আজকের আলোচনার বিষয় “নৌ-বীমার শ্রেণী বিন্যাস ” যা নৌ বা সামুদ্রিক বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
নৌ-বীমার শ্রেণী বিন্যাস

নৌ-বীমাকে নিম্নে বর্ণিত চারটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে :
১। জাহাজ বীমা ( Hull Insurance) : সওদাগরী জাহাজ বা বাণিজ্য তরী এবং তার উপকরণাদির সম্ভাব্য ক্ষতির বিরুদ্ধে বা ক্ষতির অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে যে বীমা গ্রহণ করা হয়, তাকেই বলা হয় জাহাজ বীমা।
২। পণ্য বীমা ( Cargo Insurance) : বাণিজ্যিক জাহাজে বোঝাইকৃত পণ্য দ্রব্যাদি সংক্রান্ত ক্ষতির অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে যে বীমা করা হয় তাকেই পণ্য বীমা বলা হয়।
৩। মাসুল বীমা ( Freight Insurance) : সামুদ্রিক বিপদে জাহজে বোঝাইকৃত পণ্যসামগ্রীর ক্ষতি সংঘটিত হলে বা সমুদ্রে পণ্য ফেলে দিলে তার মাসুল পাওয়া যায় না। এই মাসুলের ক্ষতির বিরুদ্ধে যে বীমা করা হয় তাকে মাসুল বীমা বলা হয়।
৪। দায়-বীমা ( Liability Insurance): নৌ-বীমার ক্ষেত্রে কতকগুলি বিশেষ ধরনের ক্ষতির বিরুদ্ধে যে-বীমা করা হয় তাকে দায় বীমা বলা হয়। যেমন : সমুদ্র যাত্রাকালীন কখনও কোনও অনিচ্ছাকৃত কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবেই নিয়ম- কানুনের বরখেলাপ করতে হতে পারে। এতে স্বাভাবিক কারণেই আর্থিক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।
এরূপ কোন ক্ষতির বিরুদ্ধে যে বীমা করা হয় তাকেই নৌ-বীমার ক্ষেত্রে দায়বীমা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এছাড়াও অন্যবিধ কারণে দায়-বিপত্তি (সংঘর্ষ, ডুবে যাওয়া ইত্যাদি) সংঘটিত হতেপারে। এরূপ দায়-বিপত্তি (Liability hazards)-র বিরুদ্ধেও দায়-বীমা গ্রহণ করা হয়।

নৌবিমা পত্রের শ্রেণিবিভাগ
বিমাগ্রহীতার সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমানকালে বিমা কোম্পানিগুলু বিভিন্ন ধরনের বিমাপত্র ইস্যু করে থাকে:-
১. মূল্যায়িত বিমা:- যে বিমাপত্রে বিষয়বস্তু অর্থাৎ বিমাক্রিত সম্পদের মুল্য উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারণ করে বিমাচুক্তি সম্পাদন করা হয় তাকে মূল্যায়িত বিমাপত্র বলা। এ ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং ঐ মূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপুরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ করা হয় না। সাধারণত; ছবি, পেইন্টিংস,মূল্যবান শিল্পকর্ম ইত্যাদির জন্য মুল্যায়িত বিমা পত্র গ্রহণ করা হয়।
২. অমুল্যায়িত বিমাপত্র:- যে বিমাপত্রে বিষয়বস্তুর মূল্য নিরধারণ না করেই বিমাচুক্তি সম্পাদন করা হয় তাকে অমুল্যায়িত বিমাপত্র বলে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার পর সম্পত্তির মুল্য নির্ধারণ করে তখনকার বাজারমূল্য অনুযায়ি ক্ষতিপূরণ করা হয়। সাধারণত যে সকল সম্পদের বাজারমূল্য সহজে নির্ধারণ করা যায় ঐ ধরণের সম্পদের জন্যে মূল্যায়িত বিমাপত্র গ্রহণ করা হয়।
৩.যাত্রা বিমাপত্র:- যে বিমাপত্রে যাত্রাপথের উল্লেখ থাকে তাকে যাত্রাবিমাপত্র বলা হয়। এ ক্ষেত্রে সময়ের উল্লেখ থাকবে না। যেমন:- ঢাকা থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজ ব্যাংকক যাবে’ —-এটি যাত্রাবিমাপত্রের মধ্যে পড়বে।
৪.সময় বিমাপত্র:- যে বিমাপত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নৌ-বিমা করা হয় তাকে সময় বিমাপত্র বলা হয়। এ ক্ষেত্রে যাত্রাপথের উল্লেখ থাকবে না। যেমন:- আগামি ৬ মাসের জন্য নৌ-বিমা করা হলো/৩১ শে জানুয়ারি ২০১৬ হতে ৩১ শে জানুয়ারি ২০১৭ ইং তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য বিমা করা হলো।
৫.মিশ্র বিমাপত্র: যে বিমাপত্রে নির্দিষ্ট যাত্রাপথের উল্লেখের পাশাপাশি সময়ের বা তারিখের ও উল্লেখ থাকে তাকে মিশ্রবিমাপত্র বলা হয়। যেমন:- জাহাজ আগামি ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকা থেকে ব্যাংকক গিয়ে পৌঁছাবে।
৬.বৃহৎ ঝুকির বিমাপত্র :- দুই বা ততোধিক বিমা কোম্পানী মিলে কোন বিষয়বস্তুর বিমা করলে তাকে বৃহৎ ঝুকির বিমাপত্র বলা হয়।
৭.বন্দর ঝুকির বিমাপত্র: বন্দর কর্তৃপক্ষ বনদরের সম্পদ যেমন- লাইটার জাহাজ, বার্জ,বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের পণ্যের ক্ষতিপূরণের জন্য যে বিমাপত্র গ্রহণ করে তাকে বন্দরঝুকি বিমাপত্র বলে।
৮. ভাসমান বা ছাউনি বিমাপত্র:- একটি বিমাপত্রের অধীনে একই মালিকের আকাধিক জাহাজ বা সম্পদের বিমা করা হলে তাকে ভাসমান বা ছাউনি বিমাপত্র। উদ্দিপকে একাধিক জাহাজ বা সম্পদের বিমা করার কথা থাকলে বুঝতে হবে তা ছাউনি বিমাপত্র।
৯. খোলা প্রতিরক্ষা বা উন্মুক্ত বিমা:- বার বার বিমাপত্র খুলার ঝামেলা এড়ানোর জন্য একবারে এক বছরের জন্য উন্মুক্ত বা খোলা প্রতিরক্ষা বিমাপত্র গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
