বীমাপত্র প্রদান – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” জীবন বীমা” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
Table of Contents
বীমাপত্র প্রদান

বীমাকারী বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে ১ম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর বীমাগ্রহীতার নামে বীমাপত্র পাঠিয়ে দেন। এই বীমাপত্রই হলো বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে গঠিত ও সম্পাদিত বীমাচুক্তির দলিল। তবে, এ দলিলখানাতে বীমা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদিও সন্নিবেশিত করে প্রস্তুত করতে বেশ কিছু সময় লাগে বলে বীমাকারী ১ম কিস্তি পাওয়ার সাথে সাথে বীমাগ্রহীতাকে প্রিমিয়াম প্রাপ্তির রশিদের মত এক প্রকার প্রতিরক্ষাপত্র বা ঋণস্বীকারপত্র (Cover Note) দিয়ে থাকেন।
বীমাগ্রহীতার নাম, ঠিকানা, পেশা, বয়স, বীমাকৃত টাকার পরিমাণ, প্রিমিয়াম কখন কিভাবে এবং কি পরিমাণে প্রদেয়, কত বছর পর বীমার টাকা প্রাপ্য, মনোনীত ব্যক্তির নাম ইত্যাদি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি ও বিবরণ সন্নিবেশে প্রস্তুতকৃত বীমাপত্র বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে যথাসময়ে পাঠিয়ে দেন। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, ১ম কিস্তির টাকা প্রদানের পর এবং উক্ত বীমাপত্র পাওয়ার মধ্যেও যদি বীমাগ্রহীতা মারা যান, তাহলেও বীমাকারী চুক্তি মোতাবেক বীমাদাবী পরিশোধে দায়বদ্ধ ও বাধ্য থাকেন।
জীবন বীমাপত্র সাধারণতঃ দুধরনের হয়। যথাঃ –
১. বর্ণনামূলক ( Narrative) ও ২ তফসিলযুক্ত (Schedule added)। তবে, বর্ণনামূলক বীমাপত্রে চুক্তির শর্তাবলী এবং বীমাকারীর অধিকারসমূহ সহ যাবতীয় বর্ণনা সন্নিবেশে তৈরী করা যেমন সময় সাপেক্ষ – তেমনি ব্যয়সাধ্য। তাই, কালক্রমে সময়ের তাগিদে তফসিলযুক্ত সংক্ষিপ্ত ধরণের বীমাপত্রের প্রচলন শুরু হয়। তফসিলযুক্ত বীমাপত্রের কয়েকটি অংশ থাকে। যেমন : –
তফসিলযুক্ত বীমাপত্রের অংশ:
ক. শিরোনাম (Heading) :
এ অংশটি স্বভাবতঃই বীমাপত্রের শিরোভাগ। এ অংশে বীমা প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।
খ. ভূমিকা ও কার্যকরী দফা (Preamble & Operative Clause) :
বীমাপত্রের এ অংশে বীমাচুক্তির তথা প্রস্তাবিত বা সম্ভাব্য বীমাগ্রহীতা কর্তৃক প্রদত্ত প্রস্তাব এবং প্রথম কিস্তির প্রাপ্তি স্বীকার করে লিখিত প্রস্তাব ও ঘোষণাকে চুক্তির ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়ে তফসিলে বর্ণিত ঘটনা সংঘটনের যথার্থ প্রমান সাপেক্ষে বীমাকারী কর্তৃক বীমাকৃত অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ থাকে।
গ. কড়ার (Provisos or Provisory Clause) :
বীমাপত্রের ছাপানো শর্তাবলী, সুবিধাদি তফসিল, কোন প্রকার পৃষ্ঠ লিখন ইত্যাদি থাকলে, তাকে মূল চুক্তির আওতায় আনার বিষয়ে এ অংশে উল্লেখ থাকে।
ঘ. তফসিল (Schedule) :
এটি বীমাপত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ অংশে প্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদানের জন্যে একটি ছক বিন্যস্ত থাকে।
ঙ. প্রত্যয়ন [Attestation) :
তফসিল-এর শেষে থাকে বীমাপত্রের প্রত্যয়ন অংশ। এ অংশে বীমাপত্র ইস্যু করার স্থান, তারিখ এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর সন্নিবেশিত হয় যা উপরের তফসিল নমুনায় প্রদর্শিত হয়েছে।
