আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নিবীমাপত্রের স্বত্ব নিয়োগ বা স্বত্বার্পণ ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অগ্নিবীমাপত্রের স্বত্ব নিয়োগ বা স্বত্বার্পণ

জীবন বীমা বা নৌবীমার মত অগ্নিবীমাপত্রের স্বত্বনিয়োগ বা স্বত্বার্পণ সহজ নয়। কারণ, অগ্নিবীমার চুক্তি প্রকৃতপক্ষে বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে একটি ব্যাক্তিগত চুক্তি। তাই, বীমাকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও সে মর্মে বীমাপত্রে কোন সুযোগ না থাকলে বীমাপত্র হস্তান্তরিত হয় না। সম্পত্তির ক্রেতা বীমাপত্রে কোন স্বার্থ স্থাপন করতে পারবেন না।
জীবন বীমা বা নৌ-বীমায় পূর্বানুমতি ছাড়াই বীমাগ্রহীতা বীমাপত্রের স্বত্বাপন বা স্বত্ব হস্তান্তর করতে পারেন বীমাকারীর কাছে তা অবহিত করে নিলেই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু, সেক্ষেত্রেও স্বত্ব- নিয়োগের পর বীমা কোম্পানীকে মূল দলিল অথবা স্বত্ব- নিয়োগকারীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রতিলিপির সাথে উপযুক্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্বত্ব- নিয়োগীর নাম-ঠিকানা তালিকাভুক্ত করিয়ে নিতে হয়। অন্যথায়, বীমা কোম্পানী দাবী পুরণে বাধ্য নয়।
অগ্নি বীমাপত্রে এটি আরও বেশী নিয়ম-নীতি পালন সাপেক্ষ কাজ। অর্থাৎ, অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে স্বত্ব- নিয়োগের জন্যে পূর্বাহ্নেই বীমাকারীর অনুমোদন প্রয়োজন। বীমাপত্রে স্বত্ব -নিয়োগের জন্যে যদি ব্যক্ত বা অব্যক্তভাবে কোন প্রকার অনুমোদন দেয়া না থাকে তা হলে অথবা যথারীতি পূর্বানুমতি সাপেক্ষে যদি স্বত্ব -নিয়োগ না করা হয় তাহলে স্বত্ব -নিয়োগ গ্রহীতার কোন ক্ষতিপুরণের দাবী পরিশোধে বীমাকারী দায়বদ্ধ হন না। প্রসঙ্গতঃ স্মর্তব্য যে, অগ্নিবীমা চুক্তিতে চুক্তি গঠনকালীন এবং ক্ষতি সংঘটন কালীন বিষয়-বস্তুতে বীমাগ্রহীতার স্বর্ণ থাকা অপরিহার্য।
তাই, কোন বীমাকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর করা হলে, স্বত্ব -নিয়োগকারী assignor) বা স্বত্ব- নিয়োগী (assignee) —কেউই বিষয়বস্তু ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারেন না। কারণ, কারোই উভয় সময় বিষয় বস্তুতে বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে না- অর্থাৎ, ক্ষতি সংঘটনকালীন স্বত্ব-নিয়োগীর সম্পত্তি হস্তান্তর কালীন তাতে বীমাযোগ্য স্বার্থ থাকে না। এরূপ অবস্থায়, যদি বীমাকারী পূর্বোত্ত চুক্তিটি চালু রাখতে স্বীকৃত হন, তাহলেই শুধু স্বত্ব-নিয়োগী ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন, অন্যথায় নয়।
তবে, স্বত্ব -নিয়োগী যদি কোন অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হন, তাহলে বীমাকারী অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।কারণ, সেক্ষেত্রে নৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। অবশ্য উইল বা আইনবলে যদি সম্পত্তির স্বার্থ হস্তান্তরিত হয়, তাহলে বীমাপত্রটিও সম্পদের আইন সম্মত মালিকের কাছে চলে যাবে। এ বিষয়ে R S Sharma লিখেছেন—
“Hence, an assignment is valid only when the expressed consent of the insurer has been secured. Usually, the insurer will signify his consent to an assignment, the only objectionwill be when the assignee is an undesirable person, because, in such a case the moral hazard to the property increases. Of course, when the interest in the property is transfered by will or through the operation of law, the policy automatically passes to the legal owner of the property”।

উপরোক্ত বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আধুনিক বীমা কোম্পানীসমূহ বীমাপত্রের মধ্যে স্বত্ব নিয়োগের ব্যাপারে শর্ত যুক্ত করে দেয় যাতে পূর্বাহ্নেই স্পষ্ট ধারণা রাখা যায়। এ ধারাটিতে সংযুক্ত না থাকলে বীমাকারীর পূর্বানুমতি না থাকলে স্বত্বনিয়োগ বৈধ না হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকেনা।
স্বত্ব নিয়োগ সাধারণতঃ দুভাবে করা যায়। যথা : (১) বীমাপত্রের অপর পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর প্রদান করে এবং (২) স্বতন্ত্র কোন দলিল সম্পাদন করে। স্বত্বনিয়োগের ব্যাপারে কোন প্রকার বাধা নিষেধ সম্বলিত শর্তারোপিত না থাকলে উপরোক্ত যে কোন পন্থায়ই স্বত্বনিয়োগ বা স্বত্বাপণ করা যায়।