এরনাকুলাম ভোক্তা কমিশনের রায়ে ওরিয়েন্টালকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ
এরনাকুলাম জেলা ভোক্তা বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সম্প্রতি তাদের রায়ে জানিয়ে দিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার চিকিৎসা দাবিকে জরুরি নয় বলে নাকচ করা ভোক্তা সেবায় ঘাটতি এবং অন্যায় বাণিজ্যিক আচরণ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযোগকারী কে এম মুইউদ্দ্দিন এই অভিযোগ এনেছেন ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং মেডিসেপের বিরুদ্ধে।
জানুয়ারি ২০২৩-এ একটি জিপের ধাক্কায় বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাত পান মুইউদ্দ্দিন। তিনি কোলেঞ্চেরি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। যেহেতু হাসপাতালটি তালিকাভুক্ত নয়, তিনি চিকিৎসা ব্যয় ৯৪,২৭৬ রুপির ফেরত চান। কিন্তু ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অভিযোগ নাকচ করে দাবি করে যে, তালিকাবহির্ভূত হাসপাতালে চিকিৎসা জরুরি নয় এবং অভিযোগকারী মেডিসেপের অভিযোগ নিষ্পত্তি কাঠামোও ব্যবহার করেননি।
কমিশন এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, রাজ্যের অর্থ দপ্তরের সঙ্গে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনাকে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই তালিকার বাইরে চিকিৎসাও ফেরতযোগ্য। কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ তুলে ধরে বলে, বিমার শর্তে অস্পষ্টতা থাকলে তা ভোক্তার পক্ষেই ব্যাখ্যা করা হবে।
ফলে কমিশন ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং মেডিসেপকে নির্দেশ দিয়েছে:
চিকিৎসা ব্যয় ফেরত: ৯৪,২৭৬ রুপি ৯% সুদসহ
মানসিক ক্ষতিপূরণ: ২০,০০০ রুপি
মামলার ব্যয়: ৫,০০০ রুপি
সময়সীমা: ৪৫ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে
এটি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বীমা কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কমিশন স্পষ্টভাবে বলেছে যে, জরুরি চিকিৎসা দাবি খারিজ করা এবং অভিযোগপ্রক্রিয়া না মেনে কাজ করা ভোক্তার প্রতি অন্যায়।
সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযোগকারী | কে এম মুইউদ্দ্দিন |
| প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান | ওরিয়েন্টাল ইন্স্যুরেন্স, মেডিসেপ |
| দুর্ঘটনার তারিখ | জানুয়ারি ২০২৩ |
| আঘাত | বাঁ পায়ে গুরুতর আঘাত, কোলেঞ্চেরি মেডিকেল কলেজে ভর্তি |
| দাবি করা চিকিৎসা ব্যয় | ৯৪,২৭৬ রুপি |
| কমিশনের রায় | চিকিৎসা ব্যয় ফেরত ৯% সুদসহ, মানসিক ক্ষতিপূরণ ২০,০০০ রুপি, মামলা ব্যয় ৫,০০০ রুপি |
| রায় কার্যকরির সময়সীমা | ৪৫ দিন |
এই রায়ের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার ও বীমা কোম্পানির দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব নতুনভাবে প্রমাণিত হলো।