চ. বীমাগ্রহীতার সুবিধাসমূহ ( Previleges for the insured) :
জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান বীমাগ্রহীতাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে, তা বীমাপত্রের অপর পৃষ্ঠায় মুদ্রিত থাকে। নিম্নে সেসব সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো : –
(i) অপ্রতিবাদযোগ্যতা (Incontestability) :
জীবন বীমাচুক্তি গঠন ও সম্পাদনে প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতাকে, চুক্তি তথা চুক্তির বিষয়বস্তু সংক্রান্ত যেসব তথ্যাদি অকপটে এবং খোলাখুলিভাবে বলা প্রয়োজন, সেসব তথ্যাদি চূড়ান্ত সন্ধিশ্বাস ও সদিচ্ছার সাথে সম্যক ও যথার্থভাবে বর্ণনা করতে হয়। এর অন্যথা হলে চুক্তি বাতিলযোগ্য বলে গণ্য হয়। কিন্তু, যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে তেমন কোন ভুল-ত্রুটি হয়, তাহলে বীমাগ্রহীতাদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই, বীমাপত্রটি এরূপ অবস্থায় অন্ততঃ দু’বছর পর্যন্ত চালু থাকলে বীমাচুক্তিটিকে বাতিলযোগ্য বলে গণ্য করা হয় না।
জীবন বীমা চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে বীমাগ্রহীতাকে প্রদত্ত এ ছাড় বা শিথিলতাকে অপ্রতিবাদযোগ্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে, প্রতারণামূলকভাবে এরূপ করা হয়ে থাকলে বীমাগ্রহীতা অপ্রতিবাদযোগ্যতা-র সুযোগ পাবেন না।
(ii) অনুগ্রহের দিনসমূহ (Days of Grace) :
কখনও কোনও অনিবার্য কারণে বীমাগ্রহীতা চুক্তি মোতাবেক বীমা কিস্তির টাকা প্রদানে অপারগ হতে পারেন। সেদিক বিবেচনা করে বীমাকারীগণ বীমাগ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধের জন্যে কিছু দিন বাড়িয়ে দিতে থাকেন যাকে অনুগ্রহের কাল বা দিনসমূহ হিসেবে অভিহিত করা হয়। ১৫ থেকে ৩০দিন ‘অনুগ্রহের কাল’ হতে পারে। অনুগ্রহের কালের মধ্যে বীমাগ্রহীতা মারা গেলে উপযুক্ত প্রিমিয়াম কেটে রেখে বাকী টাকা বীমার অর্থ বা দাবী হিসেবে প্রদান করা হয়।
(III) সমর্পণ বা প্রত্যর্পণ মূল্য (Surrender Value) :
বীমাগ্রহীতা যদি ২/৩ বছর কিস্তি প্রদান করে আর কিস্তির টাকা প্রদান করতে না পারেন, তাহলে বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে বীমাপত্রটি সমর্পণ (Surrender) করার এবং আনুষঙ্গিক খরচাদি বাদে বাকী টাকা প্রত্যর্পণ বা ফেরত প্রদান করেন যাকে প্রত্যর্পণ বা সমর্পন মূল্য (Surrender Value) হিসেবে অভিহিত করা হয়। সাধারণতঃ প্রথম বছর বাদে অন্য/অন্যান্য বছরের পরিশোধিত কিস্তির অর্থের অন্ততঃ শতকরা ৩০/৪০ ভাগ প্রত্যর্পণ মূল্য হিসেবে প্রদান করা হয়। বীমা পরিকল্পনার ধরন বীমাপত্র চালু থাকার মেয়াদ, বীমাগ্রহীতার বয়স ইত্যাদির বিচার করে প্রত্যর্পণ মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
(iv) পরিশোধিত বীমাপত্র লাভের সুযোগ (Previlege for Paid up Policy) :
দুই বা ততোধিক বছর বীমাপত্র রেখে কোন বীমাগ্রহীতা আর চালিয়ে যেতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে বীমাগ্রহীতা প্রদত্ত প্রিমিয়ামের অর্থকে ‘নগদ প্রত্যর্পণ মূল্য’ হিসেবে ধার্য করিয়ে মূল বীমাকে অপেক্ষাকৃত কম টাকার এককালীন পরিশোধিত বীমায় রূপান্তরিত করার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। মুনাফাযুক্ত বীমাপত্রে পরিশোধিত অঙ্কের সাথে বিলিযোগ্য বা অর্জিত বোনাস যোগ করা হয়।
