধী মনে হওয়া খুবই স্বাভাবিক যে, বীমাগ্রহীতাকে খুব বেশী সম্ভাব্য ক্ষতির বিরুদ্ধে বীমা গ্রহণ করা উচিৎ নয়। এ ক্ষেত্রে অনুধাবনেয় বিষয় এই যে, ক্ষতিটি যত বেশী সম্ভাব্য হয়, স্বভাবতঃই তা সংঘটিত হওয়ার নিশ্চয়তা অধিক হয়ে থাকে। আর, ক্ষতিটি সংঘটিত হওয়ার নিশ্চয়তা যত বেশী হবে, তার সেলামীও তত বেশী হবে এবং এমন একটি সময় আসবে যখন ক্ষতিটি এতটা নিশ্চিত হয়ে পড়ে যে – বীমাকারী তা থেকে প্রতিশ্রুতি তুলে নেন অথবা তার জন্যে বীমাগ্রহীতাকে অতি উচ্চ সেলামী দিতে হয় ; এমনকি, দুটোই একাধারে হতে পারে।

বীমার মূল উদ্দেশ্যই হলো, সম্ভাব্য ক্ষতির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু, যে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষতিটির সম্ভাবনার মাত্রা ৫০% ভাগের ‘অধিক, সে ক্ষেত্রেই বীমাকারী প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করে থাকেন।
পরিশেষে, বলা প্রয়োজন যে, বীমাযোগ্য ঝুঁকির অত্যাবশ্যকীয় উপাদানগুলি মোটামুটিভাবে উপরে বর্ণিত হলো। তবে, এগুলি ভাষাস্তরে এবং উপস্থাপনের ভিন্নতায় আরও বিস্তৃতি ও বিশ্লেষণের অবকাশ রাখে।
