অগ্নি বীমাপত্রের বিশেষ শব্দাবলী ও শর্তসমূহ

আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নি বীমাপত্রের বিশেষ শব্দাবলী ও শর্তসমূহ ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

অগ্নি বীমাপত্রের বিশেষ শব্দাবলী ও শর্তসমূহ

 

অগ্নি বীমাপত্রের বিশেষ শব্দাবলী ও শর্তসমূহ

 

 

বলতে গেলে অগ্নিবীমা অদ্যাবধি স্বতঃ সৃষ্ট বা স্বয়কৃত বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। কেননা, জীবন বীমা ও নৌ-বীমা নির্দিষ্ট সংবিধিমালা বা লিখিত আইন দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু, অগ্নিবীমার জন্যে রাষ্ট্রীয়, সরকারী তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রণীত কোন বিধিমালা হয়নি। ফলে, অগ্নিবীমার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সাধারণভাবে যে সব নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে থাকেন সেসব প্রচলিত এবং মূলতঃ অলিখিত রীতি-নীতি ও বিধি-বিধানের ভিত্তিতেই অগ্নিবীমার কর্মকাণ্ড তথা কারবার পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে থাকে যা সাধারণ বিধি ( Common law) হিসেবে অভিহিত হয়।

অবশ্য, প্রত্যেক অগ্নিবীমা কোম্পানীই সাধারণভাবে অনুসৃত ঐ নীতমালার আলোকে স্ব স্ব উদ্যোগে নিজস্ব ফরম তৈরী করে নেন। এভাবে অগ্নি বীমা চুক্তি গঠন ও পালনের উদ্দেশ্যে যে দলিল সম্পাদন করা হয়, তাকেই অগ্নি বীমাপত্র বলা হয়। এই অগ্নিবীমাপত্র সমুহের পেছনে প্রত্যেক কোম্পানী স্ব স্ব নিয়ম-নীতিমালা লিপিবদ্ধ করে নেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেকেই অনেক কম শর্তাবলী ও নিয়ম-নীতি রাখতেন। কিন্তু, কালক্রমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবন-যাত্রায় জটিলতা ও ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে প্রায় সব অগ্নি বীমা প্রতিষ্ঠানই শর্তাবলী ও নিয়ম-নীতি বাড়িয়ে তুলতে থাকে।

বাড়তে বাড়তে ঊনবিংশ শতকের শেষ দিক এ নিয়ম-নীতি ও শর্তাবলীর বোঝা বীমাপত্রগুলিকে এতটা জটিল ও ভারাক্রান্ত কারে তোলে যে, গ্রাহক সাধারণের মধ্যে এর একটি দারুণ বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আর, তারই ফলশ্রুতিতে প্রায় সব রীমাকারীগণই শর্তাবলী ও নিয়ম-নীতি কমিয়ে আনতে থাকেন। কিছু সংখ্যক বীমাকারী আবার ‘শতহান বীমাপত্র’ চালু করে দেন। এটিও আবার একটি ভ্রান্তিকর পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হয়।

এরূপ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট বীমাকারীগণ একত্রিত হয়ে সবদিক পর্যালোচনা করে যেসব শর্ত ও নিয়ম-নীতি একান্ত প্রয়োজনীয়, সেগুলোকে সন্নিবেশিত করে একটি আদর্শ বীমাপত্রের নমুনা দাড় করালেন। ১৯২২ সালেই এই আদর্শ বীমাপত্রটিকে প্রায় সব অগ্নিবীমা কোম্পানী করে নেয়। এটি সহজ ও সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে প্রায় সকলেই গ্রহণ করলেন। এই আদর্শ বীমাপত্র (Standard Policy)-তে ১১টি শর্ত সন্নিবেশিত হয়। এগুলিকে ব্যক্ত বা উক্ত শর্ত | Expressed Condition) হিসেবেও অভিহিত করা হয়।নিম্ন সে শর্তগুলি উল্লেখ করা হলো :

১. ভ্রান্ত বা মিথ্যা বর্ণনা ( Misdescription)

২. রদবদল বা পরিবর্তন ( Alteration) 

৩. পরিহরণ বা বর্জনসমূহ । Exclusions).

৪. বীমাদাবী (Claim).

৫. প্রতারণা (Fraud).

৬. পুনস্থাপন (Reinstatement) 

৭. অগ্নিকাণ্ডের পর বীমা কোম্পানী বা বীমাকারীর অধিকারসমূহ (Company’s or Insurer’s Rights after fire) 

৮. অংশগ্রহণ বা বণ্টন ও গড় ( Contribution and averagel.