বীমাপত্রের পরিশোধিত মূল্য বের করার সূত্র হলো : –
পরিশোধিত মূল্য = মূল বীমার প্রদেয় কিস্তির সংখ্যা/মূল বীমার অঙ্ক* মোট পরিশোধিত কিস্তির সংখ্যা মুনাফাযুক্ত বীমাপত্র হলে স্বভাবতঃই অর্জিত বোনাস সেই সাথে যুক্ত করা হয়।
(v) বাজেয়াপ্ত বিরোধী ব্যবস্থা (Non-forfeiture System) :
বীমাপত্র ২/৩ বছর চালু রাখার পর বীমাগ্রহীতা কোন কারণে বীমা কিস্তি প্রদান করতে অপারগ হলে বীমাপত্রটি বাতিল না করে নগদ প্রত্যর্পণ মূল্যের সাহায্যে বীমাপত্রটিকে চাল রাখার যে সুযোগ প্রদান করা হয়, তাকে বাজেয়াপ্তি-বিরোধী ব্যবস্থা বলা হয়। নিম্নে বর্ণিত বিভিন্ন পন্থায় এসুযোগ প্রদান করা হয় –
(অ) বীমাপত্রের নগদ সমর্পণ মূল্য থেকে প্রদেয় কিস্তির টাকা কর্জ হিসেবে গ্রহণ করে যতদিন সম্ভব বীমাপত্রটি চালু রাখা।
(আ) নগদ সমৰ্পণমূল্য প্রয়োগে এককালীন কিস্তি প্রদেয় সামজিক বীমাপত্র প্রদান করে মেয়াদের বাকী সময় বা তার কোন অংশের জন্যে বীমাগ্রহীতার মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করা।
(ই) নগদ সমর্পণ মূল্য থেকে ৬ মাস পর্যন্ত কিস্তি গ্রহণ বা আদায়ের পর কোন কিস্তি আদায় না করলে মূল বীমাকে পরিশোধিত বীমায় রূপান্তর করা।
(ঈ) কিস্তি আদায়ের ধার্য তারিখ থেকে নগদ সমর্পন মূল্য প্রয়োগে মূল বীমাপত্রকে পরিশোধিত বীমার রূপান্তর করা
(ই) কর্জ ব্যবস্থা (Loan system) : সাধারণতঃ নগদ সমর্পণ! মূল্যের শতকরা ৯০/৯৫ ভাগ দায়মুক্ত বীমাপত্রের উপর যথোপযুক্ত সুদে কর্জ প্রদান করা হয়। এ ধরনের কর্জের অর্থ বীমাপত্রের মেয়াদের মধ্যে সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা যায় বা যথাসময়ে সুদ আদায় সাপেক্ষে মূল কর্জের অর্থকে বীমার দায় পরিশোধ করার সময় বীমাকৃত অর্থ থেকে আদায় করার ব্যবস্থা করা যায়। তবে, নিয়মিত সুদ আদায় না করার ফলে কর্জের পরিমান সুদে-মূলে নগদ সমর্পণ মূল্যের সমান হয়ে গেলে মূল বীমা চুক্তি বাতিল হয়ে যায় এবং সমর্পণ মূল্যের সাহায্যে কর্ম পরিশোধ করা হয়।

(vii) বাতিল বীমাপত্র পুনরুজ্জীবন (Revival of Lapsed • Policy) :
নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ না করায় বীমাপত্র বাতিলযোগ্য হয়। তবে, বীমাকারী সে বীমাপত্র বাতিল না করে বরং, বাজেয়াপ্তি রদকরণ পদ্ধতিতে বীমাগ্রহীতা কর্তৃক অর্জিত সমর্পণ মূল্য দিয়ে বীমাকারী বীমাপত্রটিকে যতদিন সম্ভব চালু রাখতে পারেন। কিন্তু, এরূপভাবে চালু রাখার পরেও যখন অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় বীমাপত্রটি আর চালু রাখা সম্ভব না হয় বা তা বাতিল হয়ে যায়, বীমাগ্রহীতা উপযুক্ত সুদসহ বাকী কিস্তি প্রদান করে নিজের বীমার উপযুক্ততা প্রমান দিয়ে এরূপ বাতিল চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন (বাতিল বীমাপত্র পুনরুজ্জীবনের প্রসঙ্গে এই অধ্যায়ের ৭ম-পরিচ্ছেদের আরও বর্ণনা রয়েছে)।
(viii) বিশেষ পুনরুজ্জীবন ব্যবস্থা (Special Revival Plan):
যথাসময়ে এবং নিয়মিত কিস্তি প্রদান না করায় বাতিলকৃত বীমাপত্র ৬ মাসের বেশী সময় ধরে বাতিল অবস্থায় থাকলে, মূল বীমাপত্র যতদিন চালু ছিল, পুনরুজ্জীবনের তারিখ নির্ধারণ করে নতুন বীমাপত্র ইস্যু করা যায়। একে বাতিল বীমাপত্রের বিশেষ পুনরুজ্জীবন ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(ix) স্বত্ত্ব নিয়োগের সুবিধা ( Previlege for Assignment ) :
