অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে হার নির্ধারণের নীতিসমূহ 

আজকের আলোচনার বিষয় “অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে হার নির্ধারণের নীতিসমূহ  ” যা অগ্নিবীমা অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

Table of Contents

অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে হার নির্ধারণের নীতিসমূহ 

 

অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে হার নির্ধারণের নীতিসমূহ 

 

 

যে কোন ধীমাচুক্তিতেই বীমাগ্রহীতা কর্তৃত প্রদেয় বীমা সেলামী বা কিস্তির পরিমাণ নির্ধারিত করে দেয়া হয়। এই কিস্তির পরিমাণ ঊষা হার নির্ধারণ কতকগুলি সুনির্দিষ্ট নীতির উপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে। অগ্নিবীমার ক্ষেত্রেও তা সমভাবে সত্য। নিম্নে অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে হার নির্ধারণের নীতিসমূহ বর্ণিত হলো :

১। ব্যক্তিগত বিচারভিত্তিক হার নির্ধারণ নীতি (Principle of personal Judgement rating) :

অগ্নিবীমার হার নির্ধারণের জন্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে এটিই হলো সর্বপ্রথম পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে বহু বছরের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ফলাফল দৃষ্টে বিচার বিশ্লেষণ করে সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্নিবীমার হার নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে ছোট খাট পার্থকাকে মে হিসেবে ধরা হতো না। ভাল উপাদানসমূহ পাশাপাশি একত্রে রেখে গড়পড়তা বীমাকিত্তি বা সেলামীর সাথে পার্থক্য করে হার নির্ধারণ করা হতো।

যেহেতু, ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণে তারতম্য হয় প্রচুর, একই ধরনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে হারত বিভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। তাছাড়া, আধুনিক সম্পদ-সম্পত্তির প্রকৃতি ও ধরনের বিভিন্নতা এবং জটিলতা দিনদিন বাড়ছে বিধায় এ পদ্ধতির ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্রমেই প্রকটতর হয়ে ধরা দিচ্ছে। একই সম্পত্তির উপর কিত্তির হার বিভিন্ন হলে স্বভাবতঃই তা বীমাপত্রগ্রহীতার মধ্যে অসন্তোষ ও অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতিটি জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলছে।

২। অভিজ্ঞতাভিত্তিক হার নির্ধারণের নীতি (Principle of experience rating) :

এ পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত বিচার বিশ্লেষণের বদলে বরং বহুলোকের যৌথ বিচার-বিশ্লেষণকে হিসেবে ধরা হয়। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন লোকের বিভিন্ন বর্ষের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করেই অগ্নিবীমার হার নির্ধারণ করা হয়। স্বাভাবিক কারণেই, এক্ষেত্রে অগ্নি থেকে সৃষ্ট বিপদ-বিপত্তি পরিমাপ করার জন্যে বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এ পদ্ধতিতে ক্ষতির অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে ঝুঁকিকে শ্রেণী বিন্যস্ত করা হয়।

 

যদিও, এ পদ্ধতি বহু ধরনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে ততটা কার্যকর নাও হতে পারে। অতীতে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্যে তেমন কার্যকর নাও হতে পারে তথাপি, তা পূর্বতন পদ্ধতির চেয়ে অপক্ষোকৃত শ্রেয়তর।

৩। ছক বা তালিকাভিত্তিক হার নির্ধারণ নীতি (Principle of Schedule rating) :

এ পদ্ধতিতে অগ্নি বিপর্যয় বা বিপদসমূহকে বিভিন্ন উপাদানে বা শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হয় এবং প্রত্যেক শ্রেণীর বা দফার উপর একটি নির্দিষ্ট মূল্য বা নম্বর বণ্টন করা হয়। ঢুকে একটি নির্দিষ্ট সম্পত্তিতে ষ্ট্যাণ্ডার্ড বা মান ধরে নেয়া হয়। আর, প্রতিটি স্ট্যাণ্ডার্ড ঝুঁকির বা মানের সম্পত্তির উপর একটি স্ট্যান্ড প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়। অগ্নিবীমা চুক্তিতে উক্ত নির্ধারিত মানের সাথে প্রস্তাবিত সম্পত্তির সাথে প্রয়োজনীয় যোগ-বিয়োগ করে হার নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ, মূল বা স্ট্যান্ডার্ড হারের সাথে প্রস্তাবিত সম্পত্তি বা বিষয়বস্তুর ত্রুটিসমূহের জন্যে নির্দিষ্ট মূল্য বা নম্বর যুক্ত করা হয় এবং প্রস্তাবিত কোন সম্পত্তির উত্তম বৈশিষ্ট্য বা ত্রুটিমুক্ততার জন্যে নির্দিষ্ট মূল্য বা নম্বর বিয়োগ করে দেখানো হয়। স্বাভাবিক কারণেই, এ পদ্ধতিতে বেশ কতকগুলি সুবিধা পরিলক্ষিত হয় যা নিম্নে সংক্ষেপে বর্ণিত হলো।

 

অগ্নিবীমার ক্ষেত্রে হার নির্ধারণের নীতিসমূহ 

 

(১) এ পদ্ধতিতে সকল বীমাগ্রহীতাই অধিকতর সুষম ব্যবহার পেয়ে থাকেন।

(২) ঝুঁকির পদ্ধতিগত ব্যবহারের কারণেই কিত্তির হার প্রায় একই ধরনের বিভিন্ন বীমাচুক্তির ক্ষেত্রে প্রায় সমপরিমাণের থাকে।

(৩) ইহা বীমাকারী ও বীমাগ্রহীতার মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত হ্রাস করে; কেননা, বীমাগ্রহীতা বীমা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ছক দৃষ্টেই বুঝে নিতে পারেন কি ভাবে হার নির্ধারিত হয়েছে।

(৪) ইহা অগ্নি অপচয় হ্রাস করে; কেননা, এ পদ্ধিতিতে কৌশলে কোন বিল্ডিং-এর যথাযথ নির্মাণ বা সম্পত্তির যথাযথ নির্মাণ ও রক্ষণে উৎসাহিত করে এবং

(৫) হহয় অধিকতর সরাসরি সম্যক পর্যবেক্ষণ ও হার নির্ধারণ নিশ্চিত করে।

Leave a Comment