আজকের আলোচনার বিষয় “ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা ” যা সামাজিক ও অন্যান্য ধরনের বীমাসমূহ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা

কোন দুর্ঘটনা অথবা কোন নির্দিষ্ট রোগ-ব্যাধিতে বীমাগ্রহীতার উপার্জন ক্ষমতা সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়ে গেলে, তার জন্যে বীমাকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ দানের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বীমাগ্রহীতা ও বীমাকারীর মধ্যে যে চুক্তি হয়, তাই ‘ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা’ নামে অভিহিত। মানসিক অক্ষমতার জন্যেও এ বীমা গ্রহণ করা যায়। এ জাতীয় বীমায় কোন রোগজনিত কারণে সম্পূর্ণ বা আংশিক অক্ষমতার জন্যে মেয়াদী বা সাপ্তাহিক বৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। আবার, আততায়ী কর্তৃক নিহত বা আহতদের বেলায়ও এ ধরনের বীমাপত্র গ্রহণ করা যায়। P
দুর্ঘটনা বীমা সাধারণভাবে ক্ষতিপুরণের চুক্তি হলেও ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমাকে ক্ষতিপুরণের চুক্তি বলা যায় না। কেননা, তা জীবন বীমার মতই একটি চুক্তি। তবে, যেহেতু শুধু দুর্ঘটনা বা রোগজনিত অক্ষমতার জন্যে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা- বীমা করা হয়—সে কারণেই একে দুর্ঘটনা বীমার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা- বীমায়ও বীমাযোগ্য স্বার্থ এবং চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস অপরিহার্য শর্ত। ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা- বীমার বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ :
(ক) এখানে বীমাকৃত অংকই সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ বা দায় সীমা।
(খ) বীমাকৃত ব্যক্তি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমাকারীর কাছ থেকে বীমাদাবীর অর্থ প্রায় এবং যদি তার মৃত্যুর হয়, তাহলে তার আইনসঙ্গত প্রতিনিধি বীমাদাবীর অর্থ পাবেন। এ জন্যে চুক্তি গঠনকালেই প্রতিনিধি মনোনীত করে রাখতে হয়।
(গ) যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বীমাদাবী নির্ধারিত না হবে ততক্ষণ পযস্ত বীমাকারী কোন সাপ্তাহিক ক্ষতিপূরণ দিতে দায়বদ্ধ হন না।
(ঘ) বীমাগ্রহীতা অন্য কোন বীমাকারীর সাথে ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা- বীমা চুক্তিতে আবদ্ধ হলে তা পূবর্তন বীমাকারীকে জানাতে হবে; অন্যথায়, তিনি ক্ষতিপুরণ দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন এবং
(ঙ) বয়স সীমা ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে সীমিত। তবে, উচ্চতর বয়স সীমা অবস্থাভেদে শিথিলযোগ্য।

