বীমা প্রতিনিধির রিপোর্ট – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বীমা প্রতিনিধির মাধ্যমে চুক্তি গঠিত হয়ে থাকলে, সেক্ষেত্রে বীমা প্রতিনিধির প্রতিবেদন পেশ করতে হয়।
এতে –
→ বীমাগ্রহীতার সাথে পরিচয় কত দিনের;
→ প্রায় দেখা হয় কি না;
→ সর্বশেষ কবে দেখা হয়েছে;
→ বীমাগ্রহীতার কোন অসুস্থতা বা রোগের কথা জেনেছেন বা শুনেছেন কিনা, জেনে শুনে থাকলে তার বিবরণ;
→ সম্পূর্ণ সুস্থ কিনা; → জীবন যাত্রা প্রনালী স্বাভাবিক কিনা এবং মিতব্যয়ী কিনা;
→ পেশা খুব বিপদসংকুল কিনা;
→ বীমাগ্রহীতার আনুমানিক মাসিক আয় এবং তার উৎস;
→ বীমা গ্রহনের উদ্দেশ্য কি
→ আবেদন পত্রে বর্নিত তথ্যসমূহ প্রতিনিধি সঠিক মনে করেন কিনা এবং → প্রতিনিধি প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে সুপারিশ করেছেন কিনা—ইত্যাদি প্রশ্নে উত্তর সম্বলিত এ প্রতিবেদন স্বাক্ষর করে তিনি তা জমা দিয়ে থাকেন।
Table of Contents
বীমা প্রতিনিধির রিপোর্ট

ব্যক্তিগত চিকিৎসকের প্রতিবেদন :
জীবন বীমার আবেদনপত্রে এবং / অথবা ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্টে বর্ণিত বীমাগ্রহীতার কোন রোগ-ব্যাধি বা দুর্ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হলে বীমাকারী প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে তা জানতে চেয়ে চিঠি লেখেন এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নমালা প্রেরণ করেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক তা পূরণ করে উত্তর লিখে পাঠালে বীমাকারী তা আবেদনপত্র এবং/অথবা ডাক্তারী রিপোর্টের সাথে মিলিয়ে ঝুঁকি পর্যালোচনা করে আবেদনপত্র তথা প্রস্তার গ্রহণ অথবা বাতিল করতে পারেন।
প্রস্তাবকারীর ব্যক্তিগত বন্ধুর মতামত ঃ
অনেক সময় বীমাকারী প্রস্তাবনা পত্রে উল্লেখিত প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতার ব্যক্তিগত বন্ধুর কাছ থেকে প্রস্তাবকারীর শারীরিক অবস্থা, অতীত অসুস্থতা, জীবনযাত্রা পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে চান। কিন্তু, প্রায় ক্ষেত্রেই বন্ধুর কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না, এমনকি, আদৌ কোন উত্তরই পাওয়া যায় না বলে ইদানিং এ ধরনের প্রশ্নপত্র পাঠানোর সে রীতি নেই বললেই চলে।
বীমা প্রতিনিধির কাছ থেকে যে প্রশ্নাবলী সন্নিবেশিত ফরম এর মাধ্যমে তথ্যাদি জানতে চাওয়া হয় প্রায় তেমনি প্রশ্নাবলীর মাধ্যমেই প্রস্তাবকারীর ব্যক্তিগত বন্ধুর কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়। উল্লেখ্য যে – যৌথ জীবনবীমা বা অন্যবিধ জীবন বীমাপত্রে একাধিক জীবনের উপর প্রস্তাব থাকলে তাদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন আবেদনপত্র, পরীক্ষা ও প্রতিবেদন প্রয়োজন হয়।
আবেদন তথা প্রস্তাব নির্বাচন :
প্রস্তাবকারীর আবেদনপত্র এবং অন্যান্য রিপোর্টসমূহ তথা প্রয়োজনীয় ও সংগ্রহযোগ্য সব কাগজপত্র এবং তথ্যাদি বীমাকারীর কাছে এসে পৌঁছলে তা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞগণ – যথাঃ প্রধান ডাক্তারী পরামর্শদাতা, একচুয়ারী প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে বাছাই করা হয়। এই বাছাই এর ফলাফল ৪টি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যথা:-
(ক) যেসব প্রস্তাব বা আবেদন ব্যক্ত প্রিমিয়ামের হারেই গ্রহণযোগ্য।
(খ) যেসব প্রস্তাব ব্যক্ত বা প্রকাশিত প্রিমিয়ামের হার প্রার্থীত ধরনে গ্রহণযোগ্য নয়, কিন্তু, বাড়তি প্রিমিয়াম ধার্য করে বা বীমা পরিকল্পনার কোন পরিবর্তন করে অথবা কোন রকম পূর্বস্বত্ব আরোপ করে গ্রহণযোগ্য।
(গ) যেসব আবেদন কিছুদিন স্থগিত রেখে আবার ডাক্তারী পরীক্ষার পরে বিবেচ্য এবং
(ঘ) বীমার অযোগ্য আবেদন বা প্রস্তাবনাপত্র।

প্রস্তাব গ্রহণ :
প্রস্তাব নির্বাচনের পর ১ম শ্রেণীর প্রস্তাবকারীগণকে প্রস্তাব গ্রহণের কথা স্বীকৃতি বা সম্মতিপত্র ইস্যু করে জানিয়ে দেয়া এবং সেই সাথে প্রথম প্রিমিয়ামের পরিমাণ এবং পরিশোধের স্থান ও তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু, ১ম কিস্তি পেয়ে পাকা রশিদ ইস্যু না করা পর্যন্ত বীমাকারী প্রস্তাবিত জীবন বীমার কোন দায় গ্রহণ করেন না।
উপরন্তু, ডাক্তারী পরীক্ষার তারিখ থেকে ১ম কিত্তি পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতার স্বাস্থ্যের কোন অবনতি হলে বা তার জীবনে যদি ঝুঁকির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণ ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে তার পূর্ণ বিবরণ বীমাকারীকে জানিয়ে সম্মতিপত্র পুনরায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়।
উক্ত তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম কিস্তি প্রদান না করলে প্রস্তাবকারীকে তার সুস্থতার যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে। অন্যথায়, বীমাকারী দায় গ্রহণ করবেন না। তাছাড়া, সম্মতিপত্রে বর্ণিত সময়ের মধ্যে ১ম কিস্তির টাকা প্রদান না করলে ডাক্তারী পরীক্ষার তারিখ থেকে ৬ মাসের মধ্যে “অবিরাম ভালো স্বাস্থ্যের ঘোষণাপত্র” দাখিল করে কিস্তি পরিশোধ করা যায়; অন্যথায়, দায় গ্রহণযোগ্য হয় না।
বয়সের প্রমান :
প্রস্তাবিত বীমাগ্রহীতা আবেদনপত্র তার বয়স সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন তার অনুকূলে বীমাকারী প্রমাণ দাবী করেন। এই প্রমানপত্র বীমাপত্র চলাকালীন যে কোন সময় প্রদান করা যেতে পারে। যদি কোন কারণে বীমাগ্রহীতার মৃত্যুর আগে তা দেয়া সম্ভব না হয়ে থাকে, তাহলে মনোনীত ব্যক্তিকে তা দাখিল করতে হয়। অন্যথায়, দাবীর টাকা পরিশোধ করা হয় না।