৯. স্থলাভিষিক্ততা ( Subrogation). 

১০. বীমাকৃত সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলী শর্তাবলী | Warrantles)

১১. সালিসী ( Arbitration)। উপরোক্ত লিখিত বা ব্যক্ত শর্তসমূহ সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো :-

১. ভ্রান্ত বা মিথ্যা বর্ণনা ( Misdescription) : বলা বাহুল্য যে বীমাচুক্তি হলো চুড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি। সুতরাং চুক্তি সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষ যদি মিথ্যা বর্ণনা, ভুল তথ্য পরিবেশন অথবা তথ্য গোপন করা ইত্যাদির মাধ্যমে ঐ চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস ভঙ্গ করেন তাহলে বীমাচুক্তি বাতিলযোগ্য হিসেবে পরিগণিত হয়। বিশেষতঃ বীমাকারী কর্তৃক সরবরাহকৃত প্রস্তাবনা পত্রে জিজ্ঞাসিত বিষয়াদি সম্পর্কে বীমাগ্রহীতা যদি ভুল বা মিথ্যা বিবরণ প্রদান করেন বা তথ্য পরিবেশনে অতিরঞ্জন অথবা গোপনীয়তার আশ্রয় নেন, এবং তা প্রমানিত হলে বীমাপত্র বাতিলযোগ্য বিবেচিত হবে এবং তার ফলে বীমাকারী দাবী পুরণে দায়বদ্ধ হবে না। আদর্শ বীমাপত্রে এই ধারাটির সন্নিবেশন নিম্নরূপ—

This policy shall be voidable in the event of misrepresentation, misdescription or non-disclosure in any material particular

[ বীমাপত্রে সাধারণত যেসব প্রশ্ন থাকে তার দুএকটি উল্লেখ করা যেতে পারে। যেমনঃ আপনি কি কখনও লোকসানগ্রস্ত হয়েছেন? কোন কোম্পানী কি আপনার দাবী পূরণে অস্বীকার করেছে। কোন কোম্পানী কি আপনার বীমাপত্র নবায়ন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এরূপ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নসমূহর উত্তর সঠিকভাবে প্রদান না করলে বা উত্তর দানে মিথ্যা অথবা গোপনীয়তার আশ্রম গ্রহণ করলে অবশ্যই চূড়ান্ত সন্ধিশ্বাস ভঙ্গ হয়ে যায় যা চুক্তিকে বাতিলযোগ্য পরিগণিত করে এবং এর প্রমানে সীমাকারী দাবী পূরণে অস্বীকার করতে পারেন।

তবে, বীমাকারীগণ ছোট-খাট কোন কিছুর জন্যে সহজে চুক্তি বাতিল করতে প্রয়াসী হন না। যদি ক্ষতির মাত্রা বেশী হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিক কারণে দায় অস্বীকার করেন। এই ধারাটি সম্পর্কে অনেকের বক্তব্য হলো এটি অপ্রয়োজনীয়। কেননা, এ ধরনের অপরাধতো সাধারণ আইন আমলেই আসে। তথাপি, বীমাকারীগণ স্বীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাটি বিশেষভাবে সংযুক্ত করে নেন।]

২. রদবদল বা পরিবর্তন (Alteration) এই ধারায় বীমাকৃত বিধবস্তুর কোন রদবদল বা পরিবর্তনে বাধা-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কেননা, বীমাগ্রহীতা বীমাকারীর অজ্ঞাতে বা বিনা অনুমতিতে যদি বিষয়বস্তু অন্যত্র সরিয়ে ফেলে, নতুন বিপদজনক বিষয় যুক্ত করে, বাড়িয়ে তুলে বা অন্যভাবে রদবদল সাধন করলে বীমাকারীর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে বা বীমাকারীর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারেন। তবে রীমাকারীকে জানিয়ে তার স্বীকৃতি সাপে েএবং অতিরিক্ত কিস্তি প্রদানের মাধ্যমে কোন রদবদল বা পরিবর্তন করা যেতে পারে। আদর্শ বীমাপত্রে এ ধারাটি যেমন বর্ণিত রয়েছে-

This policy shall be avoided with respect to any tem there of in regard to which there beany alteration after the Commencement of this insurance-Rh 

(i) by renoval or

(ii) Whereby the risk of destruction or damage is increased or

(iii) Whereby the insured’s interest ceases except by will or operation of law D. FITO PIC AND FE Unless such alteration be admitted by Memorandum signed by of on behalf or the Company –

