মূল্যায়নের কারন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়মূল্যায়নের কারন যা জীবন বীমা অধ্যায়ের অর্ন্তভুক্ত।

মূল্যায়নের কারন

 

মূল্যায়নের কারন

 

বীমাকারী বা বীমাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়নের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা অনেক। যে সব উদ্দেশ্য নিয়ে মূল্যায়ন নিষ্পন্ন করা হয় তা নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণিত হলো :-

প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপণ করা (To determine the liabilities of the concern) : বীমা গ্রহীতাদের মৃত্যুহার, ধার্য্যকৃত সুদের হার, খরচের মাত্রা, প্রদেয় বোনাস ইত্যাদির ভিত্তিতে মূল্যায়নের মাধ্যমে বীমা প্রতিষ্ঠানের দায়ের পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের দায় নিরূপিত না হলে প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই, বলা যায়, দায় নিরূপণের জন্যে মূল্যায়ন করা হয়।

২। তহবিল বা সঞ্চিতি নিরূপণ করা (To determine the Fund or Reserve) : প্রাপ্ত বা প্রাপ্য বীমাসেলামী ধার্য্যকৃত সুদ ও বীমাদাবীর ভিত্তিতে বীমা প্রতিষ্ঠানের তহবিল বা সঞ্চিতির পরিমাণ নিরূপণের জন্যে মূল্যায়ন করা হয়।

৩। লাভ-ক্ষতি নিরূপণ করা (To determine the profit of loss) : বীমা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে লাভক্ষতি নিরূপণের জন্যে মূল্যায়ন করা হয়। কোম্পানীর আয়-ব্যয়ের নির্দিষ্ট মেয়াদাত্তিক হিসেব বা পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানের – লাভ-ক্ষতি নিরূপণ করা হয়।

 

৪। বণ্টনযোগ্য উদ্বৃত্ত নিরূপণ করা (To determine the divisible surplus) : ব্যয়ের উপর আয়ের আধিক্যকেই বণ্টনযোগ্য উদ্বৃত্ত বা মুনাফা বলা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত বীমাদাবী পরিশোধিত না হয়। তাই, এ ক্ষেত্রেও মূল্যায়নই বীমাকারীকে সাহায্য করে থাকে। মূল্যায়নের মাধ্যমেই বীমা প্রতিষ্ঠানের দায় ও তহবিলের সাথে তুলনামূলক হিসেব করে বণ্টনযোগ্য মুনাফা বের করা যায় যা প্রদেয় বোনাসের পরিমান ও তার হার নিরূপণ করতে একান্ত প্রয়োজনীয়। এমনকি, অন্তবর্তীকালীন বোনাস ও তার হার নির্ধারণেও পূর্ববর্তী মূল্যায়নই হয় ভিত্তি। সুতরাং, এ কারণেও যে মূল্যায়ন করা হয় তা আর ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না।

৫। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা পরীক্ষা করা (To examine the financial condition of the concern): উপরোক্ত সব ক’টি বিষয়ই সামগ্রিকভাবে বীমা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা নির্দেশ করে। সুতরাং, প্রশ্নাতীতভাবে বলা যায় যে, মূল্যায়ন বীমা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্যেই করা হয়ে থাকে।

৬। ভবিষ্যৎ কার্যধারা ও পরিকল্পনা তৈরী করা (To make the future programme and Plan): প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার সঠিক ও যথার্থ মূল্যায়নই তার ভবিষ্যৎ কর্মধারা ও পরিকল্পনা তৈরী করার জন্যে প্রয়োজনীয়। সুতরাং, মূল্যায়নের জন্যে এটিও একটি পরোক্ষ অথচ অপরিহার্য কারণ।

মোট কথা, এমনিভাবে বিভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের জন্যেই বীমা কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানসমূহে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।

 

মূল্যায়নের কারন

Leave a Comment