থাইল্যান্ডের বিমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফিস অব ইন্স্যুরেন্স কমিশন’ (ওআইসি) তাদের তথ্য পরিকাঠামো বা ডাটা ইনফ্রাস্ট্রাকচারে আমূল পরিবর্তন এনেছে। বিশ্বখ্যাত ডাটা ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ‘নেটঅ্যাপ’ (NetApp)-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের ডাটাবেজ ব্যাকআপ নেওয়ার সময় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে যে কাজ সম্পন্ন করতে আগে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, তা এখন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে।
Table of Contents
ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পথে ওআইসি
থাইল্যান্ডের ওআইসি তাদের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কৌশলের অংশ হিসেবে এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ ‘ডাটা-ড্রিভেন’ বা তথ্যনির্ভর নিয়ন্ত্রক সংস্থায় পরিণত হওয়া। নতুন এই পরিকাঠামো কেবল কাজের গতিই বাড়ায়নি, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত তদারকি ব্যবস্থার পথও প্রশস্ত করেছে। এর মাধ্যমে বিমা বাজারের ওপর নজরদারি, ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং জালিয়াতি শনাক্তকরণের কাজগুলো এখন অনেক বেশি নির্ভুল ও দ্রুততার সাথে করা সম্ভব হচ্ছে।
পূর্ববর্তী সমস্যা ও বর্তমান সমাধান
আধুনিকায়নের আগে থাই বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। পুরনো আমলের স্টোরেজ সিস্টেমের কারণে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। ডাটা ব্যাকআপ প্রক্রিয়া ছিল জটিল এবং ক্রমবর্ধমান তথ্যের চাপ সামলানোর মতো সক্ষমতা আগের সিস্টেমে ছিল না। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৈনন্দিন কাজে দেরি হতো এবং কোনো কারণে সিস্টেম বিপর্যয় ঘটলে তথ্য পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগত, যা সামগ্রিক বিমা খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
নেটঅ্যাপ-এর ‘এন্টারপ্রাইজ স্টোরেজ’ এবং ‘ডাটা প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহারের ফলে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিশেষ করে নেটঅ্যাপ-এর ‘অনট্যাপ স্ন্যাপশট’ (ONTAP Snapshot) প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মূল কাজের কোনো ক্ষতি না করেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ব্যাকআপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে অর্জিত সুবিধাসমূহ:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | পূর্ববর্তী অবস্থা | বর্তমান অবস্থা (আপগ্রেডের পর) |
| ব্যাকআপ গ্রহণের সময় | কয়েক ঘণ্টা লাগত | মাত্র কয়েক মিনিট (৯০% দ্রুত) |
| তথ্য সুরক্ষা | ধীরগতি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ | উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা ও দ্রুত পুনরুদ্ধার |
| কাজের গতি | স্টোরেজ সীমাবদ্ধতায় ধীরগতি | নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ গতিসম্পন্ন |
| দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা | ম্যানুয়াল এবং জটিল প্রক্রিয়া | স্বয়ংক্রিয় ডিজাস্টার রিকভারি সুবিধা |
| ভবিষ্যৎ উপযোগিতা | স্কেলেবিলিটির অভাব ছিল | এআই এবং উন্নত অ্যানালিটিক্স সহায়ক |
বিমা খাতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব
নতুন এই আর্কিটেকচার উচ্চমাত্রার তথ্য প্রাপ্যতা (High Availability) নিশ্চিত করেছে। বিমা খাতের বিভিন্ন দাবি বা ক্লেইম সংক্রান্ত ডাটা বিশ্লেষণ করে বাজারের ঝুঁকির প্রবণতা বুঝতে এখন অনেক কম সময় লাগছে। ওআইসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা তাদের সঠিক সময়ে সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষভাবে সহায়তা করছে।
সাইবার স্থিতিস্থাপকতা বা সাইবার রেজিলিয়েন্স শক্তিশালী হওয়ার ফলে গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তাও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে থাইল্যান্ডের বিমা খাত এখন বৈশ্বিক মানদণ্ডে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং নিরাপদ হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল ও তথ্যনির্ভর তদারকি ব্যবস্থার এই মডেল অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে।