বীমাগ্রহীতা বীমাপত্রে পৃষ্ঠালিখন (Endorsement)-এর মাধ্যমে বা যথোপযুক্ত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে বীমাপত্রের মালিকানা হস্তান্তর করতে পারেন যা স্বত্বনিয়োগ বা স্বত্বার্পণ করতে কোন ষ্ট্যাম্প লাগানোর প্রয়োজন হয় না, কিন্তু, আলাদা দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে স্বত্বার্পণের করতে ষ্ট্যাম্প লাগাতে হয়। স্বত্বার্পণের পর মূল দলিল বা স্বত্বনিয়োগকারীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রতিলিপির সাথে যথাযথ নোটিশ দিয়ে স্বত্বনিয়োগীর নাম-ঠিকানা বীমা প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত করিয়ে নিতে হয়।
স্বত্বনিয়োগ সাধারণত : কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন :
→ নিরঙ্কুশ স্বত্বনিয়োগ (Absolute Assignment) বীমাপত্র বিক্রয় করে, বা অন্য কোন ভাবে বীমাপত্রের অধিকার সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তরকে নিরঙ্কুশ স্বত্বনিয়োগ বলা হয়।
→ বন্ধকী স্বত্বনিয়োগ (Collateral Assignment) : মহাজনের কর্জ পরিশোধ করার জামানত হিসেবে জীবন বীমাপত্রের হস্তান্তরকে বন্ধকী স্বত্বনিয়োগ বলা হয় ।
→ শর্ত সাপেক্ষ স্বত্বনিয়োগ (Conditional Assignment) : স্নেহ-মমতার বশবর্তী হয়ে কোন ব্যক্তির অনুকূলে বীমাপত্রের স্বত্বনিয়োগ হতে পারে। তবে, কোন নির্দিষ্ট ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই স্বত্বনিয়োগীর মৃত্যু হলে বীমাপত্রটি স্বত্বনিয়োগকারীর অথবা তার উত্তরাধিকারীদের হাতে ফিরে আসার শর্ত আরোপিত থাকে বিধায় এ ধরনের স্বত্বনিয়োগকে শর্তযুক্ত স্বত্বনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
→ যৌথ স্বত্বনিয়োগ (Joint Assignment) : বীমাপত্রের সম্ভাব্য স্বত্বনিয়োগী বা সুবিধাভোগী একাধিক ব্যক্তি হলে, তাকে যৌথ স্বত্বনিয়োগ বলা হয়। (X) মনোনয়নের সুবিধা ( Previlege for Nomination) : বীমাগ্রহীতা তার মৃত্যুতে বীমাদাবীর অর্থ গ্রহণের জন্যে নিজের সুবিধা অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। কোন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। কোন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন। কোন ব্যক্তিকে মনোনীত করা না হলে বীমাগ্রহীতার মৃত্যুর পরে বীমাদাবী আদায় করতে অনেকসময় জেলা জজের কাছ থেকে বীমাদাবীর প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হতে পারে। তাই, মনোনয়ন একটি বিশেষ সুবিধা
(xi) অতিরিক্ত বীমা (Enhanced Policy) :
বীমাগ্রহীতা ইচ্ছা করলে মূল বীমাপত্রের ডাক্তারী পরীক্ষায় পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে বীমাকৃত অর্থ বাড়িয়ে নিতে বা প্রবর্তিত পরিমাণের বীমাপত্র গ্রহণ করতে পারেন।
(xii) বীমাপত্রের পরিবর্তনের সুবিধা ( Previlege for the Convertibility of Policy) :
বীমাগ্রহীতাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে বীমাকারীগণ অনেক ক্ষেত্রেই বীমাপত্রের বিভিন্ন পরিবর্তনের সুযোগ দিয়ে থাকেন। যেমনঃ – কিস্তি পরিশোধের পদ্ধতি, বীমাকৃত টাকার পরিবর্তন, এক ধরনের বীমাপত্রকে অন্য ধরনে রূপান্তর, মেয়াদ বাড়ানো ইত্যাদি। তবে, এ পরিবর্তনের সুযোগ গ্রহনের জন্যে বীমাগ্রহীতাকেও বীমাকিস্তির সংখ্যা ও পরিমানে বাড়িয়ে দিতে বা পরিবর্তন করে নিতে হতে পারে।
