মুনাফায় অংশগ্রহণ মোতাবেক শ্রেণীবিন্যাস – পাঠটি “বীমা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা” বিষয়ের “জীবন বীমা” অধ্যায়ের একটি পাঠ। বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ কিছু কিছু বীমাপত্রে বীমাকারীকে মুনাফার অংশ প্রদান করে থাকে, আর, কিছু কিছু বীমাপত্রে মুনাফার অংশ দেয়া হয়না। সুতরাং, স্বাভাবিকভাবেই এ দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দুধরনের বীমাপত্র প্রচলিত রয়েছে। যথা : –
(১) মুনাফাযুক্ত অথবা মুনাফায় অংশ গ্রহণকারী বীমাপত্র ( With Profit o Participating Life Policy)
(২) মুনাফাবিহীন বা মুনাফায় অ-অংশগ্রহণকারী বীমাপত্র ( Without Profit or Non-porfit or Non- participating Life Policy) :
নিম্নে এ দ্বিবিধ বীমাপত্র সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রদান করা হলো : –
মুনাফায় অংশগ্রহণ মোতাবেক শ্রেণীবিন্যাস

১। মুনাফাযুক্ত বা মুনাফায় অংশগ্রহণকারী বীমাপত্র (With Profit or Participating Policy):
যে বীমাপত্রের বীমাগ্রহীতাকে বীমাকারী প্রতিষ্ঠান থেকে মুনাফার অংশ প্রদান করা হয়, তাকে মুনাফাযুক্ত বীমাপত্র বলা হয়। তবে, বীমাগ্রহীতা ক্ষতির কোন অংশ বহন করেন না। স্বাভাবিকভাবেই বীমাগ্রহীতাকে বীমা প্রতিষ্ঠানের মালিক বা বীমাগ্রহীতার সহ-মালিক বা স্বত্বাধিকারী বলা যায় না।
উল্লেখ্য যে, বীমা প্রতিষ্ঠানে মুনাফা হলেই শুধু বীমাগ্রহীতা মুনাফার অংশ তথা বোনাস পেতে পারেন। তাই, মুনাফাযুক্ত বীমাপত্র হলেই তাতে প্রতি বছর মুনাফার অংশ বা বোনাস প্রদান করা হয় না। অর্থাৎ, যে বছর বীমা প্রতিষ্ঠানে মুনাফা হয় – সে বছরই বীমাগ্রহীতা বীমাপত্রে মুনাফা বা বোনাস পান এবং যে বছর ক্ষতি হয়, সে বছর মুনাফার অংশ বা বোনাস দেয়া হয় না। মুনাফাযুক্ত বীমাপত্রে যেহেতু, মুনাফার অংশ প্রদেয় – এ বীমাপত্রের সেলামী বা কিস্তির পরিমাণ মুনাফাবিহীন বীমাপত্রের চেয়ে বেশী।

২। মুনাফাবিহীণ বীমাপত্র (Without porfit or Non-participating Policy) :
এ শ্রেণীর বীমাপত্রে কোন মুনাফার অংশ প্রদান করা হয় না। বীমাকৃত ব্যক্তি বা বীমাগ্রহীতা এক্ষেত্রে শুধুই বীমাকৃত মূল্য বা অর্থ পেয়ে থাকেন, কিন্তু, কোন মুনাফার অংশ বা বোনাস পান না। তাই, স্বাভাবিক কারণেই মুনাফাযুক্ত বীমাপত্রের চেয়ে মুনাফাবিহীন বীমাপত্রের বীমা সেলামী বা কিস্তির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম হয়ে থাকে।