বীমাপত্র প্রদানের বীমাকারী এ ধারাবলে তার পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বীমার বিষয়বস্তু তথা রীমাচুক্তির কোন পরিবর্তনকে অগ্রাহ্য করতে পারেন। [ সাধারণত : বাচ্যাকা নিম্নোকভাবে উক্ত পরিবর্তন করে থাকেন।

(ক) স্থানান্তরণ (Removal) : বীমাগ্রহীতা তার বীমাকৃত বিষয়বস্তু বীম চুক্তি গঠন কালীন যেখানে ছিল সেখান থেকে অন্যত্র কোথাও সরিয়ে নিতে পারেন। যেমন : তার বীমাকৃত আসবাবপত্রগুলি বসতবাড়ী থেকে তার কোন কারখানা গৃহে স্থানান্তরিত করতে পারেন। এত ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়াই স্বাভাবিক যা বীমাকারীর জন্যে ক্ষতিকারক। সুতরাং বীমাকারীর অনুমতি ছাড়া এরূপ করা হলে অবশ্যই বামাকারী দায় অস্বীকার করতে পারেন। তাছাড়া, ঝুঁকি বাড়ুক অথবা নাই বাড়ুক বীমাকারীকে স্থানাস্তর সম্পর্কে অবহিত করাই বিধেয়। 

(খ) বিষয়-বস্তুর পরিবর্তন (Change in subject-matter) : বীমাগ্রহীতা কখনও বীমাকৃত বিষয়-বস্তুতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে বা বদল করে বিষয়-বস্তু পরিবর্তন করতে পারেন। এতে স্বভাবতঃই ঝুঁকি বৃদ্ধি পারে। তাছাড়া বীমাকারীর অনুমতি ছাড়া এরূপ কাজ অনৈতিক এবং অপরাধমূলক। সুতরাং, এক্ষেত্রে বীমাকারী অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দান অস্বীকার করতে অথবা দায় থেকে অব্যাহতি লাভ করতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত সেলামী প্রদান সাপেক্ষে বীমাকারীর স্বীকৃতি নিয়ে এরূপ পরিবর্তন করা যেতে পারে। আর, বীমাকারী পরিবর্তনের পরে সে সম্পর্কে জেনেও অতিরিক্ত সেলামী গ্রহণ পূর্বক দায় স্বীকার করতে পারেন।

(গ) স্বার্থের পরিবর্তন ( Change of interest) : বীমাগ্রহীতা স্বত্ব নিয়োগের মাধ্যমে স্বার্থ হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু, বিষয় বস্তুর তথা স্বার্থের এরূপ হস্তান্তর ধামাকারী অস্বীকার করতে পারেন যদি তার পূর্বানুমতি নেয়া হয় তাছাড়া, স্বত্ব নিয়োগী কোন অসচ্চরিত্রের লোক হতে পারে যা বীমাকারীর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উপরন্তু, অগ্নিবীমা চুক্তি বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে ব্যক্তিগত চুক্তি বিধায় বীমাকারীর পুর্বানুমতি ছাড়া স্বত্বনিয়োগ বা স্বার্থ হস্তান্তর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. পরিহরণ বা বর্জনসমূহ (Exclusions) : অগ্নি বীমা কোম্পানীসমূহ, বা বীমাকারীগণ যেসব অগ্নিঝুঁকি গ্রহণ করবেন সে সম্পর্ক বীমাপত্রে বর্ণনা সন্নিবেশিত করেন। আবার, যেসব ঝুঁকি গ্রহণ করেন না বা পরিহার করেন সেগুলি সম্পর্কেও বর্ণনা থাকে। যেসব ঝুঁকি বীমাকারী বর্জন করেন সেগুলো থেকে সংঘটিত কোন ক্ষতি বীমাকারী সঙ্গতকারনেই পুরণ করে দিতে দায়বদ্ধ হন না। যে সব ঝুঁকি অগ্নিবীমাপত্রে বর্জন করা হয় সেগুলি নিম্নে বর্ণিত হলো –

(১) বীমাপত্রের উপরিভাগে যে সব বিস্ফোরণ সম্পর্কে বর্ণনা থাকে তাছাড়া অন্য কোন বিস্ফোরণ জনিত বিনাশ ক্ষতি (তা অগ্নি দ্বারা অন্য যে কোন ভাবেই হোক না কেন) :

(২) জিম্মাধীন বা ন্যস্ত কোন পণ্যদ্রব্যাদি, অর্থ, ঋণপত্রসমূহ, ষ্ট্যাম্প, দলিলপত্র, পাণ্ডুলিপি, কারবারী বইপত্র, প্যাটার্ন, মডেল, নক্‌সা, ডিজাইন ইত্যাদি বিশেষভাবে বীমাকৃত না হলে এবং

