আজকের আলোচনার বিষয় “সামগ্রিক ক্ষতির বীমাদাবী আদায়ের পদ্ধতি ” যা নৌ বা সামুদ্রিক বীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
Table of Contents
সামগ্রিক ক্ষতির বীমাদাবী আদায়ের পদ্ধতি

বলা বাহুল্য যে, অন্যান্য ক্ষেত্রের মত বীমাগ্রহীতা কর্তৃক বীমাদারী আদায়ের জন্যে অথবা বীমাকারী কর্তৃক দাবী পূরণের জন্যে কতকগুলো সাধারণ আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে বা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় যেমন :
(ক) বিজ্ঞপ্তি প্রদান (To give the notice) :
এ বিষয়ে ব্যাখ্যার অবকাশ নেই যে, বীমাকৃত দুর্ঘটনা ঘটলে এবং ক্ষতি সাধিত হলেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ তথা বীমাদারী আদায় করতে বীমাগ্রহীতাকে – দুর্ঘটনা সম্পর্কে বীমাকারীর কাছে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করতে হয়। এই বিজ্ঞপ্তি প্রদানের জন্যে নির্ধারিত সময় থাকে।
যেমনঃ চুরির মত একটি দুর্ঘটনা সংঘটনের তথা ঝুঁকি শেষ হওয়ার সময় থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। উক্ত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে বীমাকারী দাবীপূরণের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। তবে, দুর্ঘটনাটি সংঘটনে কোন গাফিলতি বা ত্রুটি প্রমাণিত না হলেই শুধু দাবী পূরণের ব্যাপারে প্রাথমিক ও প্রধান পদক্ষেপ অতিক্রান্ত হয়। অতঃপর অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
(খ) বীমাপত্র সংক্রান্ত প্রমাণাদি উপস্থাপন ( To submit relevant evidence regarding the policy) :
বীমাদারী করতে হলে অবশ্যই বীমাপত্র গ্রহণ করার প্রমাণাদি ও দলিলপত্র উপস্থাপন করতে হয়। কেননা, বীমাদাবীর যথার্থতা নিরূপণের জন্যে বীমার বিষয়বস্তুর মূল্য ও প্রকৃতি শর্তাবলী বীমাযোগ্য স্বার্থ ইত্যাদি বিষয়ে বীমাকারীকে বিবেচনা করতে হয়।যে সব দলিলপত্র ও প্রমাণাদি ধীমাকারীর কাছে উপস্থাপন করতে হয় সেগুলি সম্পর্কে নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
(I) বীমাপত্র (Insurance Policy) :
বীমাদাবী করার জন্যে বীমাপত্রটি উপস্থাপন করতে হয়। বীমাপত্রে বীমাচুক্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি এবং শর্তাবলী সন্নিবেশিত থাকে যা বীমাদাবী মেটাতে একান্ত প্রয়োজনীয়।
(II) চালনী রসিদ ( Dill of Lading) :
বীমাপত্রের সাথে চালানী রসিদ প্রদান করতে হয়। কেননা, চালানী রসিদে থাকে জাহাজযোগে পরিবাহিত পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ যা ক্ষতিপুরণ তথা বীমাদানী নির্ধারণের জন্যে প্রয়োজনীয়।
(iii) চালান ( Invoice) :
পণ্যসামগ্রী বিক্রয় সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি ও শর্তাবলী এতে সন্নিবিষ্ট থাকে বলে এটিও জমা দিতে হয়। এ থেকে সঠিক পণ্য মূল্য নিরূপণ করা হয়।
(iv) প্রতিবাদপত্র (Copy of Protest) :
দুর্ঘটনাটি সঙ্ঘটনে কাপ্তানের কোন অবহেলা বা গাফিলতি ছিলনা এবং জাহাজ ও পণ্যসামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চত করতে সবপদক্ষেপ গৃহীত হয়েছিল, বলে এ দলিলটিতে একটি বিবৃতি থাকে যা উত্থাপনের কোন অভিযোগের বিরুদ্ধে একটি আগাম প্রতিবাদ হিসেবে পরিগৃহীত হয়। এটি বীমাদাবী উত্থাপন করার সময় উপস্থাপন করতে হয়। প্রতিবাদপত্রটি জাহাজের কাপ্তান এবং নোটারী পাবলিক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হয়।
(v) স্থলাভিষিক্ততার পত্র ( Letter of Subrogation) :
দায়গ্রাহক বা বীমাকারী কর্তৃক বীমাপত্রধারীকে সামগ্রিক ক্ষতি তথা বীমাদাবী পূরণ করে দেয়ার পরে বীমাগ্রহীতার পরিবর্তে বীমাকারীই উদ্ধারকৃত পণ্য-সামগ্রী বা সম্পদ-সম্পত্তির মালিক হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হবেন- এ মর্মে যে লিপিটি প্রদান করা হয় তাকেই স্থলাভিষিক্ততার (প্রত্যয়) পত্র বলে। এ পত্রটি দিয়ে বীমাকারী তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে কোন প্রাপ্য আদায় করতে পদক্ষেপ নিতে পারেন। তাই, এ দলিলটিও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
(vi) বর্জন বিজ্ঞপ্তি (Notice of Abandonment) :
দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপুরণ পাওয়ার পর বীমাকৃত বিষয়বস্তুর উদ্ধারযোগ্য অংশের উপর বীমাগ্রহীতার ইতিপূর্বে যে স্বত্ব বা মালিকানা ছিল তা বীমাকারীর অনুকূলে পরিত্যাগ করবেন-এই মর্মে বীমাগ্রহীতা বীমাকারীর কাছে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন যা বর্জন বিজ্ঞপ্তি নামে অভিহিত। এ বিজ্ঞপ্তি বৈধ বলে গণ্য হয় তখনই, যখন তা,
(ক) শুধু পরিচ্ছন্ন ও শর্তহীনভাবে প্রস্তুতকৃত হয় এবং
(খ) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রদান করা হয়।

উপরোক্ত আনুষ্ঠানিকতাসমূহ পালন এবং দলিল পত্রসমূহ যথারীতি উপস্থাপনের পরে বীমাকারী বা দায়গ্রাহক বীমাগ্রহীতাকে বীমাদাবী পূরণ করে থাকেন।
