সাধারণ বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

সাধারণ বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ, জীবন বীমা ব্যতিরেকে অন্যান্য প্রায় সব ধরনের বীমার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে বলেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তথা ব্যবস্থাকে সাধারণ বীমা নামে অভিহিত করা হয়। সম্পত্তি বীমা ( নৌ ও অগ্নিবীমা), দায় বীমা এবং অন্যান্য ধরনের বীমাসমূহ সাধারণ বীমার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যা কিছুটা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে বলে নিম্নে সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলোঃ

সাধারণ বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

সাধারণ বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(ক) সম্পত্তিবীমা ( Property Insurance):

এ ধরনের বীমায় প্রিমিয়াম বা সেলামীর প্রতিদানে বীমাকারী বীমাগ্রহীতার বীমাকৃত সম্পদ-সম্পত্তির উপর সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার প্রদান করে থাকে। নৌ ও অগ্নি বীমাই মূলতঃ সম্পত্তি বীমা নামে অভিহিত।

(i) নৌ-বীমা (Marine Insurance) :

ব্যবসায়িক পণ্যসামগ্রীর অনেকাংশই পরিবাহিত হয় নৌ-পথে। দেশীয় এবং বহির্দেশীয় নৌ-পথে থাকে অজস্র বিপদ-বিপর্যয়ের আশংকা। ঝর-ঝঞ্চা, তরঙ্গ, দস্যুতা, অগ্নি ও যুদ্ধ-বিগ্রহের মত অজস্র বিপদের হুমকি এবং ঝুঁকি মোকাবেলা করেই মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে হয় এবং পাড়ি দিতে হয় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। এসব বিপদ ও ঝুঁকির বিরুদ্ধে বীমাগ্রহীতা কর্তৃক সেলামী প্রদানের প্রতিদানে বীমাকারী সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার দিয়ে থাকেন নৌ-বীমায়। আর, তারই ফলে নৌ-পথে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়েছে ক্রমাগতভাবে ত্বরান্বিত ও সম্প্রসারিত।

সওদাগরী বা পণ্যবাহী জাহাজ বা নৌ-যান, জাহাজ বা যানস্থ পণ্য, পণ্যমাশূল বা ভাড়া ইত্যাদির যে কোন সম্ভাব্য ক্ষতি তথা ঝুঁকির বিরুদ্ধেই নৌ-বীমায় ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু কিছু ঝুঁকির বিরুদ্ধে বীমাপত্র প্রদান করা হতো। কিন্তু, আধুনিক কালে আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নৌ-বীমাই প্রথম আত্মপ্রকাশ করে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

(ii) অগ্নি-বীমা (Fire Insurance) :

আগুন মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার অন্যতম বাহন। আগুন আবিস্কারের সাথে সাথে মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রা শুরু হয় বলেও কথিত আছে। কিন্তু, সেই আগুনই আবার মানুষের অশেষ দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর কত যে ঘরবাড়ী, কলকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ-সম্পত্তি অগ্নিকাণ্ডের ফলে ধ্বংস হয়ে যায়; এমনকি, কখনও দাবানলে কোন এলাকা পুড়ে ছাড়-খাড় হয়ে যায় – তার ইয়ত্তা নেই।

তাই, মানুষ অগ্নিকাণ্ডের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে অব্যাহতি পেতে চেয়েছে প্রতিনিয়ত। তারই ফলশ্রুতিতে সৃষ্টি হয়েছে অগ্নি-বীমা। বীমাগ্রহীতা কর্তৃক বীমা সেলামী প্রদানের প্রতিদানে বীমাকারী অগ্নিক্ষতি পূরণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন অগ্নিবীমায়। বীমাকৃত বিপদ-বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হলেই কেবল বীমাকারী তার ক্ষতিপূরণ নির্দ্দিষ্ট সীমা (বীমা পত্রের মূল্য) পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। অগ্নি বীমা হলো অগ্নি ঝুঁকি ও ক্ষতির বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

 

(iii) বিবিধ বীমা (Miscellaneous Insurance) :

পণ্যসামগ্রী, কলকব্জা, আসবাবপত্র, যানবাহন ইত্যাকার সম্পদ-সম্পত্তি দুর্ঘটনার কারণে সে হতে বা চুরি হয়ে যেতে পারে। তাই, উপরোক্ত সম্পদ-সম্পত্তিগুলোর জন্যে আলাদা আলাদা বীমা চালু হয়েছে। যেমন : – মোটরযান বীমা, আসবাবপত্র বীমা, চৌর্য বীম’ ইত্যাদি। ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমাও বিবিধ বীমার মধ্যে ধরা হয়ে থাকে।

 

সাধারণ বীমা | বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

খ.দায় বীমা ( Liability Insurance) :

বীমাকারবারী চুক্তি মোতাবেক সম্পদ-সম্পত্তি অথবা ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বা মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ করে দিতে দায়বদ্ধ যে বীমা চুক্তিতে, তাকে দায়বীমা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এটিও সাধারণ বীমার আওতাভূক্ত। বিশ্বস্ততা বা আনুগত্য বীমা (Fidelity Insurance), মোট।খান বাদ (Automobile Insurance), কলকব্জা বীমা ( Machinery Insuranc) ইত্যাদি দায়বীমার অন্তর্ভুক্ত।

গ. অন্যান্য ধরনের বীমা ( Other forms of Insurance) :

উপরোক্ত বীমাসমূহ ছাড়া আরও কিছু কিছু বীমা রয়েছে যা সাধারণ বীমার আওতাভুক্ত। রপ্তানীধার বীমা ( Export Credit Insurance). রাষ্ট্রীয় কর্মচারী বীমা ( State Employees Insurance) ইত্যাদি এ জাতীয় বীমার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এ জাতীয় বীমায় নির্দিষ্ট কিছু কিছু ঘটনা সংঘটিত হলে নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ পরিশোধ করা হবে – বীমাকারী এই মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকেন। এ জাতীয় বীমা ইদানিং বেশ জনপ্রিয়তা ও ব্যাপকতা লাভ করছে।

Leave a Comment