(৩) এমন কোন সম্পত্তির বিনাস বা ক্ষতি যা ক্ষতি সংঘটন কালীন নৌবীমাপত্রের মাধ্যমে বীমাকৃত হয়।

উপরোক্ত ব্যতিক্রম। exceptions) বা পরিহরণ (exclusions) এর আওতাধীন বিষয় বা ক্ষেত্রসমূহেও অতিরিক্ত কিন্তু পরিশোধ করে বীমাগ্রহণ করা যায় যদি বীমাকারী তাতে স্বীকৃত হন। উপরোক্ত বিষয়গুলির ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যক্তিক্রম ও সংশোধন সাপেক্ষে বীমাপত্র প্রদান করা হয়। যেমনঃ বিস্ফোরণ দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি বর্জনকৃত হলেও বিস্ফোরণ জনিত কোন অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি বীমাকৃত হয়।

৪. প্রতারণা (Fraud) : প্রতারণার কারণে বীমাপত্র বা বীমাচুক্তি সর্বদাই বাতিল হয়ে যায়। আদর্শ বীমাপত্রে প্রতারণা সম্পর্কে যা উক্ত রয়েছে তা হলো –

If the claim be in any respect fraudulent or if an frandulent means or devices be used by the insured or anyone acting on his behalf to obtain an benefit under this policy or if any destruction or damage be occasioned by the wilful act or with the connivance of the insured of benefit under this policy shall be forfeited অর্থাৎ, নিম্নোক্ত অবস্থায় বীমাপত্রের প্রাপ্য সকল সুবিধা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে—

(১) যদি বীমাদানী যে কোনভাবে প্রতারণামূলক হয়,

(২) বীমাগ্রহীতা নিজে অথবা তার পক্ষে কেউ যদি সংশ্লিষ্ট বীমাপত্রের অধীনে কোন প্রকার সুবিধা আদায় করতে প্রতারণামূলক কোন পন্থা বা কৌশল অবলম্বন করেন এবং

(৩) বীমাগ্রহীতার উদ্দেশ্যমূলক কোন কাজে বা তার পরোক্ষ সম্মতিতে যদি সম্পত্তির বিনাশ বা ক্ষতি সাধিত হয়।

উপরোক্ত ধারার বিবরণ থেকে বুঝা যায় যে, বীমাগ্রহীতা যদি কোন প্রকার প্রতারণামূলক দাবী উত্থাপন করেন, তাহলে তিনি বীমাপত্রের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। কিন্তু, এ ব্যাপারে কেউ কেউ ভিন্নমত পোষন করেন। উপরোক্ত মতের পাশাপাশি আবার অভিমত ব্যক্তকরেন যে-দাবী প্রতারণামূলক হলেও বীমাকারী বীমাপত্রের আওতায় প্রদেয় সকল সুবিধা প্রদানে অস্বীকার করতে পারেন।.

[আরও জটিলতা রয়েছে। যেমন : বীমাকারী যদি বলেন যে-বিদ্বেষমূলকভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বা বীমাদাবী প্রতারণামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তাহলে বীমাকারীকেই তা আদালতে প্রমাণ করতে হবে। অথচ, অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে এরূপ প্রমান করা যথেষ্ট জটিল ব্যাপার। আর সীমাকারী যদি তাতে ব্যর্থ হন তাহলে উল্টোভাবে বীমাকারীর উপর দোষ চাপে যে, বামাকারী নামমাত্র বা প্রয়োগগত ত্রুটির অজুহাতে বীমাদাবী এড়ানোর চেষ্টা করছেন।]

৫. বীমাদাবী (Claim ) : বীমা সম্পত্তির ক্ষতি সাধিত হলে যেসব নির্দেশাবলী বা নিয়ম-নীত অনুসরণে বীমাগ্রহীতাকে বীমাদাবী উত্থাপন করতে হবে, সে সম্পর্কে এই ধারায় বর্ণিত থাকে। নিম্নোক্তভাবে বীমাগ্রহীতাকে বীমাদাবী উত্থাপন করতে হয়–

(ক) ক্ষতি সংঘটনের সাথে সাথে বীমাগ্রহীতা বীমা কোম্পানী বা বীমাকারীকে অবিলম্বে বিজ্ঞপ্তি মারফৎ জানিয়ে দিবেন।

