জাপানের পি অ্যান্ড সি বীমা বাজার ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে

জাপানের প্রপার্টি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি (P&C) বীমা বাজার ২০২৫ সালের ৭০.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ৮০.০৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে বাজারটির যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (CAGR) ধরা হয়েছে ২.২২ শতাংশ। এই পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান Mordor Intelligence-এর বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের বীমা বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নোটো পেনিনসুলা ভূমিকম্প এবং বিভিন্ন তীব্র ঝড়ের ঘটনার পর বীমা খাতে ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রিমিয়াম নির্ধারণ এবং কাভারেজ নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব ঘটনার পর বীমা কোম্পানিগুলো তাদের মূল্য নির্ধারণ কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জাপানের Financial Services Agency (Japan) ২০২৬ সালের মার্চে নতুন ইকোনমিক ভ্যালু-ভিত্তিক সলভেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে। এই নতুন কাঠামোর ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য মূলধন পর্যাপ্ততা, ঝুঁকি হিসাব এবং তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে। এর মাধ্যমে বীমা খাতে নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বাজারের বিভিন্ন খাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে অটোমোবাইল বীমা এখনো সবচেয়ে বড় সেগমেন্ট হিসেবে অবস্থান করছে। এটি মোট বাজারের ৫০.৩৮ শতাংশ দখল করে আছে, যা জাপানের বীমা শিল্পে গাড়ি বীমার প্রাধান্যকে নির্দেশ করে। যানবাহন বীমা খাত দীর্ঘদিন ধরে বাজারের প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, সাইবার বীমা খাতকে প্রতিবেদনে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সেগমেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০৩১ সাল পর্যন্ত এই খাতে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৭.৩৮ শতাংশ। ডিজিটাল সেবার বিস্তার, অনলাইন লেনদেন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রসারের ফলে সাইবার ঝুঁকি বাড়ছে, যা এই বীমা খাতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি করছে।

প্রতিবেদনে টেলিম্যাটিকস-ভিত্তিক মোটর বীমা প্রোগ্রামের সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে চালকের আচরণ, গাড়ির ব্যবহার এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলো আরও নির্ভুলভাবে প্রিমিয়াম নির্ধারণ এবং দাবি ব্যবস্থাপনা করতে পারছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সম্পত্তি বীমা খাতে ক্ষতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের নোটো পেনিনসুলা ভূমিকম্পে ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯৮টি পলিসির বিপরীতে ০.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি হয়। একই বছরে হিয়োগো অঞ্চলের একটি বড় শিলাবৃষ্টিতে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২টি পলিসিতে ০.৮৭ বিলিয়ন ডলার দাবি তৈরি হয়। এছাড়া টাইফুন শানশানের কারণে আরও ০.৩৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি যুক্ত হয়।

এই ধারাবাহিক দুর্যোগজনিত ক্ষতির পর বীমা কোম্পানিগুলো আন্ডাররাইটিং নীতিমালা আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে পুরোনো ভবন এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পত্তির ক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নির্মাণকে উৎসাহিত করতে প্রিমিয়ামে ছাড়ের মতো ঝুঁকি প্রশমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

রিইনশিওরেন্স কাঠামো অনুযায়ী প্রতি ঘটনার জন্য সর্বোচ্চ দায়সীমা ৭৬.৮২ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সীমার বাইরে ক্ষতির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ ক্ষতিপূরণ সরকার বহন করে। এটি বড় ধরনের দুর্যোগের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

এছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাপানে প্যারামেট্রিক ভূমিকম্প বীমা পণ্য চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পণ্যটি নির্দিষ্ট ভূমিকম্পের তীব্রতা সূচকের ভিত্তিতে কার্যকর হবে এবং এতে পূর্বনির্ধারিত পেমেন্ট কাঠামো থাকবে, যেখানে কোনো ডিডাকটিবল (deductible) প্রযোজ্য হবে না।

Leave a Comment