চৌর্য বীমা

আজকের আলোচনার বিষয় “চৌর্য বীমা” যা বীমা সংক্রান্ত কিছু বিষয় অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত।

চৌর্য বীমা

 

চৌর্য বীমা

 

চুরির জন্যে প্রতিনিয়তই মানুষ ব্যবসায়িক এবং বসতবাড়ীর প্রচুর অস্থাবর সম্পত্তি হারাচ্ছে। এ ধরনের ক্ষতির হাত থেকে অব্যাহতি ও উপশম প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছে চৌর্য-বীমা। চৌর্য- বীমার অধীনে চুরি, সিধেল চুরি (Burglary). জোরপূর্বক পরস্বাপহরণ ইত্যাদির বিরুদ্ধে বীমা করা যায়। চৌহ বীমা সবসময় অস্থাবর সম্পত্তির উপর করা হয়। ব্যক্তিগত বসতবাড়ী এবং ব্যবস প্রতিষ্ঠানের অস্থাবর সম্পত্তির উপর সাধারণতঃ নিম্নলিখিত ধরনের বীমাপত্র প্রচলিত আছে :

১। ব্যবসায়িক সম্পত্তির বীমাপত্র ;

২। বসতবাড়ীর সম্পত্তির বীমাপত্র ; 

৩। স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য সম্পত্তির বীমাপত্র ;

৪। সবধরনের ঝুঁকির বীমাপত্র

৫। অর্থ স্থানাস্তর ঝুঁকির বীমাপত্র।

ব্যবসায়িক সম্পত্তির বীমাপত্রের অধীনে ব্যবসায়ের মজুদমাল, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ইত্যাদির জন্যে বীমা করা হয়। সবধরনের ঝুঁকির বীমাপত্রের মাধ্যমে স্বর্ণালংকার এবং এ ধরনের অন্যান্য মূল্যবান জিনিসের জন্যে আলাদা বীমাপত্র গ্রহণ করা যায়। যে ধরনের সম্পত্তির জন্যেই বীমা করা হোক না কেন প্রস্তাব ফর্মে অবশ্যই বীমার বিষয়বস্তুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করতে হবে। সঠিক তথ্য

প্রকাশের অভাবে বীমাকারী পরবর্তীতে বীমাদাবী পরিশোধে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। চৌর্য-বীমার ক্ষেত্রে বীমার বিষয়বস্তুর সঠিক মূল্যায়ন অপরিহার্য। কারণ, সম্পত্তির মূল্যের উপর নির্ভর করেই প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে বীমাকারী সম্পত্তির তদন্ত করে থাকেন। তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন লোকের চরিত্র এবং সর্বোপরি নৈতিক ঝুঁকির বিষয়টিও পরীক্ষা করেন। অনেক সময় বীমাকারী চুরির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সতর্কতামূলক উপায় বা কৌশল গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।

 

কতকগুলি বিশেষ কারণে চৌর্য-বীমার আওতায় ক্ষতিপুরণ প্রদান করা হয় না যেমন –

১। স্বর্ণালংকার বা অন্যান্য মূল্যাবান সম্পত্তি যুদ্ধ, বিপ্লব, সামরিক অভ্যুত্থান, শত্রুপক্ষীয় আক্রমণ বা আগ্রাসন, বিদ্রোহ ইত্যাদি কারণে হারালে বা লুণ্ঠিত হলে ;

২। মেরামত বা সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ;

৩। ক্ষয়-ক্ষতি হয়ে গেলে বা কীট-পতঙ্গ দিয়ে বিনষ্ট হলে ; 

৪। এমন ধরনের ক্ষতি যা অগ্নিবীমা বা নৌ-বীমার অধীনে পড়ে

৫। চুরি যদি বাড়ী বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লোকজনের যোগসাজসে বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় ঘটে, 

৬। যদি চুক্তিতে উল্লেখ না থাকে তবে বণ্ড, বিনিময় বিল, চেক, ষ্ট্যাম্প ইত্যাদির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের নীতি প্রযোজ্য হবে না।

 

চৌর্য বীমা

 

চৌর্য বীমার প্রিমিয়ামের হার নির্ভর করে চুরির প্রবণতা, জিনিসের চাকচিক্য, প্রতিবেশীর কার্যকলাপ, পরিবহণযোগ্যতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদির উপর। বর্তমান কালে যে হারে চুরি ডাকাতি বাড়ছে তাতে চৌর্য বীমার চাহিদাও দিনদিন বাড়ছে।

Leave a Comment