বাংলাদেশের বীমা বাজারে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (IDRA)। প্রতিষ্ঠানটি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষণা করেছে, যে অ-জীবন (Non-Life) বীমা খাতে এজেন্ট কমিশন এবং এজেন্ট লাইসেন্স সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হচ্ছে। এর ফলে, দেশের ৪৫টি অ-জীবন বীমা কোম্পানি আর কোনো এজেন্ট ব্যবহার করতে পারবে না প্রিমিয়াম সংগ্রহের জন্য। এই পদক্ষেপকে বীমা খাতে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
IDRA জানিয়েছে, অ-জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর এজেন্টদের কমিশন পরিশোধ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্তে মূলত কমিশন-নির্ভর ব্যবসায়িক সংস্কৃতি নির্মূল করতে চাচ্ছে, যা দীর্ঘদিন ধরে উন্ডাররাইটিং (Underwriting) শৃঙ্খলা ও পলিসিধারকের সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।
শিল্প সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত কমিশন প্রদানের কারণে অ-জীবন বীমা খাতের দাবি নিষ্পত্তির হার (Claim Settlement Ratio) অত্যন্ত কম। ছোট বাজার দখলের জন্য কোম্পানিগুলো এজেন্টদের উচ্চ কমিশন দিয়ে প্রিমিয়াম সংগ্রহে মনোযোগ দেয়, যার ফলে উন্ডাররাইটিং মানহানি, ঝুঁকি মূল্যায়নে দুর্বলতা এবং দাবির বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
IDRA’র বার্ষিক প্রতিবেদনের (২০২৩-২৪) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিকভাবে অ-জীবন বীমা খাত মোট প্রিমিয়ামের ৫৯.৮০% দখল করেছে, কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি উল্টো। ২০২৩ সালে, জীবন বীমা খাত প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ১২৩ বিলিয়ন টাকা ($1.1 বিলিয়ন), যেখানে অ-জীবন খাত সংগ্রহ করেছে মাত্র ৬০ বিলিয়ন টাকা। সেইসাথে, অ-জীবন খাতের দাবির নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র ৩৫.৫৪%।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, IDRA’র এই পদক্ষেপ উন্ডাররাইটিং মান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো দাবির নিষ্পত্তি উন্নয়নে সহায়ক হবে। এটি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধিতেও কার্যকর হবে।
নিচের টেবিলে ২০২৩ সালের বাংলাদেশের বীমা খাতের মূল পরিসংখ্যান দেখানো হলো:
| বিষয় | জীবন বীমা | অ-জীবন বীমা |
|---|---|---|
| প্রিমিয়াম সংগ্রহ | ১২৩ বিলিয়ন টাকা | ৬০ বিলিয়ন টাকা |
| বাজারের অংশ | ৬৭.২% | ৩২.৮% |
| দাবির নিষ্পত্তির হার | ৮১.৫% | ৩৫.৫৪% |
| এজেন্ট কমিশন অবস্থা | অনুমোদিত | বাতিল, জানুয়ারি ২০২৬ থেকে |
এই নিয়ন্ত্রক সংস্কার বাংলাদেশে অ-জীবন বীমা খাতকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও স্বচ্ছ বীমা ব্যবস্থার দিকে ধাবিত করবে, যা কোম্পানি ও পলিসিধারক উভয়ের জন্যই সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