(খ) সম্পত্তির বিনাশ বা ক্ষতির পর ৩০ দিনের মধ্যে বীমাগ্রহীতা ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জিনিসপত্রের বিবরণ অথবা সম্পদের ধংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশের যথা সম্ভব বিবরণ ও প্রত্যেকটির ক্ষতির পরিমাণ এবং উক্ত সম্পত্তির কোন অংশের অন্য কোন বীমা ছিল কিনা ইত্যাদি সম্পর্কে একটি হিসাবসহ বিবরণ প্রস্তুত করে নিজ খরচে বীমাকারীর কাছে প্রেরণ করবেন। বীমাগ্রহীতা যদি এতদুদ্দেশ্যে আরও কিছু সময় চান তাহলে তাকে বীমাকারীর কাছ থেকে লিখিত সায় (Consent) নিয়ে নিতে হবে।

(গ) এছাড়া, বীমাকারী চাইলে বীমাগ্রহীতা দাবীর সপক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমান ও তথ্যাদিসহ একটি সংবিধিগত ঘোষণা পেশ করবেন।

এসব শর্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এগুলো ছাড়া বীমাদাবী পূরণ করা হয়। না।

 

৬. পুনঃস্থাপন ( Reinstatement) : সাধারণ নিয়ম হলো এই যে, বীমাকৃত সম্পত্তির ক্ষতি হলে বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে তার ক্ষতিপূরণ বা বীমাদারী নগদ অর্থে পরিশোধ করে দেন। কিন্তু, বীমাপত্রের এ ধারাটির মাধ্যমে বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে চুক্তি হয় যে, ক্ষতি সংঘটিত হলে বীমাকারী ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন—অর্থাৎ, সম্পত্তি পুনঃস্থাপন করে দিবেন। দেখে যেন মনে হয় কোন ক্ষতি হয়নি। তবে, সম্পত্তি পুনঃস্থাপন করার জন্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, নকশা, দলিল পত্র এবং অন্যান্য তথ্যাদি বীমাগ্রহীতাই নিজ খরচে সরবরাহ করবেন।

আর, পুনঃস্থাপন করার অর্থ এই নয় যে, সম্পত্তি একদম পূর্ববৎ বা পূর্বাবস্থায় এনে দিতে হবে। অবস্থার প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক সামর্থ্যে ও যুক্তি সঙ্গতভাবে যথাসম্ভব পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে, কোন কারণেই বীমাকারী বীমাকৃত অর্থের চেয়ে বেশী অর্থ খরচ করতে বাধ্য থাকবেন না। (m)

৭, অগ্নিকাণ্ডের পর বীমা কোম্পানীর বা বীমাকারীর অধিকার (Company’s or Insurer’s rights after the Fire) অগ্নিকাণ্ডের ফলে বা অগ্নি দ্বারা বীমাকৃত সম্পত্তি বিনষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অব্যবহিত পর বীমাকারী কি কি অধিকার প্রাপ্ত হন সে সম্পর্কে এই ধারায় উল্লেখিত থাকে। ক্ষতিসংঘটিত খবর বীমাকারী বীমাগ্রহীতার কাছ থেকে অবহিত হওয়ার সাথে সাথে-

(ক) নিধি ধসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির দখল নিতে পারেন অথবা যে দালান বা এলাকার সম্পত্তির হলে বা ক্ষতি সাধিত হয়েছে, সে এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন।

(খ) বীমাকারী বীমাকৃত সম্পত্তির দখল গ্রহণ করতে এবং সম্পতির হস্তান্তর করতে পারেন এবং

(গ) বীমাকারী যুক্তিসঙ্গত সময়ের জন্যে সোও বা ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির দখল বজায় রাখতে পারেন এবং যুক্তিসঙ্গত উপায়ে এবং উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করতে পারেন।

বীমাকারী কর্তৃক এরূপ করার অর্থ দায় গ্রহণ নয়, বরং সম্পত্তির যাতে আরও ক্ষতি না হয় তার আনা অথবা সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর জন্যে এরূপ অধিকার সংরক্ষণ করেন এবং তা প্রয়োগ করেন। এরপর, বীমাকারী অনুসন্ধান করে দেখেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে সম্পত্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে না অনিবার্য, দুর্ঘটনার কারণে আগুন লেগেছে। অনুসন্ধানে যদি প্রমানিত হয় যে, উদ্দেশ্যমুলকভাবে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে, তা হলে বীমাকারী দায় তেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। তবে, যদি দেখা হাই সহ অনিবার্য দুর্ঘটনার কারণে আগুন লেগেছে, তাহলে বীমাকারী। ক্ষতিপুরণ কালে বাধ্য থাকেন।

বীমাগ্রহীতা বা তার প্রতিনিধি যদি বীমাকারীর বাধা-নিষেধ না মেনে চলেন অথবা বীমাকারীর অধিকার অনুযায়ী কার্যপালনে বাধা প্রদান করেন, তাহলেও বীমাকারী বীমাগ্রহীতার সুবিধাদি বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।

