জীবন বীমা চুক্তির অপরিহার্য উপাদান বা শর্তসমূহ – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বলা বাহুল্য যে – কোন কিছু গঠন করতে হলেও দরকার কিছু উপাদান বা উপকরণ। কোন চুক্তি গঠন করতে হলেও যে, তেমনি কতকগুলো উপাদান একাস্ত প্রয়োজন, তা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখেনা। জীবন বীমা চুক্তি গঠনের বেলায়ও তা সমভাবে সত্য। যেসব উপাদান না হলে জীবন বীমা চুক্তি গঠন ও সম্পাদন সম্ভব নয়, সে সব উপাদানকেই বলা হয় জীবন বীমা (চুক্তি)-র অপরিহার্য উপাদান বা শর্ত।
জীবন বীমা চুক্তির অপরিহার্য উপাদান বা শর্তসমূহ

তবে, বৈশিষ্ট্যসমূহ আর অপরিহার্য উপাদানসমূহ ঠিক এক কথা বা বিষয় নয়। বৈশিষ্ট্যসমূহ উপাদানসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে; কিন্তু, সকল উপাদানকে বৈশিষ্ট্য বলা সঙ্গত নয়। কেননা, কিছু কিছু উপাদান আছে যা সকল চুক্তিতে বিদ্যমান থাকে। যেমন : – দুটি পক্ষ, প্রস্তাব দান, স্বীকৃতি দান ইত্যাদি। কিন্তু, মনোনয়ন (Nomination) বিষয়টি সব চুক্তিতে দরকার নেই এবং থাকেও না। এটি জীবন বীমা চুক্তিরই বিশিষ্ট উপাদান বা বিশিষ্টতা অথবা বৈশিষ্ট্য। বৈশিষ্ট্য বা স্বাতন্ত্র্য হচ্ছে তাই, যা অন্যান্য ক্ষেত্রে সাধারণতঃ থাকেনা। এ দৃষ্টিকোন থেকেই জীবন বীমা চুক্তির বৈশিষ্ট্য আলাদা করে অব্যবহিত আগেই প্রদান করা হয়েছে।
সে যাই হোক, জীবন বীমা চুক্তিও যেহেতু একটি চুক্তি, সে কারণে তাতে সাধারণ চুক্তি গঠনে যেসব উপাদান দরকার, সেসব উপাদান স্বাভাবিক কারণেই এখানেও সমভাবে দরকার। যেমনঃ – (ক) কমপক্ষে দুটি পক্ষ, (খ) এক পক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব দান, (গ) অপর পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃতি দান, (ঘ) পারস্পরিক সম্মতি বা ঐকমত্য, (ঙ) পারস্পরিক দায়-দায়িত্ব, (চ) কার্য ও ঘটনা সংঘটনের নিশ্চয়তা, (ছ) চুক্তি পালনের সম্ভাব্যতা ও যৌক্তিকতা, (জ) আইনগত আনুষ্ঠানিকতা, (ঝ) প্রতিদান, (ঞ) পক্ষসমূহের যোগ্যতা, (ট) স্বেচ্ছাসায় এবং (ঠ) উদ্দেশ্য ও প্রতিদানের বৈধতা।

এসব উপাদান যেহেতু সমভাবে সব ধরনের চুক্তিতেই থাকে এবং সর্বাধিক জ্ঞাত (তদুপরি, বীমাচুক্তির অপরিহার্য উপাদান শিরোনামে তা প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে), এগুলো সম্পর্কে এখানে কোন বর্ণনা প্রদান করা হলো না। এখানে শুধু জীবন বীমা চুক্তিতে যে সব উপাদান বা শর্ত বিশেষভাবে অপরিহার্য সেগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা প্রদান করা হলো।