(xiii) দুর্ঘটনা ও অঙ্গহানির সুবিধা (Previlege for accident and loss of any part of the body) :
কোন দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে বীমাগ্রহীতার যদি মৃত্যু হয় তাহলে তার উত্তরাধিকারীদের বা পোষ্যদের অনেক সময় অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়। চিরতরে পঙ্গু বা অক্ষম হয়ে গেলে অথবা কোন অঙ্গহানি হলে, তার জন্যে বীমাগ্রহীতা অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার সুবিধা দিয়ে থাকেন।
(xiv) পরিচালক নির্বাচনের সুবিধা (Previlege to elect Directors) :
বীমা আইন মোতাবেক বীমাগ্রহীতাদের মধ্য থেকে বীমা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকমণ্ডলীর এক চতুর্থাংশ পরিচালক নিয়োজিত হতে পারেন।
(xv) পুরোনো বীমাগ্রহীতাকে নতুন বীমাপত্র প্রদান (New Policy to the old Polley-holder) :
পুরোনো কোন বীমাগ্রহীতা যদি ইতিপুর্বে গৃহীত বীমাপত্রের ডাক্তারী পরীক্ষার দিন থেকে পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে আরও নতুন বীমাপত্র গ্রহণ করতে চান, তাহলে অনেক সময়ই আর কোন ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই নতুন বীমাপত্র পেতে পারেন। তবে, তার জন্যে বীমাগ্রহীতাকে পুবর্তন ডাক্তারী পরীক্ষার পর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সুস্থ থাকার ঘোষণাসূচক নির্ধারিত ফরম পূরণ করে স্বাক্ষরসহ জমা দিতে হয়।
(xvi) কিস্তি রেয়াত বা রিবেট (Rebate) :
অনেক সময় মোটা অংকের বীমাপত্র গ্রহণ করলে বীমাকারী বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে কিস্তির টাকা থেকে নির্দিষ্ট হারে কিছু কম গ্রহণ করেন বা রেয়াত প্রদান করেন যা কিস্তি অব্যাহতি বা রেয়াত (ড়এবঅটএ) নামে অভিহিত। মোটা অংকের বীমার প্রতি আকর্ষন সৃষ্টি করতে বীমাকারীগণ সাধারণতঃ এরূপ সুযোগ দিয়ে থাকেন।
(xvii) হারানো বীমাপত্রের কপি ইস্যুর সুবিধা ( Previlege for re-Issuing of Lost Policy) :
কখনও বীমাগ্রহীতা যদি বীমাপত্রটি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে বীমাকারীকে সাথে সাথে বীমাপত্রের পূর্ণ বিবরণীস্হ জানাতে হয়। হারানোর সন্তোষজনক প্রমান পাওয়ার পরে বীমাকারী পত্রিকায় হারানো বা নষ্ট হয়ে যাওয়া বীমাপত্রের জন্যে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন এবং বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে কিছু ফি গ্রহণ করে বীমাপত্রের দ্বিতীর কপি ইস্যু করেন।
এরূপ আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা বীমাকারীগণ বীমাগ্রহীতাদের প্রদান করে থাকেন। যেমন : – প্রতিভডেন্ট ফাণ্ডের মাধ্যমে জীবন বীমা গ্রহণ, শরবর্তীতে বয়সের প্রমান প্রদান, যুদ্ধের ঝুঁকি বহন, আত্মহত্যা, ভ্রমন, বসবাস ও পেশা ইত্যাদি বিভিন্ন ব্যাপারে বীমাকারীগণ প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধাসমূহ। কেননা, আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক কারবারী জগতে যে বীমাকারী নিজস্ব অস্তিত্ব ও লাভজনক অবস্থা বজায় রাখতে এবং তদুদ্দেশ্যে গ্রাহকদের যতবেশী সুযোগ-সুবিধা দিতে পারবেন, সে বীমাকারী জনমনে তত আকর্ষন সৃষ্টি করতে তখা সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবেন।