৮. অংশ গ্রহণ বা বণ্টন ও গড় ( Contribution and average): অনেক সময় একই সম্পত্তি দুই বা ততোধিক বীমাকারী বা বীমা কোম্পানীর সাথে বীমাকৃত করা হয়। সেক্ষেত্রে ক্ষতি সংঘটিত হলে, সেই সব বীমাকারীকে অবশ্যই সে ক্ষতির আনুপাতিক অংশ বহন করতে হয়। এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত রূপ সহ-বীমাকারীর কিভাবে বা কি অনুপাতে ক্ষতিপূরণ দানে অংশগ্রহণ করবেন সে সম্পর্কে নিয়ম-নীতি এই ধারায় বর্ণিত থাকে। ক্ষতিপুরণ দানের ব্যাপারে কিভাবে অংশগ্রহণ করা হবে সে সম্পর্কে এ ধারার যেরূপ বর্ণনা রয়েছে-

“If at the time of any destruction of or damage to any property hereby Insured there be any other insurance effected by or on behalf of the insured covering any of the property destroyed or damaged, the liability of the Company hereunder shall be limited to its ratable proportion of such destruction or damage.”

উক্ত শর্তে বলা হয়েছে যে, একই বিষয়বস্তু একাধিক বীমাকারীর সাথে বীমাকৃত হলে সহবীমাকারীগণ ক্ষতির অংশ আনুপাতিক হারে পুরণ করে দিবেন। বীমাকৃত সম্পত্তির মোট বীমাকৃত অর্থের সাথে সব ক’টি বীমাপত্রের বীমাকৃত অর্থের যে অনুপাত হয় সব ক্ষতিকে সে অনুপাতে ভাগ করলে প্রত্যেক বীমাকারীর ক্ষতির অংশ নিম্নে বর্ণিত সূত্র অনুসারে নির্ণয় করা হয় :-

সহবীমাকারীর ক্ষতিপুরণের অংশ = ক্ষতি *(বীমাপত্রের অর্থের পরিমাণ/)সকল বীমাপত্রের মোট অর্থের পরিমাণ।

এই শর্তের অবর্তমানে অথবা সাধারণ রীতি অনুযায়ী বীমাগ্রহীতা সম্পূর্ণ ক্ষতি কোন এক বীমাকারীর কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারেন যদি তার কাছে বীমাকৃত অর্থের পরিমাণ ক্ষতির সমান বা ততোধিক থাকে। যে বীমাকারী ক্ষতিপুরণের পুরো টাকা দিলেন তিনি অন্যান্য সহ বীমাকারীদের কাছ থেকে বীমাকৃত অর্থের আনুপাতিক হারে ক্ষতিপুরণের অর্থ আদায় করে নিতেন। সে যাই হোক, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অংশগ্রহণ বা তা বণ্টনের আগে নিম্নে বর্ণিত শর্তগুলি পুরনীয় হতে হবে—

(ক) বীমার বিষয়-বস্তু সব বীমাপত্রে একই থাকতে হবে,

 (খ) বীমাকৃত ঝুঁকি সব বীমাপত্রে একই থাকতে হবে,

(গ) বীমাগ্রহীতাকে সব বীমাপত্রের জন্যে সমান আগ্রহী থাকতে হবে এবং

 (ঘ) ক্ষতি সংঘটনকালে সব ক’টি বীমাপত্রই কার্যকর থাকতে হবে।

৯. গুলা ভিষিকতা ( Subrogation) : এই ধারাটির তাৎপর্য হলো এই যে, ক্ষতি সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বীমাকারী যদি বীমাগ্রহীতাকে ক্ষতিপুরণ করেন এবং বীমাগ্রহীতা যদি উক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পরেও তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে বা ক্ষতির স্কুল অথবা ক্ষতিগ্রস্ত সত্তি থেকে কিছু উদ্ধার করতে পারেন তার মালিকানা প্রকৃতপক্ষে তিনি আর পাবেন না। বরং, বীমাকারী পাবেন। কেননা, বীমাকারীতো বীমাকারীকে ইতিপূর্বে ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছেন। অর্থাৎ, বীমাগ্রহীতা একই কারণে দু’টি উৎস বা স্থান থেকে সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। তাই, বীমাকারী কর্তৃক ক্ষতিপুরণ প্রদানের যে সপবিস বা প্রাপ্যের উপর অধিকার ছিল বীমাগ্রহীতার, ক্ষতিপুরণ প্রদানের পর তার অধিকার ও মালিকানা অর্জন করেন বীমাকারী। বীমাগ্রহীতার মালিকানা বা অধিকারের স্থলে বীমাকারীর অভিষিক্ত দুবার এই নীতি বা শব্দটিকে বলা হয় ‘স্থলাভিষিক্ততার নীতি বা মতবাদ (Doctrine or Principle of Subrogation) । আর, এ থেকে সহজেই অনুমেয় যে, স্থলাভিষিক্ততার এ বিষয়টি স্বভাবতঃই ক্ষতিপুরণের শর্ত বা নীতির অনুষঙ্গী বা অনুগামী [ Corollary to the Principle of Indemnity) |

