বাংলাদেশের বীমা খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী আইনি সংস্কারের লক্ষ্যে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিশেষ নীতিনির্ধারণী সভার ডাক দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)। এই সভায় বীমা খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়—‘বীমা আইন, ২০১০’-এর প্রস্তাবিত সংশোধন এবং ‘বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার কথা রয়েছে। রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সভার কর্মপরিকল্পনা ও বিষয়বস্তু
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বীমা ও পুঁজিবাজার অনুবিভাগ) মো. সাঈদ কুতুবের সভাপতিত্বে আজকের আলোচনা মূলত দুটি অধিবেশনে বিভক্ত। প্রথম অধিবেশনে প্রস্তাবিত রেজল্যুশন অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হবে, যা কোনো বীমা কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়লে গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০১০ সালের বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের মাধ্যমে সেটিকে আরও যুগোপযোগী করার প্রস্তাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
বৈঠকের সময়সূচি ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা:
| আলোচনার বিষয় | নির্ধারিত সময় | সভার মূল উদ্দেশ্য |
| বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ | সকাল ১১:০০ টা | সংকটাপন্ন বীমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। |
| বীমা আইন, ২০১০ (সংশোধনী) | দুপুর ০২:০০ টা | আইনগত সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং খাতের সুশাসন জোরদার করা। |
অংশীজনদের অংশগ্রহণ ও বিআইএ-র আবেদন
এই সংলাপে অংশ নিতে আইডিআরএ, জীবন ও সাধারণ বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি এবং বীমা মালিকদের সংগঠন বিআইএ-সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এই সভা দুটি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
বিআইএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬-এর কারণে সংগঠনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ বর্তমানে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন। বীমা খাতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিনির্ধারণী সভায় সভাপতির সশরীরে উপস্থিতি অপরিহার্য মনে করে সংগঠনটি নির্বাচনের পর সুবিধাজনক সময়ে সভাটি আয়োজনের আবেদন করেছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও গুরুত্ব
বীমা খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত রেজল্যুশন অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে বাংলাদেশে বীমা কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর জন্য এটি একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। তবে মালিকপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরকার কি মালিকপক্ষের অনুরোধে সভার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করবে, নাকি সংস্কারের গতি সচল রাখতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচনা চালিয়ে যাবে—তা এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
