মোট কিস্তি

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় মোট কিস্তি যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। বীমা ব্যবসায়ের মূল কাজই হলো চুক্তিবলে বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে কিস্তি বা সেলামী গ্রহণ করে প্রতিদানে বীমাদাবী পরিশোধ করা। তবে, সে কাজ সমাধা করতেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয় তথা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়।

আর, এ জন্যে যে ব্যয় নির্বাহের প্রয়োজন হয় তা বীমাকারী নিজের তহবিল থেকে দেন না, বরং প্রিমিয়াম হিসেবে বীমাগ্রহীতাদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করে থাকেন। লক্ষ্য করলেই বুঝা যাবে যে – নীট প্রিমিয়াম দিয়ে অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয় না; কারণ, আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে – নীট প্রিমিয়াম কেবলি বীমাদাবী পরিশোধের জন্যে নির্ধারিত ও পর্যাপ্ত।

মোট কিস্তি

 

মোট কিস্তি

সুতরাং, নটি প্রিমিয়াম-এর সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যাবতীয় খরচাদি যুক্ত করে মোট প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য যে নীট প্রিমিয়ামের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক খরচাদি যুক্ত করাকে বলা হয় খরচ বোঝাই করণ (Loading)। মোট প্রিমিয়ামকে প্রকৃত প্রিমিয়াম বা অফিস প্রিমিয়াম (Actual or Office Premium) ও বলা হয়।

 

নীট কিস্তি বা প্রিমিয়ামের সাথে যে সব খরচাদি যুক্ত করে মোট প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয় তা হলো : 

১। প্রাথমিক খরচসমূহ ( Preliminary Expenses)

(ক) ডাক্তারী পরীক্ষার ফি

(খ) বীমাপত্রের ষ্ট্যাম্প, (গ) বীমা প্রতিনিধির দস্তুরী এবং

ঘ) বীমাপত্র ইস্যু ও প্রতিবেদন প্রস্তুতকরণ সংক্রান্ত অফিস খরচসমূহ।

 

২। নিয়মিত বা পৌনঃপুনিক খরচাদি (Recurring Expenses)

(ক) নবায়ন দস্তুরী

(খ) প্রিমিয়াম সংগ্রহের বিজ্ঞপ্তি প্রদান সংক্রান্ত অফিস খরচসমূহ এবং

(গ) ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নিয়মিত খরচাবলী।

নীট ও মোট -কিস্তি নির্দ্ধারণ বা হিসেবকরণ প্রক্রিয়া Process for the calculation or computation of Net & Premium মোট-কিস্তি নির্ধারণের লক্ষ্যেই প্রথমে নীট কিস্তি নির্দ্ধারণ করা হয়। মৃত্যুহার পঞ্জীর সাহায্যে গণনা বিশেষজ্ঞগণ (Actuaries) কোন বিশেষ বয়ঃক্রমের বীমাগ্রহীতা শ্রেণীর মৃত্যুহার এবং তাদের বীমাদাবীর পরিমাণ হিসেব করেন।

তারপর,সংগৃহীত বীমাকিত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ সংরক্ষণের মাধ্যমে সৃষ্ট তহবিলের অর্থ বিনেয়োগ করে যে সুদ পাওয়া যায় তা বাদ দিয়ে নীট কিত্তি নির্ধারণ করা হয়।

নীট কিস্তির সাথে বিভিন্ন খরচাদি ও মুনাফা বাবদ কিছু পরিমাণের অর্থ যুক্ত করে মোট-কিস্তি নির্ধারণ করা হয়। নীট কিস্তির সাথে কিপরিমাণ অর্থ যুক্ত হয়ে মোট- কিস্তি নির্ধারিত হতে পারে তার জন্যে ডঃ প্রাগ একটি সূত্র দিয়েছেন যা আাগ সূত্র (Spruge’s Formula) নামে খ্যাত।

উক্ত সুত্র অনুযায়ী নীট বা মূল কিস্তিত সাথে নিম্নোক্ত হারে খরচাবণী যুক্ত হয় :-

(১) বীমাকৃত অর্থের উপর ১২ হারে প্রতিনিধির দস্তুরী (Agent’s Commission).

(২) বার্ষিক কিস্তির ৭২ ভাগ নবায়ন দস্তুরী এবং

(৩) বীমাকৃত অর্থের ২২ ভাগ ব্যবস্থাপনা খরচ (প্রতিবছর)।

 

মোট কিস্তি

 

আধুনিক বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহে ডঃ প্রাগ-এর সূত্রের সাহায্য আংকিক প্রক্রিয়ায় কিস্তি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে যা আরও বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশ রাখে।

Leave a Comment