বীমা ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি – নিয়ে আজকের আলোচনা। এই পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের ” বীমার মৌলিক ও সাধারণ আধেয়সমূহ ” বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ।
Table of Contents
বীমা ব্যবসায়ের প্রবৃদ্ধি

আমাদের দেশে আজ বীমার ক্ষেত্রে যতটুকু প্রবৃদ্ধি সাধিত হয়েছে, তা শুরু হয় মূলতঃ ১৯৪৭ সালের পরে। যদিও তার বেশ আগেই এ উপমহাদেশে বীমা ব্যবসায়ের গোড়াপত্তন হয়। ১৯৫৭ সাল নাগাদ প্রকৃতপক্ষে আমাদের এখানে দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিরঙ্কুশ উদ্যোগে কোন বীমা প্রতিষ্ঠান হয়নি। ১৯৫৮ সালেই প্রথম একটি বীমা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়।
তারপরও তার উন্নতি তেমন লক্ষ্যযোগ্য ছিলনা। তথাপি, ধীরে হলেও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত বেশ কিছু বীমা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। দেশী-বিদেশী মিলিয়ে তখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫টি বীমা প্রতিষ্ঠান বীমা ব্যবসায় পরিচালনা করত। উক্ত বিদেশী বীমা প্রতিষ্ঠানগুলি ছিল মূলতঃ ইংল্যাণ্ড, অষ্ট্ৰেলিয়া, ভারত ও সাবেক পশ্চিম পাকিস্তানের।
স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত দেশী-বিদেশী যেসব বীমা কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় পরিচালনা করত সেগুলি ছিলো ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং যুক্ত প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি ছিল তার প্রেক্ষিত। শুধুই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে কিছু বীমা প্রকল্প বা ব্যবস্থা ছিল তার ব্যতিক্রম। স্বাধীনতার পর বাস্তব কারণেই সরকার কতিপয় বিদেশী বীমা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বীমা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের আওতাভূক্ত করেন এবং দেশীয় সব বীমা প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীনে আনা হয়। মাত্র ৫টি কর্পোরেশন বা সংস্থার অধীনে সব বীমা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আনা হয়।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বীমা প্রতিষ্ঠান:
১. জাতীয় বীমা কর্পোরেশন,
২. তিস্তা বীমা কর্পোরেশন,
৩. কর্ণফুলী বীমা কর্পোরেশন
৪. রূপসা জীবন বীমা কর্পোরেশন ও
৫. সুরমা জীবন বীমা কর্পোরেশন।
যদিও দায় বহনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যান্য ৪টি সংস্থার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণই ছিল জাতীয় বীমা কর্পোরেশনের কাজ। পরবর্তীতে আবার সরকার কর্তৃক অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে এবং অন্যান্য সুবিধাদির জন্যে উক্ত ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দুটি কর্পোরেশনে পরিণত করা হয়। যথা ঃ — সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কর্পোরেশন। সাধারণ বীমার আওতায় বিভিন্ন বীমা প্রকম্প খ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে।
নৌ ও অগ্নি বীমার পাশাপাশি এখন শস্য বীমা, চৌর্য রীমা, দুঘটনা বীমা, রপ্তানী বীমা ইত্যাদি চালু করা হয়েছে। এই সাথে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাহীনে অন্যান্য অনেক সামাজিক ও কর্মচারী কল্যাণ সংক্রান্ত বীমা ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারী মালিকানাধীন দু’টি কর্পোরেশনের পাশাপাশি এ পর্যন্ত ব্যক্তিমালিকাধীনে ২১টি বীমা প্রতিষ্ঠান কারবার পরিচালনা করছে। তার মধ্যে ১৮টি সাধারণ বীমা ও ৩টি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান।
সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ হচ্ছে :
১.বাংলাদেশ জেনারেল ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ
২.পিপল্স ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৩.গ্রীণ ডেল্টা ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৪.ইউনাইটেড ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৫. বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৬.সিটি জেনারেল ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৭. পপুলার ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৮.প্রগতি জেনারেল ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
৯. কর্ণফুলী ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১০. জনতা ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১১.ইষ্টল্যাণ্ড ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১২.ফেডারেল ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১৩.রূপালী ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১৪.ইষ্টার্ণ ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১৫.পুরবী ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১৬. সেন্ট্রাল ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
১৭.ফীনিক্স ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ ও
১৮. রিলায়েন্স ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,

জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান তিনটি হচ্ছে –
১. ন্যাশনাল লাইফ ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ,
২. ডেল্টা লাইফ ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ ও
৩. সন্ধানী লাইফ ইন্সিওরেন্স কোং লিঃ।
এছাড়াও, অনেক উদ্যোকা তাদের আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তথা অনুমোদন ও কার্যারজের অপেক্ষায় রয়েছেন।