[বীমাপত্রে এ ধারাটি যেভাবে সন্নিবেশিত—” Any claimant under this policy shall at the request and at the expense of the Company do and concur in doing and permit to be done all such acts things as may be necessary or reasonably required by a company for the purpose of enforcing any rights and remedies or of obtaining relief or indemnity no from other parties to which the company shall or would become entitled or subrogated upon its paying for or making good any destruction or damage under this policy. whether such acts a things shall be or become necessary or required before or after this indemnification by the company.”]

এ ধারার বর্ণনা বিশ্লেষনে আরও অনুধাবনেয় যে, বীমাগ্রহীতার পক্ষে বীমাকারী তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারবেন এবং সে ব্যাপারে বীমাগ্রহীতা বীমাকারীকে প্রয়োজনীয় সকল সাহায্য প্রদানে প্রস্তুত থাকবেন। এরূপ ক্ষেত্রসমূহে সাধারণতঃ বীমাকারী বীমাগ্রহীতার নামেই যে কোন কাজ করে থাকেন এবং তার ব্যয়ভারও বীমাকারীই বহন করে থাকেন। বীমাকারী কর্তৃক উদ্ধারকৃত সম্পত্তি বা অর্থের সংশ্লিষ্ট খাতে বীমাগ্রহীতার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকার থাকবে শর্তে বীমাকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং বীমাগ্রহীতাকে ক্ষতিপূরণ বা বীমানাধী পরিশোধ করার পর উদ্ধারকৃত সম্পত্তি বা অর্থের মালিকানায় অভিষিক্ত হন অন্যথায় নয়।তবে, এধারায় এর বিপরীতমর্মে কোন কিছু লিখিত থাকলেই কেবল ক্ষতিপূরণ প্রদানের আগেও বীমাকারী উক্ত অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

১০. বীমাকৃত সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলী শর্তাবলী (Warranties): অগ্নিবীমার এই ধারা অনুযায়ী বীমাকৃত সম্পত্তি অথবা তৎসংশিষ্ট বিষয় বা বীমার বিষয়-বস্তুর উপর কতকগুলি শর্ত প্রযুক্ত হয়ে থাকতে পারে যা বীমাপত্রের পূর্ণ মেয়াদাবধি কার্যকর থাকে। এসব শর্ত অবশ্য পালনীয়। কেননা, ঝুঁকি বাড়ুক বা কমুক, এসব শর্ত পালিত না হলে, বীমাদাবী বা ক্ষতিপুরণ প্রদান করা হয় না। চুক্তি নবায়ন করা হলে এবং নবায়নের পর ক্ষতি সংঘটিত হলে তার ক্ষতিপূরণ বা বীমাদাবী প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্য পূর্ববর্তী সময়কার দলিলী শর্তাবলী অন্তরায় হয় না (সে সময়ে তা পালিত হোক বা না হোক)।

একটি সালিসি মোকদ্দমার ফলশ্রুতিতে ১৯০১ সাল থেকে বীমাপত্রে বীমাকৃত সম্পত্তির উপর এরূপ শর্তাবলী প্রযুক্ত হতে থাকে। বীমাপত্রে কখনও এরূপ শর্তাবলীর কিছু কিছু বাদ রাখা হয়, আবার কখনও কিছু কিছু নতুন শর্ত প্রযুক্ত হয়। শর্ত বাদ করা হলে প্রিমিয়াম বাড়তে পারে এবং নতুন শর্ত প্রযুক্ত হলে প্রিমিয়াম হ্রাস পেতে পারে।

