জীবন বীমার শ্রেণী বিন্যাস – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। জীবন বীমার বিশাল মহীরুহটির যেদিন প্রথম উদ্ভব ঘটেছিল সেদিন হয়ত দুএকটি পাতা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল – দেখে ততটা ভাল করে বোঝা যায়নি তার প্রকৃত রূপটি। কিন্তু, যুগ বিবর্তনের ধারায় ক্রমাগতভাবে তা একটি সুনির্দিষ্ট ধারা ও অবয়বে প্রকাশিত হতে লাগল। কেননা, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যেন অন্যদের থেকে আলাদা তার চিন্তা-চেতনা, স্বভাব-প্রকৃতি, আচার-আচরণ ও প্রয়োজনের বিভিন্নতায়।
তাইতো, মানুষের এ রকমারি চিন্তা-চেতনা, প্রকৃতি, প্রয়োজন ইত্যাদির ভিন্নতার দিকে লক্ষ্য রেখেই বীমাকারীগণ ক্রমাগতভাবে নানা ধরনের বীমাপত্রের প্রচলন করেছেন। কেননা, ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন। একদিন যে বীমা শুরু হয়েছিল সীমিত ধারা ও পরিসরে, আজ তা যুগের প্রয়োজনে অজস্র ধারা ও ব্যাপক পরিসরে প্রবাহ বিস্তার করেছে।
জীবন বীমার শ্রেণী বিন্যাস

বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে যেসব জীবন-বীমাপত্রের উদ্ভব ও প্রচলন হয়েছে অদ্যাবধি, সেগুলো বিভিন্ন গ্রন্থকার, লেখক ও বিশেষজ্ঞগণ নানাভাবে বিন্যস্ত করার প্রয়াস পেয়েছেন। এগুলোকে সাধারণভাবে বর্ণনা ও উপস্থাপন করা যেতে পারে। তবে, এম.এন. মিশ্র যে শ্রেণী বিন্যাসটি দেিেখয়েছেন সেটিকেই মূলতঃ এখানে দেখানো হলো।
তাঁর মতে বিভিন্ন জীবন-বীমাপত্রকে প্রথমতঃ বিশেষ কয়েকটি ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা যায়। যথা:-
→ বীমাপত্রের মেয়াদ অনুসারে,
→ বীমা কিস্তি বা সেলামী পরিশোধের ভিত্তিতে,
→ মুনাফায় অংশগ্রহণের প্রেক্ষিতে, বীমাপত্রের সাথে যুক্ত বীমাকৃতের সংখ্যানুযায়ী এবং
→ বীমাদাবী পরিশোধের পদ্ধতি অনুযায়ী।

উল্লেখ্য যে, এই শ্রেণী-বিন্যাসে হয়ত একটি বিশেষ বীমাপত্র উপরের একাধিক প্রধান প্রধান শ্রেণীর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাতে তেমন কোন অসুবিধা নেই এই কারণে যে—এতে করে বরং কোন একটি বিশেষ বীমাপত্রে একাধিক বিশেষ সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়েছে। যাই হোক, নিম্নে উক্ত প্রধান প্রধান প্রকারভেদের আওতায় বীমাপত্রসমূহের পর্যায়ক্রমিক বর্ণনা প্রদান করা হলো।
