বীমাপত্রের মেয়াদ ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস

বীমাপত্রের মেয়াদ ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। মেয়াদের উপর ভিত্তি করে জীবন বীমাপত্রের কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। যথাঃ-

(১) আজীবন বীমাপত্র

(২) সাময়িক বীমাপত্র

(৩) মেয়াদী বীমাপত্র

(৪) উত্তরজীবী বীমাপত্র ইত্যাদি।

এসব শ্রেণীর আবার কিছু কিছু উপ-শ্রেণী বা বিভাগ রয়েছে যা একটি ছকের সাহায্যে দেখানো হলো (ছকটি পর পৃষ্ঠায় দেখানো হলো ) :

বীমাপত্রের মেয়াদ ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস

 

বীমাপত্রের মেয়াদ ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস | জীবন বীমা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

মেয়াদ-ভিত্তিক বীমাপত্রসমূহ সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলো :

১। আজীবন বীমাপত্র (Whole Life Policles) :

আজীবন বীমাপত্র বীমাকৃত ব্যক্তির জীবৎকাল পর্যন্ত চালু থাকে। অর্থাৎ, বীমাকৃত ব্যক্তি বেঁচে থাকা পর্যন্ত এ বীমাপত্রের দাবী পরিশোধ করা হয় না; বরং, বীমাকৃত ব্যক্তি মারা গেলেই শুধু তার মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা তার পোষ্যদের বীমাদাবীর টাকা আনুষ্ঠানিকতা পালন সাপেক্ষে পরিশোধ করা হয়।

বীমাকৃত ব্যক্তি এ ধরনের বীমাপত্রের কোন সুবিধা পান না। এ ধরনের বীমাপত্র পোষ্যদের জন্যেই করা হয়। তবে, এর কিস্তি পরিশোধের পদ্ধতি অনুযায়ী একে কয়েকটি উপ-শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায় যা প্রকৃতপক্ষে অন্যত্রও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যাই হোক, উপ-শ্রেণীগুলো সম্পর্কে নিম্নে বর্ণিত হলো :

 

(i) একক কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বীমাপত্র (Single Premium Whole Life Polley):

যে আজীবন বীমাপত্রে একটি মাত্র কিত্তিই দেয়া হয়,

বিশুদ্ধ মেয়াদী বীমাপত্র

তাকে একক কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বীমাপত্র বলে। যদিও এ ধরনের বীমাপত্র আজকাল তেমন দেখা যায় না। কেননা, একটিমাত্র কিস্তিতে এর অর্থ অনেকের পক্ষেই প্রদান করা সম্ভব নাও হতে পারে।

 

(11) অবিরাম কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বীমাপত্র (Continuous Premium Payment Whole Life Policy):

এ ধরনের আজীবন বীমাপত্রে বীমাকৃত ব্যক্তি যতদিন বেঁচে থাকে, ততদিনই বীমাকিত্তি পরিশোষ করে যেতে হয়। এটি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত অসুবিধাজনক। কেননা, মানুষের শেষ জীবনে বা বৃদ্ধ বয়সে এমনিতেই থাকেনা রোজগার, তার উপর আবার বীমা কিস্তি প্রদান করা বাস্তবিকভাবেই কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। একারণেই এ ধরনের বীমাপত্র ক্রমাগত জনপ্রিয়তা হারিয়ে এখন বলতে গেলে অপ্রচলিত হয়ে পড়েছে।

 

(iii) সীমিত কিস্তি সম্পন্ন আজীবন বীমাপত্র (Limited Payment Whole Life Policy):

এ জাতীয় আজীবন বীমাপত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বীমা কিস্তি প্রদান করতে হয়। ঐ সময়ের পরে বীমাকৃত ব্যক্তি বেঁচে থাকলেও আর কিস্তি দিতে হয় না। ফলে, বীমাকৃত ব্যক্তি বা বীমাগ্রহীতা অনেকটা স্বস্তি ও উপশম পান। এ কারণেই, এ বীমাপত্র ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

 

বীমাপত্রের মেয়াদ ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস | জীবন বীমা | বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

 

(iv) পরিবর্তনীয় বা রূপান্তরযোগ্য আজীবন বীমাপত্ৰ (Convertible Whole Life Policy):

এ জাতীয় আজীবন বীমাপত্রে বীমাগ্রহীতাকে পরিবর্তনের একটি সুযোগ প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, বীমাগ্রহীতা তার ইচ্ছায় আজীবন বীমাপত্রটিকে ৫ বছর শেষে মেয়াদী বীমায় পরিবর্তন করতে পারেন। এতে নতুনভাবে কোন ডাক্তারী পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। এই সুযোগ গ্রহণ না করলে, স্বাভাবিকভাবেই তা আজীবন বীমাপত্র হিসেবে থেকে যায় এবং বীমাগ্রহীতার ৭০ বছর বয়সে বীমাকিস্তি পরিশোধ বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবর্তন করলে আজীবন বীমাপত্র হিসেবে প্রাপ্য বোনাস বা অন্যবিধ সুবিধা পাওয়া যায় না বটে, কিন্তু, মেয়াদী বীমা হিসেবে যা প্রাপ্য তা যথারীতি পাওয়া যায়। এ জাতীয় বীমাপত্র সাধারণতঃ কর্মজীবন শুরু করেছে বা করতে প্রয়াসী এমন যুবকদের জন্যে প্রযোজ্য করেই চালু করা হয়েছে। কেননা, তারা মনে করলে প্রয়োজনমত কিস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে এতে মেয়াদী বীমার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

Leave a Comment