চীনে দ্রুত বাড়তে থাকা স্থূলতা এখন দেশের জন্য এক গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে থাকা ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধগুলোকে অবশ্যই জাতীয় স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আগামী দশকের মধ্যেই দেশ বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকটে পড়তে পারে।
সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য অনুযায়ী, চীনে স্থূলতা ইতোমধ্যেই অক্ষমতা ও মৃত্যুহারের ষষ্ঠ প্রধান ঝুঁকির কারণ। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, চাপপূর্ণ কর্মজীবন, কম শারীরিক পরিশ্রম ও দ্রুত নগরায়ন স্থূলতার হারকে ভয়াবহভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত বাড়তে থাকা স্থূল জনসংখ্যা এবং ওজন কমানোর ওষুধের অত্যধিক দাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বহু চিকিৎসকের মতে, সাধারণ মানুষ যদি বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর ওষুধ কিনতেই না পারে, তাহলে স্থূলতা-সম্পর্কিত রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও চলাফেরার সমস্যাগুলো দ্রুত বাড়বে। এজন্যই তারা মনে করেন, এখনই সরকারি বীমা কাভারেজ বাড়ানো জরুরি।
চীনা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় ভুগতে পারে। এতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি হবে।
স্থূলতা যে এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তার একটি বড় প্রমাণ—জাতীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কমিটির নতুন ডায়েটারি নির্দেশিকা। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় দেশবাসীকে কম তেল-চিনি-লবণযুক্ত খাবার, পরিমিত পরিমাণ খাবার গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে চীন প্রথমবারের মতো স্থূলতা নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য এক সেট মানসম্মত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। এই উদ্যোগটি চিকিৎসকদের মধ্যে একটি統এক মানদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এখনও পর্যন্ত সরকার ওজন কমানোর ওষুধকে জাতীয় বীমার আওতায় আনার কোনো পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি।
স্থূলতা প্রতিরোধে কাজ বাড়াতে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন ২০২৪ সালে তিন বছরব্যাপী এক গণসচেতনতা কর্মসূচি শুরু করে। এই কর্মসূচির মূল বিষয় আটটি অনুপ্রেরণাদায়ক স্লোগান—আজীবন প্রতিশ্রুতি, সক্রিয় পর্যবেক্ষণ, সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক কসরত, ভালো ঘুম, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং পরিবারভিত্তিক পদক্ষেপ।
চিকিৎসকদের দাবির মূল বক্তব্য—সচেতনতা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে অনুমোদিত ওষুধের সহজপ্রাপ্যতা না হলে চীন খুব শিগগিরই এক বিশাল স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। তাই তারা মনে করেন, ওজন কমানোর ওষুধকে জাতীয় বীমার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