১) সালিসী ( Arbitration) কখনও বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে বীমাদাবী মিটানো বা অন্য কোন ব্যাপারে মতানৈক্য দেখা দিতে পারে, তা সমাধানের লক্ষ্যেই আদর্শ বীমাপত্রে এ ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী হলো এই যে—কোন মতানৈক্য দেখা দিলে তা নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রথমে পক্ষদ্বয় লিখিতভাবে একজন সালিস (Arbitrator) নিযুক্ত করবেন। একজন সালিস দ্বারা সমস্যা নিরসন সম্ভব না হলে দু’জন নিয়োগ করবেন এবং তাতেও সম্ভব না হলে আর একজন নিরপেক্ষ বিচারক (Umpire) বা মীমাংসক নিযুক্ত করবেন। তিনি সালিসদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে সব সমস্যা বা মতানৈকা দূর করবেন। কোন ব্যাপারে সালিসদ্বয় একমত না হতে পারলে মীমাংসকের রায়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচত হবে। সালিসীর রায় না হওয়া পর্যন্ত বীমাগ্রহীতা আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারবেন না। সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার এক মাসের মধ্যে এরূপ সালিস বা মীমাংসক নিয়োগ করতে হবে। সালিসের খরচ কে কতটা বহন করবেন সালিসগণ এবং মীমাংসক তা স্থির করে দিবেন।

 

 

অগ্নি বীমাপত্রের বিশেষ শব্দাবলী ও শর্তসমূহ

 

(উপরোক্ত ১১টি ধারা ছাড়াও বীমাপত্র সমূহে কিছু কিছু ইচ্ছামূলক ধারা সন্নিবিষ্ট হতে পারে। যেমন :-

(ক) ক্রেতার স্বার্থ ধারা ( Purchaser’s Interest Clause) : অনেক সময় বীমাগ্রহীতা তার বীমাকৃত সম্পত্তি তৃতীয় কোন পক্ষের কাছে বিক্রয় করার চুক্তি করতে পারেন অগ্নি দুটি সংঘটনাকালীনও সে বিক্রয় সম্পূর্ণ হয় কা। তখন স্বভাবিকভাবেই দারীপুরণে সমস্যা দেখা দেয়। এরূপ সমস্যার সমাধানকল্পে বীমাপত্রে এ ধারাটি সন্নিবিষ্ট হয়ে থাকে। এ ধারা বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের স্বার্থ বজায় থাকে। ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ হলে স্বার্থের পরিবর্তন হয় এবং পরিবর্তন সংক্রান্ত শর্ত প্রযুক্ত হয়। এই স্বার্থ পরিবর্তন অনুমোদন করার জন্যে দলিলের সাথে বীমাপত্রটি বীমাকারীর কাছে পেশ করলে এই ধারামতে বীমাকারী আনুষ্ঠানিকতা পালনে সন্তুষ্ট হলে দায় গ্রহণ এবং তা পরিশোধ করবেন। এতে স্বভাবতঃই ক্রেতার স্বার্থ রক্ষিত হয়।

(খ) ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া ( Loss Procedure): এ ধারাটি খনিও কিছুটা পুনি শীল ধারাটিরই অনুবর্তী। ক্ষতি হলে বীমাগ্রহীতারই দায়িত্ব দাবী পুত্র হলো সে সম্পর্কে অবিলম্বে বীমাকারীকে অবহিত করা। বীমাগ্রহীতা কর্তৃক আত হওয়ার পরই বীমাকারী বীমাগ্রহীতাকে একটি বীমাদরীপত্র । Claim Form) প্রেরণ করেন। এই দাবীপত্রে বীমাগ্রহীতা ক্ষতি, ক্ষতির স্থান, যেভাবে ক্ষতি হয়েছে ইত্যাদি সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ সন্নিবেশিত করে বীমাকারীর কাছে প্রেরণ করেন। বীমাকারী যদি দেখেন ক্ষতি অপেক্ষাকৃত কম বা যুক্তিসঙ্গত, তাহলে বীতকারী তা তাৎক্ষনিকভাবে পূরণ করে দেন। আর, যদি দেখেন যে, ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশী এবং সে সম্পর্কে অনুসন্ধানের অবকাশ রয়েছে, তাহলে তিনি জরিপকারী (assessor) অথবা সমন্বয়ক (adjuster) নিয়োগ করবেন। জরিপকারী বা সমন্বয়ক অনুসন্ধান করে তার রিপোর্ট বীমাকারীর কাছে প্রেরণ করবেন। তখন বীমাগ্রহীতা পুরনকৃত বীয়াদারীপত্র ও তার সম্মতিপত্র বীমাকারীর কাছে প্রেরণ করবেন। এতে বীমাকারী সন্তুষ্ট হলে বীমাদারী পরিশোধ করে দিবেন। আর, এ পর্যায়েও যদি কোন মতানৈক্য দেখা দেয় তাহলে সালিস এবং প্রয়োজনে মীমাংসক (Umpire) পক্ষসমূহ মতানৈক্য নিরসন করবেন।]

Leave a Comment