আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় মূল্যায়ন যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অর্ন্তভুক্ত।মূল্যায়ন করা বিষয়ে ব্যাখ্যার কোন অবকাশ নেই যে, কোন কারবার প্রতিষ্ঠান আরম্ভ ও পরিচালনা করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে—মুনাফা অর্জন করা, তথা মালিক বা উদ্যোক্তাদের অর্থোপার্জন। মুনাফা অর্জন করতে হলে দরকার প্রতিষ্ঠানটি বা কার্যক্রমটি সফলভাবে তথা নিরবচ্ছিন্ন ও লাভজনকভাবে পরিচালিত হওয়া। তবে, লাভজনকভাবে পরিচালিত হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে ভোক্তা ও জনসাধারণের আকর্ষণ ও আস্থা অর্জন এবং তা ধরে রাখা।
মূল্যায়ন

আর, এই যে মুনাফা -অর্জন, লাভজনকতা, সাফল্য ইত্যাদি বোঝার জন্যে যা দরকার তা হচ্ছে ‘মূল্যায়ন’। অর্থাৎ কোন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও গতিধারা নিরূপণ করার যে প্রক্রিয়া, তাকেই এখানে-এর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
বীমাও একটি কার্যক্রম তথা প্রতিষ্ঠান। বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্যে প্রয়োজন রয়েছে এটি। বীমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তহবিল ও লাভ-ক্ষতির পরিমান নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে প্রক্রিয়া তাকেই বলা হয়- মূল্যায়ন। কেননা, বীমা প্রতিষ্ঠান সাফল্যের সাথে টিকে থাকা ও পরিচালনার মূল উপাদানই হচ্ছে পর্যাপ্ত তহবিল এবং এই তহবিল নিশ্চিত হয় নিরবচ্ছিন্নভাবে (কোন ব্যতিক্রম ছাড়া) মুনাফা -অর্জন করে চলার মাধ্যমে।
এ জন্যেই বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার এটি করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য যে, ১৯৩৮ সালের বীমা আইন অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর প্রতিষ্ঠানের তহবিল তথা আর্থিক অবস্থা যাচাই করা একান্ত অপরিহার্য।
পরবর্তীতে প্রতি তিন বছর অন্তর এটি করার সংবিধি প্রবর্তিত হয়। প্রয়োজনে তার কম সময়ের ব্যবধানেও তা করা যেতে পারে। যাই হোক, বীমা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা যাচাইকরণের বা মূল্যায়নের মূলতঃ দু’টি উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা :
(১) তহবিলের পরিমাণ নির্ধারণ ও (২) লাভ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ।
মুল্যায়নের সংজ্ঞা প্রদানে বিভিন্ন লেখক ও গ্রন্থকারগণের দৃষ্টিভঙ্গীতে প্রায় একই তাৎপর্য বহন করছে। নিম্নে কয়েকজনের অভিমত উদ্ধৃত করা হলো : –
এম. কে. ঘোষ এবং এ. এন. আগরওয়ালা প্রণীত। Insurance- principles, Practice and Legislation – গ্রন্থে এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে — “Valuation may be defined as a periodical examination of the financial position of an insurance company meant to judge the adequacy of the Insurance Fund and to calculate its true profit or loss,
(বীমা তথ্যবলের পর্যাপ্ততা যাচাই করা এবং প্রকৃত লাভ-ক্ষতি হিসেব করার কোন বীমা কোম্পানীর আর্থিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখার জন্যে একটি পোষ্ট সময় ভিত্তিক প্রক্রিয়াকেই বলা হয় মূল্যায়ন)”।আর. এস. শর্ম্মা (R. S. Sharma) -র মতে – “The process of computing the reserve is termed Valuation) সঞ্চিতি হিসেব করার প্রক্রিয়াকেই মল্যায়ন বলা হয়)”।
এম. এন. মিশ্র (M. N. Mishra ) বলেন -duation is a process to value the net liabilities of a life insurer and to compare his liabilities with the available funds as on a particular date এটি হলো কোন জীবন বীমাকারীর নীট দায় এর এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রাপ্য বীমা তহবিলের সাথে উক্ত নীটি দায়ের তুলনা করার একটি প্রক্রিয়া)”।
উক্ত সংজ্ঞাগুলি বিশ্লেষণ করলে অবশেষে স্পষ্টতঃ বোধগম্য যে দায় মিটাতে বা পরিশোধের জন্যে বীমাকারীর পর্যাপ্ত তহবিল আছে কিনা তা দেখা ও বোঝার জন্যে যে প্রক্রিয়া তাকেই বলে মূল্যায়ন।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, মূল্যায়ন স্বভাবতঃই একটি জটিল প্রক্রিয়া করার জন্যে একাধারে গণিত, পরিসংখ্যান ও বীমা এ তিনটি বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নির্বাহীর প্রয়োজন। বীমাকারী, প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগকৃত ধরনের নির্বাহীদের বীমা বিশারদ ( Actuary) নামে অভিহিত করা হয় এবং এধরনের ব্যক্তিদের নাম বীমা কোম্পানীর নিবন্ধকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নিয়ে হয়।
